করোনাভাইরাসের মহামারির মধ্যে যেভাবে পালিত হচ্ছে সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-ফিতর।

0
745

তবে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ঈদের আয়োজন ভিন্ন।সবচেয়ে বড় এই ঈদের উৎসব ছিল বিবর্ণ

একদিকে আক্রান্ত রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, সরকারি কড়াকড়ি শিথিল হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে অসংখ্য মানুষ শহর ছেড়ে গ্রামের পথে ছুটছেন। সবমিলিয়ে ভিন্ন এক পরিস্থিতিতে পালিত হতে যাচ্ছে এবারের ঈদুল ফিতর।

মাঠের পরিবর্তে মসজিদগুলোতেই অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদের নামাজ। অনেকে আবার নিজ বাসাতেই আদায় করেছেন ঈদের নামাজ। বেশ কয়েকটি মসজিদে দেখা যায় যে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে মসজিদের ভেতরে জায়গা না হওয়ার কারণে অনেকেই রাস্তায় বসে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। কাউকে কোলাকুলি করতে দেখা যায়নি।প্রায় সবাই মাস্ক ব্যবহার করছেন। ঈদের কোলাকুলি আর স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের বাড়িতে বেড়ানোর রেওয়াজ থাকলেও নিষেধাজ্ঞার কারনে এবছর থাকছে না তেমন কোন আয়োজন।

পরিবার নিয়ে ঈদের দিন বেড়াতে যান নগরের বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে। বিনোদন কেন্দ্রগুলোও ঈদে সাজানো হয় নানান সাজে। তবে এবারের করোনার কারণে বেশিরভাগ বিনোদন কেন্দ্র আগে থেকেই বন্ধ রয়েছে। ফলে সেখানে নেই ঈদের সেই চিরচেনা জমজমাট রূপ।

করোনার এই দুর্যোগের মধ্যে গত বুধবার বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানে ঘুর্ণিঝড় আমফান। সাতক্ষীরা, বাগেরহাটসহ উপকূলের বেশ কয়েকটি জেলা ব্যপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। কাঁচা, আধা পাকা ঘরবাড়ি ঝড়ে উড়ে গেছে।

চারিদিকে শুধু পানি আর পানি। ডুবে গেছে দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠ ও সবজিক্ষেত। ঘূর্ণিঝড় আম্পানে আঘাতে বেড়িবাঁধ ভেঙে খুলনার কয়রা উপজেলায় পানিতে চারিদিকে শুধু থৈ থৈ করছে। এক চিলতে শুকনো জায়গা নেই। এর মধ্যে এলাকাবাসীর ঈদের দিনটি কেটেছে ভিন্ন রকম।

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ফলে পানিতে তলিয়ে গেছে উপজেলার ৮০ শতাংশ এলাকা। আম্পানের তাণ্ডবে কয়রায় ১২১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ২১ জায়গায় ৪০ কিলোমিটার অধিক বাঁধ ভেঙে গেছে। ফলে ২৫ মে সোমবার ঈদুল ফিতরের দিন সেই ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ নির্মাণে স্বেচ্ছাশ্রমে অংশ নিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। হাঁটুপানিতে দাঁড়িয়েই আদায় করেছেন পবিত্র ঈদের নামাজ। সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার দুই নম্বর কয়রা নদী ভাঙন পাড়ে এ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে রবিবার সন্ধ্যায়, ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে ঘরে থেকে ঈদ উদযাপনের আহ্বান জানান। সাথে সব ধরণের স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এ বছর আমরা সশরীরে পরস্পরের সাথে মিলিত হতে বা ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে না পারলেও টেলিফোন বা ভার্চুয়াল মাধ্যমে আত্মীয়স্বজনের খোঁজখবর নেব”।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here