শেয়ারবাজারে কি এখন বিনিয়োগের সময় ?

0
480

করোনার প্রাদুর্ভাবে গোটা বিশ্বের শেয়ারবাজারে চলছে আতঙ্ক ৷ দেশের শেয়ারবাজার বর্তমানে নাজুক অবস্থার মধ্যে রয়েছে৷ তবে এটি নতুন বিনিয়োগের সুযোগ বলেও মনে করছেন কেউ কেউ ৷

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের এসএন্ডপি ফাইভ হান্ড্রেড পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারের মূলধন হারিয়েছে৷ সূচক কমেছে সাত ভাগের বেশি৷ প্রায় একই পরিস্থিতি ছিল ইউরোপ, সাধারণত বিশ্ব পরিস্থিতি বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে দ্রুত প্রভাব ফেলে না৷ কিন্তু সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জেও বড় ধরনের পতন হয়েছে৷  প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৭৯ পয়েন্ট বা সাড়ে ছয় ভাগ কমে গেছে, যাকে ‘সুনামি’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন কেউ কেউ ৷ মঙ্গলবার বাজার ১৪৮ পয়েন্ট বাড়লেও  ২০১৩ সালে নতুন সূচক প্রবর্তনের পর ডিএসইতে এতটা পতন হয়নি এর আগে ৷

বাংলাদেশের শেয়ারবাজার গত এক বছর ধরেই খারাপ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ৷ এই সময়ের মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসই এক্স ১৫৫৪ পয়েন্ট কমেছে ৷ প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা বাজার মূলধন হারিয়েছে ৷ অনেকগুলি কারণের মধ্যে অন্যতম কারণগুলি হলো: দেশের অর্থনীতির পূর্বাভাস শেয়ারবাজারের উপর পড়ে । যেমন, ঋণের সুদহার নয়ভাগ কার্যকর করা ৷ কারন ব্যাংকগুলোর মুনাফা এমনিতেই কমে যাচ্ছে  এর ফলে আরো কমে যেতে পারে ৷ শেয়ার বাজারে ব্যাংক খাতের ৪০ শতাংশ ৷ টেলিকম প্রতিষ্ঠানের সাথে গ্রামীণফোনের সঙ্গে সরকারের টানাপোড়েনও বাজারে প্রভাব ফেলেছে৷

এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোও নিম্নমূখি ৷ করোনার পাশাপাশি জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাসও দরপতনে বড় ভূমিকা রেখেছে ৷ ২০০৮ সালে বৈশ্বিক মন্দা পরিস্থিতির পর এতটা খারাপ সময় আর আসেনি৷বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং করোনা ভাইরাসের খবর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আস্থাহীনতা তৈরি করছে৷ যা দেশে আমদানি এবং রপ্তানি বাধাগ্রস্থ হতে পারে৷

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ২০১৮ সালে ১৪ ভাগ, ২০১৯ সালে প্রায় ১৭ ভাগ আর চলতি বছরের এখন পর্যন্ত ৬.৬ ভাগ কমেছে ৷ অন্যদিকে গত বছর পাক-ভারতে বাজার  ছিল তেজিভাব, এখন যা পড়তির দিকে৷

তবে অনেকে মনে করেন  গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের বাজার একটা বড় ধরনের সংশোধন হয়ে গেছে৷ কারন দেশের বাজার এমনিতেই ‘আন্ডারভ্যালুড’ ৷ করোনার প্রভাবে এখন যতটা না হওয়ার কথা তার চেয়েও বেশি আন্ডারভ্যালুড ৷

তবে শেয়ার বাজার পরিস্থিতি বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে বলে অনেকেই মনে করেন ৷ তাঁদের মতে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করার জন্য এটাই সঠিক সময়৷ কারণ কিছু কিছু স্টকে করোনা এবং সামষ্টিক অর্থনীতির যে বিষয়গুলো রয়েছে সেগুলো ইতোমধ্যেই প্রতিফলিত হয়ে দর তার চেয়েও নিচে নেমে গেছে৷ ঐ স্টকগুলো যদি কেউ বাছাই করে বিনিয়োগ করে তাদের জন্য বাজারে এখন বিনিয়োগের ভাল সুযোগ,

করোনার কারণে বস্ত্র খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে ৷ কিন্তু শেয়ার বাজারে তাদের প্রাধান্য বেশি না ৷ ফার্মাসিউটিক্যালস, ম্যানুফ্যাকচারিং ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খাতগুলো সামনের দিনে ভাল করতে পারে ৷ এমনকি কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠানও সম্ভাবনাময় ৷