কে হচ্ছেন জো বাইডেনের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী?

0
70

কে হচ্ছেন জো বাইডেনের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী?

মার্চ মাসে চূড়ান্ত ডেমোক্র্যাটিক প্রাথমিক বিতর্ক চলাকালীন জো বাইডেন অঙ্গীকার করেছিলেন যে তিনি যদি দলের প্রেসিডেন্ট মনোনয়নে জয়ী হন তবে তিনি একজন মহিলাকে তার চলমান সাথী রানিংমেট বা ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে বেছে নেবেন একজন নারীকে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে ততই এই আলোচনা জোরালো হচ্ছে। এখন তার মনোনয়ন নিশ্চিত। কে হচ্ছেন জো বাইডেনের সহযাত্রী?কাকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে বাছাই করবেন সেই আলোচনা জোরালো হয়েছে।ফলে এখন আলোচনার মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে কে হতে পারেন সেই রানিংমেট। ইউএসটুডে/সাফোক পরিচালিত এক জরিপে শ্বেতাঙ্গ আমেরিকানের ৭৫% বলেছেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে শ্বেতাঙ্গ নারীর স্থান পাওয়া উচিত। অপর দিকে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৬০% বলেছেন, কৃষ্ণাঙ্গ নারী হলে বাইডেনের বিজয় ত্বরান্বিত হবে। ৮১% বলেছেন, হিসপ্যানিক নারীর কথা। জরিপে অংশগ্রহণকারী ডেমোক্র্যাটদের প্রতি ১০ জনের ৭ জন মনে করেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে একজন কৃষ্ণাঙ্গের প্রয়োজন।

বাইডেনের চারপাশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী একগুচ্ছ নারীর নাম। এর মধ্য থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে কাকে বেছে নেবেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টি থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী জো বাইডেন?তিনি যদি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন তাহলে এটা হবে তার দলের জন্য ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে একজন নারীকে মনোনয়ন দেয়ার তৃতীয় ঘটনা।

এর চার বছর আগে প্রেসিডেন্ট পদে প্রথম নারী হিসেবে তার দল থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন সাবেক ফার্স্ট লেডি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। আগামী আগস্টের শুরুর দিকে এবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর নাম ঘোষণার কথা জো বাইডেনের।

বাইডেন তাঁর রানিং মেট ভিন্ন লিঙ্গের হতে পারে শুধু এমনটি বলেননি, ভিন্ন রেসের কথাও বলেছেন। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট চাইছেন যে, কালোদের মধ্যে কেউ থাক তার পাশে।এমন কেউ হবেন যাকে বাইডেন বিশ্বাস করতে পারেন। এতে তাঁর পক্ষে কৃষ্ণাঙ্গদের ভোট আদায় সহজ হবে। তদুপরি একটি উদার দল হিসেবে কেউ বলতে পারবে না, ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে শ্বেতাঙ্গরাই শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখন চারদিকে জল্পনা–কল্পনা শুরু হয়ে গেছে—কে হতে পারেন ?

ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে সামনের সারিতে সম্ভাব্য নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন কমলা হারিস।আমেরিকার নির্বাচনে যে ছয়জন নারী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি তাদের একজন। তবে বহু আগেই নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন কমলা। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর। ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল এবং সান ফ্রান্সিসকোর ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কমলা হ্যারিস ইতিমধ্যে বাইডেনের পক্ষে বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। গত জানুয়ারিতে কমলা হ্যারিসের প্রশংসায় বাইডেন লেছিলেন,‘প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা তাঁর আছে।’ অবশ্য একটা ব্যাপার হলো, কমলা হ্যারিস না থাকলেও ক্যালিফোর্নিয়ায় জিততে বাইডেনের খুব বেশি বেগ পেতে হবে না। কারণ এখানে বরাবরই ডেমোক্র্যাটরা জেতে। তার জন্মপরিচয় এবং কাজের অভিজ্ঞতা বেশ বিচিত্র। মা ভারতের। পিতা জ্যামাইকার।

এর পরেই রয়েছেন জর্জিয়া স্টেটের নির্বাচনে লে. গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী স্ট্যাচি এব্রামস এবং ম্যাসেচুসেটস থেকে ইউএস সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন। এবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলের মনোনয়ন লাভের ফ্রন্টরানার ছিলেন শুরুর দিকে। ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত বিভিন্ন জনমত জরিপে তিনি ছিলেন সবাইকে ছাড়িয়ে শীর্ষে। প্রথম দিকে প্রাইমারি নির্বাচন এবং জনতার সমর্থন তাকে আশাব্যঞ্জক একটি অবস্থায় নিয়ে গিয়েছিল। এরপরই তার সমর্থন কমতে থাকে। সমর্থন যেতে থাকে সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের পক্ষে। উঠে আসতে থাকেন পিটি বুটিগিগ। অনেক উদারপন্থি আশা করতে থাকেন যে, তিনি যেন স্যান্ডার্সকে অনুমোদন দেন। এক পর্যায়ে মার্চের শুরুতে তিনি নির্বাচন থেকে সরে যান। এখন তার মতো একজন ঝানু রাজনীতিককে জো বাইডেনের রানিংমেট হিসেবে দেখতে চাইতে পারেন ডেমোক্রেটরা। সর্বশেষ নাম প্রত্যাহার করেন ম্যাসাচুসেটসের সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন।

আরও যে কয়জন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন, তারা হলেন-মিনাসোটার সিনেটর অ্যামি ক্লোবুচার, নিউইয়র্কের সিনেটর কারস্টেন গিলব্র্যান্ড ও লেখক ম্যারিয়ন উইলিয়ামসন। মিনোসোটার সিনেটর ভ্যান ক্লোবুচারের। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প স্যালি ইয়েটস নামে যে মহিলাকে ফায়ার করেছিলেন, উনিও হতে পারেন সম্ভাব্য ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। জনমত জরিপে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে আরও এসেছে মিশিগান স্টেটের গভর্নর গ্রিচেন হুইটমার, ইলিনয় সিনেটর ট্যামি ডাকোয়ার্থ এবং আটলান্টা মেয়র কিশা ল্যান্স বটমসের নাম।

উল্লেখ্য, নারী ক্ষমতায়নের যে অভিযাত্রা দেশে দেশে চলছে, সে ক্ষেত্রে অনেকটাই পেছনে যুক্তরাষ্ট্র। জানা গেছে, জুলাইয়ের মধ্যেই রানিংমেটের নাম ঘোষণা করবেন জো বাইডেন। স্মরণ করা যেতে পারে, যুক্তরাষ্ট্রের ২৪৪ বছরের ইতিহাসে প্রধান রাজনৈতিক দল থেকে মাত্র দুজন মহিলা ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে লড়েছেন। কেউই জয়ী হতে পারেননি। এরা হলেন- ডেমোক্র্যাট জেরাল্ডিন ফেরারো-১৯৮৪ এবং রিপাবলিকান সারাহ পলিন-২০০৮।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here