শান্তিতে নোবেল পুরস্কার ২০২১ পেয়েছেন দুই সাংবাদিক ।

0
23

শান্তিতে নোবেল পুরস্কার ২০২১ পেয়েছেন দুই সাংবাদিক ।

ফিলিপিন এবং রাশিয়ায় মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে “সাহসী লড়াই”-এ অবদান রাখার জন্য এই দুটি দেশের সাংবাদিক মারিয়া রেসা আর দিমিত্রি মুরাতভকে এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়া হয়েছে। পুরস্কার হিসেবে তারা দুজন স্বর্ণপদকের পাশাপাশি সম্মানজনক এই পুরস্কারের অর্থমূল্য এক কোটি সুইডিশ ক্রোনার (১১ লাখ মার্কিন ডলার)সমানভাবে ভাগ করে নেবেন। নরওয়ের রাজধানী অসলোতে অবস্থিত নোবেল ইনস্টিটিউট আনুষ্ঠানিকভাবে এই পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি।

সমানভাবে ভাগ করে নেবেন। গত বছর শান্তিতে নোবেল পেয়েছিল বিশ্ব খাদ্য সংস্থা (ডব্লিউএফপি)। ক্ষুধা নিরসনে অবদান রাখায় প্রতিষ্ঠানটিকে দেয়া হয় শান্তিতে নোবেল পুরস্কার। আগামী সোমবার ঘোষণা করা হবে অর্থনীতিতে নোবেল জয়ীর নাম।

নোবেল কমিটির ওয়েবসাইটে দেয়া ঘোষণায় বলা হয়, গণতন্ত্র ও টেকসই শান্তির পূর্বশর্ত হিসেবে মত প্রকাশের স্বাধীনতায় অবদান রাখায় চলতি বছর নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে মারিয়া রেসা ও দিমিত্রি আন্দ্রেয়েভিচ মুরাতভকে। শান্তিতে নোবেলের জন্য ৩২৯ জনের তালিকা থেকে এ দুজনকে বেছে নেয়া হয়।

নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি জানিয়েছে, ফিলিপাইন ও রাশিয়ায় গণতন্ত্র ও টেকসই শান্তির পূর্বশর্ত হিসেবে বিবেচিত মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন মারিয়া রেসা ও দিমিত্রি আন্দ্রেয়েভিচ মুরাতভ। মারিয়া রেসার অবদান প্রসঙ্গে নোবেল কমিটির মন্তব্য, তিনি জন্মস্থান ফিলিপাইনে ক্ষমতার অপব্যবহার, সহিংসতা ও ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে মত প্রকাশের লড়াই অব্যাহত রেখেছেন। এছাড়া দিমিত্রি আন্দ্রেয়েভিচ মুরাতভের কীর্তি প্রসঙ্গে নোবেল কমিটি জানায়, রাশিয়ায় মত প্রকাশে ক্রমাগত চ্যালেঞ্জের মুখে কয়েক দশক ধরে কাজ করে আসছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার, মিথ্যা প্রচার ও যুদ্ধে উসকানি ঠেকাতে মুক্ত, নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা সহায়ক। বাকস্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ছাড়া বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে সৌহার্দ প্রতিষ্ঠা, অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ এবং উন্নত বিশ্ব গড়ে তোলা কঠিন। এ দুজন পৃথিবীর সব সাংবাদিকের প্রতিনিধি, যারা এ আদর্শ ধারণ করেন বলে মন্তব্য করে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি।

নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তি প্রসঙ্গে ফিলিপাইনের সংবাদমাধ্যম র্যা পলারের সরাসরি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা মারিয়া রেসা বলেন, তার স্বীকৃতি এটিই প্রমাণ করে যে তথ্যবিহীন বিশ্বের অর্থ হলো সত্য ও আস্থাবিহীন পৃথিবী। আর র্যা পলারের পক্ষ থেকে বলা হয়, আমরা বিস্মিত ও সম্মানিত যে আমাদের প্রধান নির্বাহীকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।
এদিকে জনপ্রিয় টেলিগ্রাম চ্যানেল পডিওমকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় দিমিত্রি আন্দ্রেয়েভিচ মুরাতভ জানান, তিনি এটা আশাই করেননি। এটি রাশিয়ার নিপীড়িত সাংবাদিকতার জন্য প্রতিদান।

মারিয়া রেসা ২০১২ সালে ফিলিপাইনে প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যম র্যা পলারের সহপ্রতিষ্ঠাতা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে র্যা পলারের ৪৫ লাখ অনুসারী রয়েছে। বুদ্ধিদীপ্ত বিশ্লেষণ এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য প্রতিষ্ঠানটি দ্রুতই জনপ্রিয়তা পায়। এটি ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রড্রিগো দুতার্তের জনবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং নীতির কড়া সমালোচনাকারী অন্যতম সংবাদমাধ্যম। বিশেষ করে তার মাদকের বিরুদ্ধে কথিত যুদ্ধের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যা, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং নারী বিদ্বেষের বিরুদ্ধে অসংখ্য প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণ প্রকাশ করে র্যা পলার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের পক্ষে নানা প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধেও সোচ্চার ভূমিকা পালন করে প্রতিষ্ঠানটি। এজন্য একাধিক হুমকি, ধমকি ও মামলা মোকাবেলা করতে হয়েছে। এজন্য মারিয়া রেসা ও র্যা পলারকে অপরাধীও সাব্যস্ত করেন দেশটির আদালত।

এদিকে দিমিত্রি মুরাতভ ১৯৯৩ সালে নোভোজা গেজেটা নামে সংবাদপত্র প্রকাশ করেন। এটির সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বর্তমানে প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। পত্রিকাটি খুব অল্প কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের অন্যতম যারা রাশিয়ার অপ্রতিরোধ্য ক্ষমতার অধিকারী প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সরকারের সমালোচনা করে।

১৯৩৫ সালে জার্মান সাংবাদিক কার্ল ফন অসিয়েতস্কির পর সাংবাদিক হিসেবে শান্তিতে নোবেল পেলেন মারিয়া রেসা ও দিমিত্রি আন্দ্রেয়েভিচ মুরাতভ।