বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন: চতুর্থবার সংশোধনের প্রস্তাব

0
5

উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের উদ্দেশ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পুনরায় সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় চতুর্থবারের মতো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য প্রণীত আইন সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবিত চতুর্থবার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধন নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

নতুন আইনে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের লক্ষ্যে সংশোধিত আইনের একটি খসড়া দ্রুত সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে । তবে প্রস্তাবিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন–২০২৫ (সংশোধিত) পর্যালোচনা করে দেখা যায়, খসড়া প্রণয়নের পদ্ধতি, উদ্দেশ্য ও দৃষ্টিভঙ্গির কারণে বেসরকারি উদ্যোগ নিরুৎসাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উচ্চশিক্ষা সম্প্রসারণের পরিবর্তে এটি এক ধরনের সংকীর্ণ ও নিয়ন্ত্রণমূলক মানসিকতার প্রতিফলন, যা ‘বেসরকারি’ শব্দের মৌলিক অর্থ ও দর্শনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

প্রস্তাবিত আইনের খসড়াটিতে আমলাতান্ত্রিক মানসিকতায় প্রশাসনিক আধিপত্যকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ফলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দুর্বল হয়ে পড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে সংকোচনের মুখে পড়বে। একটি কার্যকর নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক তুলনামূলক বিশ্লেষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সে ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই তড়িঘড়ি করে চতুর্থবার সংশোধনের প্রস্তাব করা হলো । এই আইনে উচ্চশিক্ষার উন্নয়নের চেয়ে নিয়ন্ত্রণ, নিষেধাজ্ঞা, দণ্ডমূলক ধারা ও প্রশাসনিক কর্তৃত্বই প্রাধান্য পেয়েছে, যা নীতিনির্ধারণী সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

সংশোধনের পক্ষে মত দেওয়া হচ্ছে এই যুক্তিতে যে একটি কঠোর আইন না থাকলে কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা মানের সঙ্গে আপস করে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের দিকে ঝুঁকে পড়বে। রাষ্ট্রের তদারকি বাড়লে শিক্ষার্থীদের অধিকার সুরক্ষিত হবে, ডিগ্রির মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য হবে এবং উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, অতিরিক্ত সরকারি নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয়তা ও একাডেমিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবে । আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বাড়লে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হবে, যা শিক্ষা ও গবেষণার গতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর। এছাড়া উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করলে ভবিষ্যতে বেসরকারি খাতে উচ্চশিক্ষার বিনিয়োগ কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তাছাড়া দেশে অনেক আনি আছে যার মাধ্যমে সুবিচার পাওয়া যাবে।

গত ৩৩ বছরে বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রশংসনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে। QS ও THE-এর মতো আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে দেশের কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। পর্যাপ্ত দেশীয় অধ্যাপক থাকা সত্ত্বেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবদানকে খাটো করে দেখা হচ্ছে। বিদ্যমান বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন–২০১০ আদৌ সংশোধনের প্রয়োজন আছে কি না—এ প্রশ্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি ও বিশিষ্টজনদের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই তোলা হয়েছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের বাড়তি আগ্রহের ফলে মানোন্নয়নের প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রদান করতে সক্ষম হয়েছে। তবে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের মান এক হবে—এটি বাস্তবসম্মত নয়। প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব লক্ষ্য, নৈতিকতা ও বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুসারে টিকে থাকার চেষ্টা করে। এই স্বাভাবিক বৈচিত্র্যকে আইনের মাধ্যমে দমন করা সমীচীন নয়।

খসড়া আইনের ৮(চ) ধারায় বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ৯ শতাংশ আসনে সম্পূর্ণ বিনা খরচে অধ্যয়নের সুযোগ এবং ৮(ছ) ধারায় গবেষণায় ২ শতাংশ বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। তবে এই বিধানগুলো অস্পষ্ট এবং বাস্তব প্রয়োগের কার্যকর কাঠামো অনুপস্থিত, ফলে এগুলো কাগুজে বিধানে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিক্ষার মানোন্নয়ন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পাঠ্যক্রমের আধুনিকতা ও বৈচিত্র্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়, যার ইতিবাচক প্রভাব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও পড়ছে। তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল মার্কেটিংসহ আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদাসম্পন্ন বিষয়গুলো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দ্রুত অন্তর্ভুক্ত করতে পারছে। কিন্তু প্রস্তাবিত আইনের প্রশাসনিক জটিলতা পাঠ্যক্রম উন্নয়নের এই গতিশীলতাকে স্থবির করে দেবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে প্রচলিত ট্রাস্ট আইন, ১৮৮২ প্রায় ১৩৫ বছর পুরোনো এবং অত্যন্ত জটিল। এই আইন মূলত সম্পত্তি হস্তান্তর ও উত্তরাধিকার কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য উপযোগী নয়। যেহেতু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, তাই এ খাতের জন্য পৃথক একটি ট্রাস্ট আইন প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে বিভিন্ন সরকারি ট্রাস্টের জন্য আলাদা আলাদা আইন প্রণয়ন করা হয়েছে—এটি তারই প্রমাণ।

