মিরাজ ঝড়ে উড়ে গেল সিলেট

0
750

 

চট্টগ্রাম পর্বে মুখোমুখি দেখায় সিলেট থান্ডার্সের কাছে ৮০ রানে হারে খুলনা টাইগার্স। ঢাকায় ফিরে বদলাটা বেশ ভালোভাবেই নিল খুলনা। টি-টোয়েন্টিতে মেহেদী হাসান মিরাজের ক্যারিয়ার সেরা ঝড়ো ব্যাটিংয়ে সিলেটকে উড়িয়ে দিয়েছে টাইগার্স। মুশফিকের দল তুলে নিয়েছে ৮ উইকেটের বড় জয়।

এদিন সিলেটের দেয়া ১৫৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় খুলনার হয়ে ইনিংস শুরু করতে আসেন মেহেদি মিরাজ ও নাজমুল হোসাইন শান্ত। শুরু থেকেই ব্যাট চালিয়ে খেলতে থাকেন মিরাজ, আর তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন শান্ত। সিলেটের বোলারদের শাসন করে পাওয়ার-প্লের ৬ ওভারে ৬৬ রান তুলে ফেলেন দুজন।

পরে চলতি বিপিএলে নিজের প্রথম ফিফটির স্বাদ পান মিরাজ। ৩১ বলে পাওয়া অর্ধশতকটি ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় সাজান এই অলরাউন্ডার। এসময় দলীয় ১১৫ রানের মাথায় খুলনা শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন এবাদত। শান্তকে ফেরান ৪১ রানে। বাঁহাতির ৩১ বলের ইনিংসে ছিল পাঁচটি চারের মার।

এরপর রুশো মাত্র ১৫ রান করে আউট হয়ে গেলে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান দলের অধিনায়ক মুশফিককে (৪ বলে ৩ রান) সঙ্গে নিয়ে জয়ের বাকি আনুষ্ঠানিকতা সারেন মিরাজ। ১৩ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটে পাওয়া জয়ে ৬২ বলে ক্যারিয়ার সেরা ৮৭ রানে অপরাজিত থাকেন মিরাজ।

এর আগে টসে হেরে সিলেটের হয়ে ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে আসেন দুই ব্যাটসম্যান আন্দ্রে ফ্লেচার ও রুবেল মিয়া। ফ্লেচার একপ্রান্ত থেকে ঝড় তুললেও অপর প্রান্তে টেস্টের মেজাজে ব্যাটিং করতে থাকেন বিপিএলের প্রথম ম্যাচ খেলা রুবেল। উদ্বোধনী জুটিতে দুজন যোগ করেন ৬২ রান। ফ্লেচার ২৪ বলে ৩৭ রান করে আউট হলে নতুন ব্যাটসম্যান জনসন চার্লেসকে সঙ্গে নিয়ে দলীয় স্কোর বড় করার পথে ছোটেন রুবেল।

কিন্তু চার্লস সঙ্গ দিতে পারেননি বেশিক্ষণ, ১২ বল থেকে ১৭ রান করে ফেরেন এই ক্যারিবিয়। দুই রান পরেই অবশ্য ৪৪ বলে ৩৯ রান করে শহিদুলের বলে আউট হন রুবেলও। একই ওভারে মোহাম্মদ মিঠুন কোন রান না করে ফিরে গেলে মাত্র ৩ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে বসে সিলেট।

এরপর দলের হাল ধরেন অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন ও রাদারফোর্ড। শেষদিকে দুজনের ৫৩ রানের দায়িত্বশীল জুটিতে ১৫৭ রানের সংগ্রহ পায় সিলেট থান্ডার্স। রাদারফোর্ড ২০ বলে ২৬ ও মোসাদ্দেক অপরাজিত থাকেন ২৩ রানে।

সিলেটের এই সংগ্রহের দিনে খুলনার বোলার মোহাম্মদ আমির খুব কিপটে বোলিং করলেও উইকেটহীন থাকতে হয় তাকে। সেক্ষেত্রে সবচেয়ে সফল ছিলেন তরুণ পেসার শহিদুল ইসলাম। ২৬ রানের বিনিময়ে নেন ২টি উইকেট। যাতে সাত ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয়স্থানে আছেন খুলনার এই বোলার।

তবে সবচেয়ে খরুচে বল করেন রবি ফ্রাইলিঙ্ক। চার ওভার হাত ঘুরিয়ে দুটি উইকেট পেলেও রান দিয়েছেন ৫৮টি। যাতে ওই স্কোর গড়ে সিলেট।

এদিকে, এই ম্যাচটি হারের ফলে ৭ ম্যাচে মোটে এক জয়ে প্লে-অফের আশা অনেকটা ফিকে হয়ে গেল সিলেট থান্ডার্সের। অন্যদিকে, রাজশাহীর সমান ১০ পয়েন্ট নিয়েও নেট রান রেটে (NRR) পিছিয়ে থাকার কারণে টেবিলের তিনেই অবস্থান করতে হচ্ছে খুলনা টাইগার্সকে।