একটি ভালো শেয়ার নির্বাচনের ১০টি উপায়

0
94

একটি ভালো শেয়ার নির্বাচনের ১০টি উপায়

প্রত্যেক বিনিয়োগ কারীর একটি সাধারণ লক্ষ্য থাকে পূঁজি নিরাপদ রেখে নিশ্চিত লাভ করা। ভাল শেয়ার বাছাই করার আগে বিনিয়োগকারীদের জানতে হবে কোম্পানির অতীত, বর্তমান ইতিহাস, এর সঙ্গে কারা জড়িত, তাদের ব্যবসায়িক সততা, দক্ষতা, কোম্পানির বাজার পরিধি।

আমরা আমাদের আজকের ভাল মৌল ভিত্তির শেয়ার নির্বাচনের  ক্ষেত্রে নিম্নের ১০টি লক্ষন বিবেচনা করবো।

১। ভাল প্রবৃদ্ধিঃ আমাদেরকে প্রথমেই ভালো প্রবৃদ্ধির কোম্পানি গুলো সনাক্ত করতে হবে। তারপর কোম্পানির গত ৫ বৎসরের আয় ধারাবাহিক ভাবে বেড়েছে কিনা দেখবো। আমাদেরকে  আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দেখতে হবে তা হলো কোম্পানীর পরিচালনা পর্ষদ। কারন দক্ষ পর্ষদ একটি কোম্পানিকে অনেক দূর নিয়ে যেতে পারে। কোম্পানী যে সব পণ্যের উৎপাদন বা ব্যবসা করে তার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা কি এবং কেমন হতে পারে তা অনুমান করতে হবে। এছাড়াও কোম্পানির PE রেশিও, RSI, Growth in operating profit, NPAT, এবং EPS দেখলেই আমরা নিজেরাই ভাল কোম্পানি গুলো সনাক্ত করতে পারবো।

২। কম দ্বায়ঃ আমাদেরকে কোম্পানি নির্বাচনের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খেয়াল রাখতে হবে কোম্পানির দ্বায়। এই দ্বায় কোম্পানির লাভ খেয়ে ফেলে। ফলে প্রতিষ্ঠান ভাল ব্যবসা করলেও ঋণ দ্বায়ের কারনে ভালো   লভ্যাংশ দিতে পারে না। অবশ্যই কোন কোম্পানির দ্বায় .৫০ শতাংশের বেশি হওয়া যাবে না।যদি হয় তাহলে বিনিয়োগ তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে।

৩। বড় বাজারঃ প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্যের টার্গেট কতটা বড় খেয়াল রাখতে হবে। কোম্পানিটি মোট মার্কেটের কতো শতাংশ হোল্ড করে তা দেখতে হবে। ভবিষ্যতে সম্ভাব্য বাজার কতো বড় হতে পারে তার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারন ব্যবসায় আগ্রগতি তার উপর নির্ভর করে।

৪। উচ্চ রিটার্নঃ আমাদেরকে সর্বদা খেয়াল রাখতে উচ্চ রিটার্ন দেওয়া কোম্পানি গুলোর দিকে। যে সকল কোম্পানি গত ৫ বৎসর যাবৎ ভালো  ডিভিডেণ্ট দিয়ে যাচ্ছে সে সকল কোম্পানি নির্বাচন করতে হবে। নিচের পদ্ধতি গুলো দেখে বুঝতে হবে কোনটি High Return দেওয়া কোম্পানি।

ক। Return on Equity (ROE): এর ক্ষেত্রে অনুপাত ১০ বা তার বেশি হওয়া উচিত।

খ। Return on Asset (ROA): এই পদ্ধতিতে কোম্পানির বর্তমান সম্পদ ভিত্তিক রিটার্ন কি জানা যায়। মোট আয়কে মোট সম্পদ দ্বারা ভাগ করে বের করতে হয়। একটি কোম্পানি মোট সম্পত্তির তুলনায় কতটা লাভ জনক তার সূচক। এ সূচক যত বেশী হবে কোম্পানির অবস্থা ততো ভালো।

