মিয়ানমার কি চাপে পড়বে?

0
466

রোহিঙ্গা গণহত্যার দায়ে গাম্বিয়ার দায়েরকৃত মামলায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে চারটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক বিচার আদালত। আদালত সর্বসম্মতভাবে এ আদেশ জারি করেছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা হত্যা বন্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আদালতের আদেশকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার এবং বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে এটা বড় অগ্রগতি। এতে চাপে পড়বে মিয়ানমার এবং এর ফলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পথ খুলতে পারে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- এতে করে কি কোন ভাবে মিয়ানমারকে চাপে ফেলা সম্ভব হবে? মিয়ানমার কি তাদের অপরাধ স্বীকার করে নিবে?

উত্তর একটাই- তেমনটি ভাবার কোন কারণ নেই। কারণ এখনও মিয়ানমার মনে করে তাদের ওখানে কোন গণহত্যা হয়নি।

রাখাইনে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিষয়ে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ ঘোষণার পরে মিয়ানমার সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে তাদের দেশে কোন গণহত্যা হয়নি। বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এমনটি বলা হয়।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, মিয়ানমারের জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ যে আন্তর্জাতিক আদালত মামলার গ্রহণযোগ্যতা অনুধাবন করে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে সঠিক সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরো বলা হয়, রাখাইনে কোনো গণহত্যা হয়নি। একটি বিকৃত ছবি তুলে ধরা হয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে রাখাইনে গণহত্যা নিয়ে রায়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, এই রায় পুরো বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছে যে মিয়ানমারের নৃশংসতা সহ্য করা হবে না।

এছাড়া গাম্বিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তারা রাখাইনে গণহত্যার রায় নিয়ে সন্তুষ্ট।

এদিকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এক বিবৃতিতে বলেন, এ আদেশের মধ্য দিয়ে মানবতার জয় হয়েছে এবং সব দেশের মানবাধিকার কর্মীদের জন্য এটি একটি মাইলফলক। এ আদেশ শুধু গাম্বিয়ার বিজয় নয়, ওআইসি, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং অবশ্যই বাংলাদেশেরও বিজয়। মহান আল্লাহ মানবতা এবং ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ শেখ হাসিনার প্রতি রহমত বর্ষণ করুন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আদালত ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার করেছে এবং এ-সংক্রান্ত মিয়ানমারের দাবি প্রত্যাখ্যান করে গণহত্যা বন্ধ করতে বলেছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা করেন এ আদেশ বিশ্বে জাতিগত নিধন এবং গণহত্যা বন্ধে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘এ আদেশের মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিয়ানমারের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি হবে। এতদিন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে রাখাইনে গণহত্যা, গণনিষ্ঠুরতার বিষয়টি মিয়ানমার অস্বীকার করেছে; কিন্তু এ আদেশের পর মিয়ানমারের সামনে অপরাধ অস্বীকার করার সুযোগ আর থাকল না। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটিকে যথেষ্ট বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হবে।’

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোগত সহিংসতা জোরদার করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। দেশটির সেনাবাহিনী রাখাইনে হত্যাকাণ্ড, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ শুরু করলে জীবন বাঁচাতে নতুন করে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। গত বছরের নভেম্বরে আইসিজেতে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা বন্ধে ব্যবস্থা নিতে মামলাটি দায়ের করেছিলো পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। আর সেই মামলার ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার অন্তবর্তীকালীন আদেশ দেয় জাতিসংঘের আদালতটি। আদেশে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের পক্ষ থেকে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের যা করা হয়েছে তা গণহত্যার শামিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here