করোনা নজরে রাখার দেশে দেশে করোনা ট্র্যাকিং অ্যাপ

0
258

করোনার মহামারীর কারণে মৃতের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তবু মানুষকে ঘরে রাখা যাচ্ছে না। ইউরোপ থেকে এশিয়া সব জায়গায় একই অবস্থা। এমন পরিস্থিতিতে নভেল করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) প্রতিরোধ করতে বেশ কয়েকটি দেশ ‘ফোন ট্র্যাকিং’ অ্যাপ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।গত কয়েক দশকে প্রযুক্তি কোনো সময় এত শক্তিশালী ছিল না। কখনো প্রযুক্তির এত ব্যবহারও হয়নি আর প্রযুক্তি এত উন্নতও ছিল না । এরই মধ্যে করোনাভাইরাস নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভিন্ন ওয়েব ও মোবাইল অ্যাপ। ট্র্যাকিং অ্যাপ সঠিক ভাবে ব্যবহার করতে স্থিতিশীল ওয়াইফাই ও ব্লুটুথ কানেকশনের প্রয়োজন হবে। অ্যাপল ও গুগল যৌথভাবে একটি সফটওয়্য়ার তৈরি করছে তাতে কেউ করোনা আক্রান্ত সংস্পর্শে এসেছে কিনা তা জানা যাবে ৷ মে মাসে এটি পাওয়া যেতে পারে৷ বিভিন্ন দেশ এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে৷

চীন নাগরিকদের চলাফেরার তথ্য সংগ্রহ করছে ৷ ‘আলিপে’ ও ‘উইচ্যাট’ অ্যাপ ব্য়বহারকারীরা ব্যক্তিগত তথ্য, ভ্রমণের ইতিহাস, অসুস্থতার লক্ষণ ইত্যাদি তথ্য দেয়ার মাধ্যমে একটি কিউআর কোড পেয়ে থাকেন৷ বাসে, ট্রেনে, অফিসে, এমনকি নিজের বাড়িতে ঢুকতে এই কোড স্ক্যান করতে হয়৷ এভাবে হালনাগাদ তথ্য পেয়ে থাকে সরকার৷ কোডের রং সবুজ হলে চলাফেরায় বাধা নেই, হলুদ হলে সাতদিন আর লাল হলে ১৪ দিনের কোয়ারান্টিনে যেতে হয় নাগরিকদের৷

দক্ষিণ কোরিয়া ‘কোভিড-১৯ স্মার্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’-এর মাধ্যমে করোনা রোগী ও যারা কোয়ারান্টিনে আছেন তাদের চলাফেরা পর্যবেক্ষণ করে৷ এছাড়া যারা হোম-কোয়ারান্টিন মানছে না ভবিষ্যতে তাদের হাতে ইলেকট্রনিক ব্যান্ড পরানোর চিন্তা করছে দক্ষিণ কোরিয়া ৷ কেউ এটি না পরলে তাকে আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হবে এবং তার খরচ ঐ ব্যক্তিকেই দিতে হবে৷

অস্ট্রেলিয়া সরকার করোনার বিস্তার ঠেকাতে ‘কোভিডসেফ’ অ্যাপ চালু করেছে ৷ এর মাধ্যমে একজন অ্যাপ ব্যবহারকারী আরেকজন ব্যবহারকারীর দেড় মিটার দূরত্বের মধ্যে আসার তথ্য সংগ্রহ করবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা৷ ব্লুটুথ ওয়্যারলেস সিগন্যালের মাধ্যমে এই তথ্য জোগাড় করা হয়৷ একজন ব্যবহারকারী করোনা আক্রান্ত কারো সঙ্গে ১৫ মিনিট বা তার বেশি সময় ধরে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে এসে থাকলে, সেই তথ্য বার্তা দিয়ে ঐ ব্যক্তিকে জানিয়ে দেয়া হয়৷

ভারত সরকার করোনা রোগী ও তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের গতিবিধি জানতে ‘আরোগ্যসেতু’ নামে একটি অ্যাপ চালু করেছে ৷ প্রায় সাড়ে সাত কোটি মানুষ এটি ডাউনলোড করেছেন বলে সরকার জানিয়েছে৷ এগারোটি ভাষায় অ্যাপটি চালু হয়েছে৷ এই অ্যাপে করোনা নিয়ে সচেতনতা ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সহজে যোগাযোগের উপায়ও বলা আছে৷ এই অ্যাপ্লিকেশনটি ভারত সরকার, বিশেষত স্বাস্থ্য দফতরের কাজকে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে জাতীয় তথ্য কেন্দ্র এই অ্যাপ তৈরি করেছে। ব্যবহারকারীদের জীবনের ঝুঁকি, সেরা অনুশীলন এবং কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত তথ্য প্রদান করবে।যদিও এখনও পরীক্ষা-নিরীক্ষার অধীনে রয়েছে এই অ্যাপ। ইতিমধ্যে অ্যাপেল ও গুগল প্লে স্টোরে এসে গিয়েছে নতুন অ্যাপ। এই অ্যাপ  কোরেন্টাইনে থাকা বা করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির সন্ধান দেবে। সংস্পর্শে কেউ এলে তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানান দেবে অ্যাপ।

কেউ করোনা আক্রান্তের স্পর্শে এসেছেন কিনা, সেই তথ্য় জানতে অ্যাপ চালু করতে চায় ইটালি৷ সেজন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে৷ শত শত প্রস্তাব জমা পড়েছে৷ শিগগিরই তা চালু হবে৷

জার্মানি করোনা আক্রান্তের তথ্য জানার জন্য ‘পিইপিপি-পিটি’ নামে একটি সফটওয়্য়ার ব্যবস্থা গড়ে তুলার পক্রিয়ায় ছিল যদিও সমালোচনার কারণে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে৷ তবে অ্যাপল ও গুগলের যৌথ সফটওয়্য়ারের উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে৷

তবে করোনাভাইরাস ট্র্যাকার অ্যাপে ঝুকিও আছে । অ্যাপ ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত ও অবস্থানগত ডেটা সীমাবদ্ধ থাকবে না ।কারন সংরক্ষিত ডেটা কেন্দ্রিয় সংরক্ষনে থাকবে । অ্যাপটি ব্যবহারকারীর ফোনকল, অবস্থান, ক্যামেরা ইত্যাদি তথ্য ও সুবিধা ব্যবহার করে যাচাই করে দেখবে ব্যক্তির অবস্থান জানা যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here