সুবিধা পেলে ইসলামী দলও শরী’আ আইন চাইবে না!

0
112

সুবিধা পেলে ইসলামী দলও শরী’আ আইন চাইবে না!

আরব বসন্তের ফলে পতন ঘটে মিশরের দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক জেনারেল হোসেনি মোবারকের, শুরু হয় মিশরের গণতান্ত্রিক বিবর্তন। মিশরের ইতিহাসে প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হলেন ড. মোহাম্মদ মুরসি, আরব বসন্তের পরে প্রথম নির্বাচনে তিনি ছিলেন মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রার্থী।

ব্রাদারহুড ক্ষমতায় আসার সাথে সাথেই ‘শরী’আ’ বাস্তবায়নের জন্য চিৎকার করেছিল কট্টর নুর পার্টি এবং ব্রাদারহুডের কট্টরপন্থী কিছু সমর্থক। প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার আন্দোলনও উস্কে দিয়েছিল আল-নূর পার্টি! জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে ক্ষমতায় বসার সুযোগ এনে দিয়েছিল মিশরের ইসলামপন্থী দল সালাফি মতাদর্শের আল-নূর পার্টি।

প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি মাত্র এক বছর ক্ষমতায় ছিলেন, কিন্তু এই সময়েই আঞ্চলিক রাজনীতিতে মিশরের অবস্থান বদলাতে শুরু করে। চলমান রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের মধ্যে এক বছরের মাথায় মিশরে ঘটে সামরিক অভ্যুত্থান। সেনাপ্রধান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির নেতৃত্বে সামরিক বাহিনী মিশরের ক্ষমতা দখল করে। ক্ষমতা থেকে উৎখাত করা হয় মোহাম্মদ মুরসিকে। বিচারাধীন অবস্থায় মুরসি মারা যান ২০১৯ সালে।

সামরিক অভ্যুত্থান করে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত মিশরের প্রথম প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুরসিকে সরিয়ে সেনাপ্রধান সিসি ক্ষমতায় আসলেও কট্টর আল-নূর পার্টির জেল-জুলুম-ফাঁসি হয়নি। আরাম-আয়েশেই চলছে তাদের কার্যক্রম। দলও নিষিদ্ধ হয়নি! প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করায় সেনা অভ্যুত্থানকে স্বাগত জানায় আল-নূর পার্টি! অথচ, ধাপে ধাপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে শরী’আর দিকে ধাবিত হওয়া ব্রাদারহুডকে! শহীদ হয়েছেন হাজার হাজার নেতা! হাজারো আহত-বিকলাঙ্গ! এখনও জেলে লাখ লাখ ব্রাদারহুডের সমর্থক! আজ কেউ নেই তাদের পাশে!

সুযোগ শত বছরেও বারবার আসে না। দেশ বর্তমানে কতোটা স্পর্শকাতর ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে, তা বুঝতে হবে। ভুল করলে পিছলে পড়তে হবে! ইসলামী আবেগপ্রবণ সমর্থকদের উচিত—আবেগী চিন্তা করে হঠকারী বক্তব্য না দেওয়া। মনে রাখা দরকার, যাদের কথায় স্বপ্ন দেখছেন, তারা আপনাদের গায়ে ‘জঙ্গি’ তকমা দিতে দেরি করবে না। দেশকে অস্থিতিশীল করতে এই তকমাই যথেষ্ট। শত্রু-মিত্র চিনুন। এ দেশের মানুষ জেনে না জেনে ইসলামকে পছন্দ করে, তবে শরী’আকে মানে না। শরী’আ প্রতিষ্ঠা করতে বলা বা সরাসরি শরী’আ প্রতিষ্ঠার পূর্ব ঘোষণা দেওয়ার কথা ‘হেকমত’ বা কৌশলের সাথে বলা উত্তম। যারা সাথে থাকতে চায়, তাদের পূর্বের ইতিহাস দেখুন। তারা কোন ভাবাপন্ন! তাদের শত্রু-মিত্র কারা। বিপদে এদের কাউকে পাওয়া যাবে না। তারা ধর্মনিরপেক্ষদের সাথে মিলে আরামেই থাকবে। অতিতেও ছিল।  জেল-জুলুম-গুম-ফাঁসি-নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়গুলো মাথায় রেখেই কাজ করতে হবে। সতেরো বছর কেউই পাশে ছিল না!ভবিষতেও থাকবে না।

মুসলমানদের বড় পরাজয়গুলোর কারণ শত্রুপক্ষ শক্তিশালী হওয়া নয়, বরং নিজেদের মধ্যকার অনৈক্য, গ্রুপিং, হানাহানি, প্রাসাদ ষড়যন্ত্র—এসবই বেশি দায়ী। জেল-জুলুম, মার খাওয়া, ফাঁসি হওয়া নেতা এ দেশের কোনো দলে নেই। এটি একটি কঠিন পরীক্ষা!

ইসলামী হুকুমত বা ইসলামী সমাজ এক দিনের বা এক ধাপের কাজ নয়। দয়াময় আল্লাহও তিন ধাপে মদ নিষিদ্ধ করে শরী’আ প্রতিষ্ঠার সুন্নাহ শিখিয়েছেন।

নতুন বাংলাদেশে এ দেশের মানুষের হাজার বছরের কৃষ্টি-কালচার, মন-মানসিকতা বুঝেই করতে হবে পরিকল্পনা। আর বাস্তবায়ন করতে হবে ধাপে ধাপে।

সবকিছু খোলাসা করা যায় না। সব বলাও যায় না। এ দেশে একটি মাত্র দলেরই আছে শহীদের রক্তের অকল্পনীয় শক্তি। দোদ্যুল‍্যমান না হয়ে পেশাদারদের সাথে পরামর্শ করা উচিত, কারণ স্থানীয় রাজনীতি আর ভূ-রাজনীতি এক নয়। ধৈর্য ও বিনয়ের বিকল্প নাই। যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান।

-আব্দুল্লাহ আবু জায়েদ