ট্রাস্টিদের ক্ষমতা কমিয়ে দিয়ে ইউজিসির প্রতিনিধি বা সরকারি প্রভাব বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টিরা বিপুল ব্যক্তিগত ও আর্থিক ঝুঁকি নিয়ে নিজেদের সঞ্চয় বিনিয়োগ করে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলেন । সরকারি সহায়তা ছাড়াই তাঁরা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছেন এবং সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর চাপ কমাচ্ছেন। দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে তাঁদের অবদান অনস্বীকার্য। অথচ, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে তাদের কোন ভূমিকা রাখা হয়নি । বরং প্রস্তাবিত সংশোধিত আইনে ট্রাস্টি বোর্ডের গঠনে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। একই পরিবারের পাঁচজনের বেশি সদস্য ট্রাস্টি বোর্ডে থাকতে পারবেন না, সদস্যসংখ্যা সর্বোচ্চ ১৫ ও সর্বনিম্ন ৯ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এক-তৃতীয়াংশ নারী সদস্য রাখার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। তবে যেসব বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডে ১৫ জনের বেশি সদস্য বা কোনো নারী সদস্য নেই, তাদের জন্য রূপান্তরে জটিলতা তৈরী হবে।

প্রস্তাবিত ৯ ধারায় উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য সাত সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে, যেখানে ইউজিসির একজন সদস্য থাকবেন। ১১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একজন সদস্যের পক্ষে এই দায়িত্ব পালন বাস্তবসম্মত নয়। তাছাড়া শুধুমাত্র শিক্ষকতার অভিজ্ঞতাকে যথেষ্ট ধরে অধ্যাপক না হয়েও এসব পদে নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে, যা উচ্চশিক্ষার মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করবে । এত বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ থাকলে প্রশ্ন উঠবে—এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আদৌ কতটা বেসরকারি থাকবে?

খসড়া আইনের ২৩ ধারায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো সরকারি স্কেলের অন্যূন ২০ শতাংশ বেশি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা একটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ। ২৯ ধারায় অর্থ কমিটির সভাপতি হিসেবে কোষাধ্যক্ষকে প্রস্তাব করা হয়েছে, যিনি একজন বেতনভুক্ত কর্মকর্তা, ট্রাস্টি নন। এ কমিটির অন্যান্য সদস্য থাকবেন, উপ-উপাচার্য,  বোর্ড অব ট্রাস্টিজ কর্তৃক দুজন, উপাচার্য কর্তৃক একজন, সিন্ডিকেট কর্তৃক দুজন । বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০-এ অর্থ কমিটির সভাপতি ছিলেন ট্রাস্টি থেকে । প্রস্তাবিত কমিটিতে অতিরিক্ত বহিরাগত সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যাদের অর্থ সংগ্রহ বা জোগানে কোনো ভূমিকা নাই। এতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হবে, প্রশাসনিক জটিলতা বাড়ার সম্ভাবনা থাকে এবং নিয়োগ বাণিজ্য প্রশারিত হবে। ।

সংশোধনী আইনেরর ৪৪ ধারায়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তাদের শিক্ষার্থীর ফি নির্ধারণের জন্য ইউজিসির অনুমোদন নেয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। সরকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কোনো অনুদান দেয় না, বরং কোন অনুদান পেতে হলে অনুমোদন প্রয়োজন হয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের মান, গবেষনা, পরিবেশ ও বেতন কাঠামোর অনুযায়ী সাধারনত শীর্ক্ষথীদের ফি নির্ধারণ করেন । সরকারের অনুমোদন নিয়ে ফি নির্ধারণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকে ব্যহত করবে। অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে কোন কর দেওয়ার বিধান না থাকলেও কর প্রদান করার বাধ্য করা হচ্ছে। এতে এসব প্রতিষ্ঠানের স্বকীয়তা ও উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।

