টিকা পেয়েও নিতে চায় না অনেকে!

0
87

টিকা পেয়েও নিতে চায় না অনেকে!

সারা বিশ্বে আবারো করোনার ঊর্ধ্বগতি৷ ইউরোপে করোনা পরিস্থিতি খারাপ হওয়া সত্ত্বেও কিছু মানুষ এখনো টিকা নিতে চায় না৷ তারা নানাভাবে টিকার বিরোধিতা করছে, এমন কি সংঘর্ষে জড়িয়ে পুলিশকেও পেটাচ্ছে৷

দুবছর আগে করোনা ভাইরাস শুরু হয়েছে,  তারপর থেকেই বিশ্ব জুড়ে সকলেরই এক প্রশ্ন, কবে বের হবে করোনার প্রতিষেধক? গবেষণা আর দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে যখন টিকা এলো তখন কেউ কেউ টিকা নেবেন না, শোনা যাচ্ছিল৷

করোনার বিধিনিষেধে মানুষ ঘরবন্দি থাকতে চায়নি, বিরক্ত হয়ে নিয়মকানুন মানার বিরুদ্ধে জার্মানিসহ অনেক দেশে বিক্ষোভ হয়েছে ৷ ঘরবন্দি থাকতে থাকতে অস্থির হয়েছিল। কিন্তু করোনার টিকা না নেওয়ার যুক্তি বোঝা বেশ দায়৷ বিশেষ করে উন্নত দেশে ।

মহামারি সংক্রমণ ঠেকাতে জার্মানিতে নতুন বিধিনিষেধ ও টিকা বাধ্যতামূলক করায় মানুষ আবারো বিক্ষোভ করেছে, বিক্ষোভে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ হওয়ায় বেশ কয়েকজন পুলিশ আহতও হয়েছেন৷ বলাই বাহুল্য যে এসব বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ৷ গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই টিকা বিরোধিরা বিক্ষোভ করছে৷ এমন কি এক ঘটনায় আদালতে কয়েকজনকে শাস্তি পর্যন্ত  দেওয়া হয়েছে৷ এসব নিয়ে মামলাও হয়েছে বেশ কয়েকটা৷ কোনো কোনো বিক্ষোভে ভাঙচুর হয়েছে , ঘটেছে আগুন ধরিয়ে দেয়ার মতো ঘটনাও৷

এসব ঘটনা বা টিকা বিরোধী বিক্ষোভ জার্মানি, ফ্রান্স, ইটালি, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ড, স্পেনসহ ইউরোপের নানা দেশেই হয়েছে৷ আমেরিকাও এর বাইরে নয়! ঠিক যেন দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার মতো! উন্নত দেশগুলির সরকার সাধারনত: মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চত করে ৷  মানুষের খাওয়াপরার কষ্ট নেই, প্রতিটি নাগরিকেরই স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে৷ আর তারাই টিকা নিতে চায় না!  টিকার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে আর বিক্ষোভে পুলিশ বাধা দেয়ার তাদের ধরে পেটায়!

বাংলাদেশসহ অনেক দেশের মানুষ এখনো করোনা ভ্যাকসিনের দুটো ডোজই পায়নি, বাংলাদেশে বুস্টার কেবল দেয়া শুরু হয়েছে৷ আফ্রিকায় প্রতি চারজন স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যে তিনজনই টিকা নেয়ার সুযোগই পাননি৷অথচ উন্নত দেশে সুযোগ পেয়েও অনেক মানুষ করোনা টিকা নিচ্ছে না৷ এর কারণ কি ? সরকারের প্রতি অবিশ্বাস, রাজনীতি , ধর্মীয় বিশ্বাস  এবং গণতন্ত্রের বিষয়ে হতাশা  নাকি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় আস্থা নেই? টিকা বিরোধীদের কেউ কেউ  বলছেন, কড়া বিধিনিষেধ বা টিকা বাধ্যতামূলক করে নাকি মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে৷ তবে বিভিন্ন দেশ বা অঞ্চল ভেদে বিক্ষোভের কারণের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা৷

যুক্তরাজ্যের ১০-২০ শতাংশ এবং জাপান ও ফ্রান্সের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ এখনো টিকা নিতে অনিচ্ছুক। আবার নিম্ন আয়ের অনেক মানুষের কাছেই টিকাকেন্দ্রে যাওয়ার খরচ বেশি মনে হয়ে থাকে।এর ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে সাংস্কৃতিক যুদ্ধ। অনলাইনে অনেকেই বলে বেড়াচ্ছেন যে যারা টিকা নিতে চান না তারা হয় মূর্খ, নয়তো স্বার্থপর। তবে মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের টিকা নিতে অনীহার পেছনে বেশ কিছু জটিল কারণ রয়েছে।

টিকা নিতে অনিচ্ছুক সবাই-ই যে টিকাবিরোধী, ব্যাপারটা এমন নয়। টিকায় অনাগ্রহীদের বড় একটা অংশেরই কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা নেই। তারা এমনকি বিজ্ঞানবিরোধীও নন। এই মানুষগুলো আসলে টিকা নেবেন কি নেবেন না, তা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন।

মহামারি করোনায় জার্মানিতে এ পর্যন্ত মারা গেছেন মোট ১১৪.০০০ মানুষ৷ আর সারা বিশ্বে করোনা কেড়ে নিয়েছে প্রায় ৫৫,০০,০০০ মানুষ ৷ আশার কথা করোনার টিকা পাওয়ার পর বিশ্বে মৃত্যুহার কমেছে এবং টিকা নেওয়ার পরেও যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছে তারা সহজেই সেরে উঠেছে৷

করোনায় আক্রান্ত হয়ে যারা এ পর্যন্ত মারা গেছে তাদের একটি বড় অংশের টিকা দেয়া ছিল না৷ সংক্রমণের ঊর্ধগতির একটা বড় কারণ, মানুষের টিকার প্রতি অনীহা৷ ইউরোপে টিকা নেয়ায় পিছিয়ে পড়া দেশগুলোর মধ্যে একটি জার্মনি৷ জার্মানিসহ তথাকথিত উন্নত দেশগুলোর কিছু মানুষ টিকা না নিয়ে ইচ্ছেমতো করোনা ছড়ানোর সুযোগ করে দিচ্ছে৷ আর কিছুদিন পরপরই আসছে করোনার নতুন নতুন সংস্করণ৷ সত্যিই, কত গরিব দেশের মানুষ টিকা চেয়েও পায়না, আর ধনী দেশের মানুষেরা টিকা পেয়েও নিতে চায়না৷

এ সমস্যার সহজ সমাধান নেই। তবে স্বাস্থ্য-কর্তৃপক্ষ টিকার ব্যাপারে সহজে বোধগম্য ও সঠিক তথ্য প্রচার করতে পারে। উদ্বেগ নিরসনের জন্য করোনার তুলনায় টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি যে একেবারেই কম, তা নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো যেতে পারে। মানুষকে সচেতন করার জন্য তথ্যচিত্র প্রদর্শন হতে পারে।সরকারগুলোর উচিত জনগণের কাছে প্রতিনিয়ত টিকা সম্পর্কে সঠিক তথ্য সরবরাহ করা।