মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে নিন্দা প্রস্তাব পাশ, যুদ্ধাপরাধ তদন্তে তহবিল বরাদ্দ

0
657

রোহিঙ্গা সংকট: মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে নিন্দা প্রস্তাব পাশ, যুদ্ধাপরাধ তদন্তে তহবিল বরাদ্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রোহিঙ্গা মুসলমান ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর যথেচ্ছ গ্রেপ্তার, নির্যাতন, ধর্ষণ, হেফাজতে মৃত্যুসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে একটি নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করেছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ।

এই প্রস্তাব অনুমোদনের পর জাতিসংঘে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত হাও দো সুয়ান বলেন, এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের নামে আরেকটি বৈষম্যমূলক ও বিশেষভাবে বাছাই করার দ্বৈত আচরণ। যার মাধ্যমে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এই প্রস্তাবটি রাখাইন রাজ্যের জটিল পরিস্থিতি সমাধানে কোনো ভূমিকা রাখবে না। বরং সেখানে অবিশ্বাসের বীজ বপন করবে। তার মতে, এই প্রস্তাব ঐ অঞ্চলে নানা সম্প্রদায়ের মধ্যে আরো মেরুকরণ তৈরি করবে।

রাখাইন, কাচিন ও শান রাজ্যে রোহিঙ্গা ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ঘৃণা উস্কানি না দেওয়ার জন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতি জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানানো হয় জাতিসংঘের এই  প্রস্তাবটিতে। রোহিঙ্গা ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে উত্তেজনা প্রশমনে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে পাশ হওয়া কোন প্রস্তাব দেশটি মানতে বাধ্য না হলেও, বিশ্ব মতামতের ক্ষেত্রে এ ধরণের প্রস্তাব প্রভাব ফেলে থাকে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের যুদ্ধাপরাধ তদন্ত করে দেখার জন্য তহবিল বরাদ্দ করেছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। প্রায় তিনশো সাত কোটি ডলারের এই তদন্ত তহবিলে প্রথমবারের মতো সিরিয়া ও মিয়ানমারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে শুক্রবার আনা নিন্দা প্রস্তাবে জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় ১৩৪টি দেশ আর বিপক্ষে ভোট পড়ে নয়টি। ভোটদানে বিরত ছিল ২৮টি দেশ।

গত নভেম্বর মাসে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে মামলা করে গাম্বিয়া, যে শুনানিতে হাজিরা দিয়েছেন দেশটির নেত্রী অং সান সু চি। মিয়ানমারের দাবি, তারা উগ্রবাদীদের দমন করতে তাদের এসব অভিযান।

জাতিসংঘের ঐ প্রস্তাবে চার দশক ধরে প্রতিবেশী বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের পালিয়ে আসার ব্যাপারে সতর্কবার্তা তুলে ধরা হয়। প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট নিরাপত্তাচৌকিতে সন্ত্রাসীদের হামলাকে অজুহাত দেখিয়ে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর চরম নৃশংসতা শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। নির্বিচার হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন থেকে বাঁচতে পরের কয়েক মাসে অন্তত সাত লাখ রোহিঙ্গা প্রাণে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। জাতিসংঘ এই নৃশংসতাকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছে। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয় শিবিরে বর্তমানে বসবাস করছে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। অভিযোগ আছে , রোহিঙ্গা নিধনের উদ্দেশ্যে মিয়ানমার সরকারই বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী-আরসা সৃষ্টি করেছে।