ধারা-৫০ অনুযায়ী চাকরি প্রবিধানমালা কমিশন থেকে অনুমোদনের কথা বলা হয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বেতন ও নিয়োগ বিধিমালা তাদের নিজস্ব বিষয় হওয়া উচিত। কমিশনকে কেবল এ বিষয়ে অবহিত রাখা যেতে পারে, কিন্তু অনুমোদন নেওয়ার প্রক্রিয়াটি প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার পরিপন্থী।

বিশিষ্টজনদের মতে, প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ রক্ষার পরিবর্তে নিয়ন্ত্রণ আরোপেই বেশি মনোযোগী। চাকরির নিরাপত্তা, শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা কিংবা শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উপেক্ষিত হয়েছে । কোনো সহযোগিতা ছাড়াই কেবল নিয়ন্ত্রণ আরোপ এই আইনের মূল দর্শন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দেশে বর্তমানে অনুমোদিত ১১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১০৫টিতে পাঠদান চলছে এবং শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় চার লাখ। সংশোধিত আইন কার্যকর হলে এসব প্রতিষ্ঠানে সরকারি আমলাতান্ত্রিক সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়া হবে, যা গতিশীলতা নষ্ট করবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন–২০১০ সামগ্রিকভাবে গ্রহণযোগ্য। কিছু অনিয়মের কথা বলে আইনটিকে সংশোধন করা হলে শিক্ষানুরাগী ট্রাস্টিরা নিরুৎসাহিত হবেন। প্রস্তাবিত খসড়া আইন বাতিল করে প্রয়োজনীয় কিছু ধারা বিদ্যমান আইনে সংযোজন করলেই আইনটি আরও আধুনিক ও কার্যকর হতে পারে।

বেসরকারি খাতের উন্নয়ন ছাড়া দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। বাংলাদেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও টেকসই স্মার্ট দেশে রূপান্তরের পথে এই ধরনের সংকীর্ণ আইন বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। যে কোনো আইন যুগোপযোগী হওয়া প্রয়োজন। তবে সেই দৃষ্টিভঙ্গি হতে হবে দূরদর্শী, উদার ও বৈশ্বিক মানসম্পন্ন। সংকীর্ণ নিয়ন্ত্রণমূলক আইন দেশের টেকসই উন্নয়নের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে।

চতুর্থবার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধনের প্রস্তাব নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। গুণগত মান উন্নয়ন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে এই প্রস্তাব আনা হলেও, এটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে এই সংশোধন যেন কেবল নিয়ন্ত্রণমূলক না হয়ে গঠনমূলক হয়, সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া জরুরি। সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মতামতের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ আইন প্রণয়নই পারে মানসম্মত, টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে।

সুপারিশসমূহ:

১। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস স্থাপন বিদ্যমান বিধিমালা ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০’ এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি দেশের বেসরকারি পর্যায়ে ক্রমবিকাশমান উচ্চশিক্ষা খাতে ব্যাপক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করতে পারে। এ বিষয়ে দেশীয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বার্থের পরিপন্থী যেন না হয়, সেদিকে নজর দেওয়া দরকার ।

২। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্ট গঠন ও পরিচালনার জন্য আলাদা ট্রাস্ট আইন নাই, আলাদা ট্রাস্ট আইন করলে দেশের উচ্চ শিক্ষাব্যবস্থা সংকীর্ণতার হাত থেকে রেহাই পাবে । বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সক্ষমতা গুণগত শিক্ষার মান নিশ্চিত করা যাবে।

৩। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপন করতে গিয়ে ট্রাস্ট সদস্যরা নিজের সর্বস্ব বিনিয়োগ করেন, কোটি কোটি টাকা ঋণ নেন, মূল্যবান সময়, মেধা ব্যয় করেন; পরিচালনা ব্যয়সহ উন্নয়ন কার্যক্রমে ট্রাস্টিদের নিয়মিত অর্থের সংস্থান করতে হয়। তাই তাঁদের অধিকার আইনে প্রতিষ্ঠিত না হলে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় অচলা সৃষ্টি হতে পারে ।

৪। উপাচার্য (ভিসি) প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনে তিন জন করে অধ্যাপক মোট নয় জন অধ্যাপকের নাম পাঠাতে হয়, যা অত্যন্ত দুরুহ এবং বিব্রতকর । তাই উক্ত পদ সমূহে তিন জনের পরির্বতে একজনের নাম প্রস্তাব করা হলে সম্মনীত অধ্যাপকরা বিব্রতকর অবস্থা থেকে রেহাই পাবেন।

৫। সমাবর্তনের মতো নিয়মিত আয়োজনগুলো বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় করার পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া।