ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২তম সমাবর্তন অনুষ্ঠান

0
836

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২তম সমাবর্তন অনুষ্ঠান

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার ক্ষেত্রে সমন্বিত উপায় বের করার ওপর জোর দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ। আজ (সোমবার) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি একথা বলেন।

দীর্ঘদিন পর ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে এ নির্বাচন যেন আরো সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হয়, সে বিষয়ে খেয়াল রাখার পরামর্শ দেন রাষ্ট্রপতি। কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আয়োজিত সমাবর্তনে ২০ হাজার ৭৯৬ শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ।

এ সময় আচার্য মোহাম্মদ আবদুল হামিদ বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য যে, মানুষ অন্য-বস্ত্র-বাসস্থানসহ তথাকথিত উন্নত জীবনের বস্তুগত সামগ্রী অর্জনের নিমিত্তে অধিক মুনাফা লাভের প্রয়োজনীয় বিদ্যালাভের পেছনে যতটা ছুটছে, মানবিকতা উন্নয়নমূলক শিক্ষা বিষয়ে ততটা নয়। আমাদের সামাজিক জীবনের যে অস্থিরতা, তরুণ সমাজের একাংশের যে বিপদগামিতার কথা আজ বলা হচ্ছে, এর অন্যতম কারণ এটি।’

তিনি বলেন, ‘প্রিয় স্নাতকবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জিত শিক্ষা ও জ্ঞান নিয়ে বাস্তবতার জীবনে তোমরা প্রবেশ করতে যাচ্ছ। এ পথ বন্ধুর। তবে দুর্লঙ্ঘনীয় নয়। এ পথ পাড়ি দিতে হবে তোমাদের অর্জিত জ্ঞান, বিচক্ষণতা, ধৈর্য ও সৎ সাহস নিয়ে। তবে সুখের কথা হলো, বর্তমানে তোমরা যে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে যাচ্ছ, তা এখন আর চরম দারিদ্র্য-পীড়িত ভঙ্গুর অর্থনীতির বাংলাদেশ নয়। গত এক দশকে মাথাপিছু আয় প্রায় চারগুণ বৃদ্ধি পেয়ে এখন দাঁড়িয়ে দুই হাজার ডলারে।’

এবার জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের কসমিক রে রিসার্চ ইন্সটিটিউটের পরিচালক ও নোবেল বিজয়ী পদার্থবিদ অধ্যাপক ডক্টর তাকাকি কাজিতা সমাবর্তন বক্তা হিসেবে অংশ নেন। তাকে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব সাইন্স’ ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে ৭৯ কৃতি শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীকে ৯৮টি স্বর্ণপদক, ৫৭ জনকে পিএইচডি, ছয়জনকে ডিবিএ এবং ১৪ জনকে এম ফিল ডিগ্রি দেয়া হয়।

এছাড়াও অধিভুক্ত সাত কলেজের রেজিস্ট্রেশনকৃত গ্রাজুয়েটরা ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে ঢাকা কলেজ ও ইডেন মহিলা কলেজ ভেন্যু থেকে সরাসরি সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আজকে আমি সবাইকে বলতে চাই, আমাদের সন্তানদের আমরা সেই শিক্ষা দানের চেষ্টা করি, যে শিক্ষা তাদের মধ্যে যুক্তিবাদিতা, বিবেক ও মানবতাবোধকে জাগ্রত করবে। ফলে তারা ভালো চিন্তা ও কাঙ্ক্ষিত মানবোচিত কাজের সঙ্গে যুক্ত হবে।