৫। যোগ্য নেতৃত্বঃ  আমাদের অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে কারা কোম্পানি পরিচালনা করছে। কারন যোগ্য নেতৃত্বের কারনে কোম্পানিটির সফলতা অনেকাংশে নির্ভরশীল। নেতৃত্বের সঙ্কটে থাকা কোম্পানি গুলো কখনো ভালো ফলাফল দিতে পারে না।

৬।প্রতিযোগিতাঃ বিনিয়োগের পূর্বে আমাদেরকে জানতে হবে বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কোম্পানিটির প্রতিযোগী কারা কারা আছে।পূর্ণ প্রতিযোগিতামুলক বাজারে টিকে থাকার জন্য ভাল গুনগতমান সম্পন্ন পণ্যের ও পণ্যের ডাইমেনশন নিয়ে ভাবতে হবে।নির্বাচিত পণ্যের Advantage গুলি কি কি আছে তা বের করে দেখতে হবে তার বাজার সম্ভাব্যতা ।

৭। পরিচালকদের মালিকানার অনুপাতঃ কোম্পানির ডিরেক্টরদের অবশ্যই ৪৫ থেকে ৬০% শেয়ার ধারন করতে হবে। তাহলেই কোম্পানির গ্রোথ ভালো হওয়ার সম্ভবনা আছে।

৮। সেক্টর নির্বাচনঃ ভবিষ্যতে কোন খাতে ব্যবসা বাণিজ্য ভালো হতে পারে তার উপর ভিত্তি করে কোম্পানির শেয়ার নির্বাচন করতে হবে।

৯। নগদ প্রবাহ ও দায়ঃ আমাদেরকে অবশ্যই কম দ্বায় সম্পন্ন অর্থাৎ .৫০% শতাংশের কম Loan বা দ্বায় গ্রহনকারী কোম্পানির শেয়ার নির্বাচন করতে হবে। অন্যদিকে যে সকল কোম্পানির দ্বায় বেশী তাদের লাভ থেকে ঋণের সুদ বেশী খরচ হয়ে জায়।যে সকল কোম্পানির নগদ প্রবাহ বেশী  তারা অন্যান্য কোম্পানির থেকে অনেক বেশী স্থিতিশীল হয়।

১০। অবমুল্যায়িতঃ আমাদেরকে অবশ্যই অবমুল্যায়িত কোম্পানি গুলোর শেয়ারে  বিনিয়োগ করতে হবে। নিন্মোক্ত ভাবে অবমুল্যায়িত কোম্পানির শেয়ার নির্বাচন করতে হবেঃ

ক। Price Earning Ratio (PE Ratio): পিই  রেশিও ১৫ বা তার আশেপাশে থাকা স্টক গুলি নির্বাচন করতে হবে।

খ। Price to Book Value ( PB Ratio): শেয়ারের ক্রয় মূল্য যেন NAV এর তিন গুনের বেশী না হয়।

গ। Price earning to Growth (PEG): কোম্পানির শেয়ার নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবশ্যই ১৫ এর উর্ধে কোম্পানির স্টক ক্রয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।পিই রেশিও ১০ এর মধ্যে তাকলে ভালো।ওয়ারেন বাফেট বলেন  “১৫ পিই রেশিও এর উর্ধে্র শেয়াররে বিনিয়োগ কখনও ভালো বিনিয়োগ হতে পারে না”। বিনিয়োগকারী হিসেবে সফলতা পেতে হলে সকল পুঁজি একটি কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ না করে একাধিক ভাল কোম্পানি নির্বাচন পূর্বক বিনিয়োগই আপনার জীবন পাল্টে দিতে পারে।

 

লেখক: মোঃ  শাহ্‌ নেওয়াজ মজুমদার