ভারতের নাগরিকত্ব বিল

0
753

ভারতের নাগরিকত্ব বিল

দখিনা ডেস্ক: ভারতের লোকসভায় নাগরিকত্ব বিল পাশ হলেও দেশ জুড়ে প্রতিবাদের মুখে সরকার। পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্টজনেরা এই বিলের বিরুদ্ধে। ভারতজুড়ে বুদ্বিজীবিরা প্রতিবাদ করছেন নানা ভাবে। উত্তর পূর্ব ভারতে শুরু হয়েছে বনধ।

৯ ডিসেম্বর ২০১৯  সোমবার লোকসভায় নাগরিকত্ব বিল যে কায়দায় পেশ করা হয়েছে তার প্রতিবাদে  প্রায় সকল  বিশিষ্টজনই প্রতিবাদে করছেন ।অনেকের মতে এই বিল কেবল সংবিধানের পরিপন্থী নয়, একই সঙ্গে অগণতান্ত্রিকও।

বিশিষ্ঠ লেখক শীর্ষেন্দু বলেন ভারত বহু বর্ণ, বহু ভাষা, বহু ধর্মের দেশ। বরাবর এ দেশ সমস্ত মানুষকে সমান অধিকার দিয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার দেশের এই ঐতিহ্যটাকেই ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তারা ভারতকে হিন্দু রাস্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করছে। এর বিরুদ্ধে সকলের সোচ্চার হওয়া উচিত। বিল পাশ হলেও তা নিয়ে বিতর্ক বন্ধ করা যাবে না। মনে রাখতে হবে, বিজেপি সারাজীবনের জন্য সরকারে থাকবে না। পরবর্তী সরকার এসে আবার এই আইন বদলাবে। কারণ, এই আইন গণতান্ত্রিক নয়।

শীর্ষেন্দুর কথাকেই সমর্থন করেছেন বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞ অমল মুখোপাধ্যায়। প্রেসিডেন্সি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষের বক্তব্য, সরকার সংখ্যার জোরে আইনসভায় এই বিল পাশ করিয়ে নিতে পারে। কিন্তু বাস্তবে এই বিলে এক দিকে অগণতান্ত্রিক এবং অন্য দিকে অসাংবিধানিক। অমলবাবুর বক্তব্য, দেশের সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে। সেখানে কোনও ভাবেই কয়েকটি নির্দিষ্ট ধর্মের উল্লেখ করে আইন তৈরি করা যায় না। এটি সংবিধানে অধিকারের যে ব্যাখ্যা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

প্রায় এক হাজার বিজ্ঞানী এর বিরুদ্ধে সরকারকে খোলা চিঠি দিয়েছেন। দেশের প্রথমসারির বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং শিক্ষকেরাও এর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। এরই মধ্যে  লোকসভায় এই বিল পাশ হওয়ার পরে গোটা উত্তর পূর্ব ভারত উত্তাল হয়ে উঠেছে। অসমে রাতেই মিছিল করেছে ছাত্ররা। মঙ্গলবার গোটা উত্তর পূর্ব ভারতে এর বিরুদ্ধে বনধের ডাক দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে আইনসভায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেও দেশ জুড়ে খুব স্বস্তিতে নেই নরেন্দ্র মোদীর সরকার।ভারত ঐতিহাসিকভাবে একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। নাগরিকত্ব সংশোধনীর নামে বিভেদ হলে দেশটির পদস্খলন হবে এবং তাদের ঐতিহাসিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে ।

নাগরিকত্ব আইন: ১৯৫৫ সালে ভারতের সংসদে পাশ হয় নাগরিকত্ব বিল। সেখানে বলা হয়, বিদেশিরা যদি এ দেশের নাগরিক হতে চান, তা হলে অন্তত ১১ বছর এ দেশে বসবাস করতে হবে। নাগরিকত্ব আইনে ধর্মের কোনো উল্লেখ ছিল না।

সূত্র:dw