দেশের ব্যাংকিং খাতে উদ্বেগ তৈরি করে ডার্ক ওয়েব

0
26

দেশের ব্যাংকিং খাতে উদ্বেগ তৈরি করে ডার্ক ওয়েব

বাংলাদেশ ই-গভর্নমেন্ট কম্পিউটার ইনসিডেন্স রেসপন্স টিম (সার্ট)এর এক প্রতিবেদনে জানা যায় যে, দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের গ্রাহকদের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের অনেকে তথ্য ডিপ ওয়েবে ফাঁস হয়ে গেছে।ডিপ বা ডার্ক ওয়েব হলো সাইবার অপরাধীদের একটি হাব। এটি ইন্টারনেটের একটি অন্ধকার জগত। এখানকার সাইটগুলোতে বেনামে অপরাধীরা বিচরণ করে। এসব অপরাধীরা হ্যাকিং ছাড়াও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মাদক, অস্ত্র ব্যবসায় ও পর্ণগ্রাফীর মতো অনেক অবৈধ পণ্যের বেচাকেনা হয়। এদের সক্ষমতা অত্যন্ত বেশি।এরা পেশাদার কালোবাজারি। এরা নিজেরা যেমন অপরাধ বা হ্যাকিং-এ জড়িত আবার কেউ চাইলে এদেরকে ভাড়ায়ও নিতে পারে। যারফলে দেশে র‍্যানসমওয়্যারের আক্রমণ বা সাইবার হামলার ঝুঁকিতে অধিকাংশ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ।

টাকা তোলা ছাড়াও গ্রাহকরা অনেক কাজেই  কার্ড ব্যবহার করে।ব্যাংকের নেটওয়ার্কিং দুর্বলতা ও নিম্নমানের ডিভাইস ব্যবহারের কারণেই ডার্ক ওয়েবে অনেক গ্রাহকের তথ্য ফাঁস হচ্ছে ।ব্যাংক খাতের ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি গ্রাহকের অবহেলাও কম দায়ী নয় । সম্প্রতি ব্যাংক খাতের সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে যে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সেখানে কার্ডধারীদের তথ্য ফাঁসের বিষয়টি রয়েছে।এক্ষেত্রে গ্রাহকদেরকেই বেশী সচেতন হতে হবে।গ্রাহকদের দুর্বল পাসওয়ার্ড অনেক সময় হ্যাকারদের কাজ সহজ করে দেয়।

কোভিডের কারণে ক্রেডিট কার্ড ও ডেবিট কার্ডের ব্যবহার বেড়েছে। কিন্তু কার্ড ইস্যুকারী অনেক ব্যাংকের নেটওয়ার্কিং সিস্টেমে ক্ষতিকর সফটওয়্যার বা ম্যালওয়ার ও র‍্যানসামওয়ারে ভর্তি।এই ক্ষতিকারক সফটওয়্যার স্বাভাবিক কাজকে ব্যহত করে,গোপন তথ্য সংগ্রহ করে, কোনো সংরক্ষিত কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ব্যবস্থায় অবৈধ অনুপ্রবেশ করে তথ্য চুরি করে নিতে পারে একেবারেই অজান্তে ।

অনলাইন শপিং, টিকেট বুকিং, হোটেল বুকিংসহ অনেক কাজে কার্ড ব্যবহার করেন গ্রাহকরা। কিন্তু এর সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে অধিকাংশ গ্রাহকের যথেষ্ট ধারণা নেই। সম্পূর্ণ ইন্টারনেটের অল্প অংশই সব সার্চ ইঞ্জিনগুলো মিলে ব্যবহার করছে। বাকীটা সাধারণের কাছে অজ্ঞাত।এদের অনেকের তথ্যই নিজেদের অজ্ঞাতে চলে যায় ডার্ক ওয়েবে।

ডিপ ওয়েব বা ডার্ক ওয়েবে প্রবেশ করতে হলে বিশেষ ওয়েব ব্রাউজার দরকার হয়। অর্থাৎ চাইলেই গতানুগতিক সার্চ ইঞ্জিন ইয়াহু, গুগলের মতো  ওয়েবে ঢোকা যায় না।এই বিশেষ ওয়েব ব্রাউজার সাধারণ ওয়েব ব্রাউজারের মতোই কাজ করে । যারফলে অগণিত হ্যাকার সারাক্ষণই হ্যাকিং এর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে । অর্থাৎ হ্যাকিং সফটওয়্যার থেকে শুরু করে হ্যাক করা অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট কার্ড নাম্বারসহ অনেক কিছুই এখানে ক্রয়-বিক্রয় হয়।

গুরুত্বর্পূণ প্রতিষ্ঠানগুলো সাইবার নিরাপত্তায় দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ না করলে ভবিষ্যতে ঝুঁকি আসবেই। তবে আশার কথা যে বাংলাদেশের কার্ডধারীদের তথ্য ফাঁস হলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার কারণে, আন্তর্জাতিক হ্যাকাররা এর মাধ্যমে টাকা সরাতে খুব একটা সুবিধা করতে পারবে না, কারণ বাংলাদেশ থেকে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ইচ্ছেমত লেনদেন করা যায় না ।

সারা বিশ্বে বহু হ্যাকার সারাক্ষণই বিভিন্ন দেশ, প্রতিষ্ঠান, সরকার ও সংস্থার ওয়েবসাইট, কম্পিউটার সিস্টেম এমনকি ব্যক্তিগত কম্পিউটারও হ্যাক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সঠিক ভাবে সংরক্ষিত করতে না পারলে বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে যে কারো।