চীনের পথে প্রধানমন্ত্রী

0
842

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীনের প্রধানমন্ত্রী লী কেকিয়াংয়ের আমন্ত্রণে পাঁচদিনের সরকারি সফরে চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন।

বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চীনের উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

সফরকালে তিনি বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেবেন এবং চীনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। চীনের দালিয়ানে ১ থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত এ সম্মেলন চলবে। সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘অ্যানুয়েল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্স-২০১৯’, যা ডব্লিউইএফ সামার দাভোস নামেও পরিচিত।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সফরকালে শেখ হাসিনা চীনের প্রধানমন্ত্রী লী কেকিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী দালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে অনুষ্ঠেয় ডব্লিউইএফ সামার দাভোস সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেবেন। শেখ হাসিনা বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী চেয়ারম্যান ক্লস শোয়াবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।বিকালে দালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে শোয়াবের দফতরে অনুষ্ঠেয় ‘কো-অপারেশন ইন দ্য প্যাসিফিক রিম’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

৩ জুলাই প্রধানমন্ত্রী চীন সরকারের সরবরাহকৃত একটি ভাড়া করা বিমানে স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় বেইজিংয়ের উদ্দেশে দালিয়ান ত্যাগ করবেন। একই দিন বিমানটি স্থানীয় সময় বেলা ১২টা ২৫ মিনিটে বেইজিং ক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনাল বিমানবন্দরে পৌঁছবে। বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রীকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে দিয়ায়োতাই স্টেট গেস্ট হাউসে নিয়ে যাওয়া হবে। চীনের রাজধানীতে সফরকালে শেখ হাসিনা এই হোটেলেই অবস্থান করবেন। বিকালে তিনি বেইজিংয়ের লিজেনডাল হোটেলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া এক সংবর্ধনা ও নৈশভোজে যোগ দেবেন।

৪ জুলাই দুপুরে চীনের প্রধানমন্ত্রী কেছিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন শেখ হাসিনা। বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। দুপুরে চীনা প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ভোজে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা। এ দিন বিকালে চীনের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

৫ জুলাই বিকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাতে চীনা প্রেসিডেন্টের দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি।৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

চীন সফরকালে বাংলাদেশ এবং চীন অর্থনৈতিক, বিদ্যুৎ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে আটটি চুক্তি স্বাক্ষর করবে।

এগুলো হচ্ছে-

১. ডিপিডিসি এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্প্রসারণ এবং শক্তিশালীকরণে ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি।

২. গভর্মেন্ট কনসেশনাল লোন এগ্রিমেন্ট অব এক্সপানশন অ্যান্ড স্ট্রেন্দেনিং অব পাওয়ার সিস্টেম নেটওয়ার্ক আন্ডার ডিডিডিসি এরিয়া প্রজেক্ট।

৩. প্রেফারেন্সিয়াল বাইয়ার্স ক্রেডিট লোন এগ্রিমেন্ট অব এক্সপানশন অ্যান্ড স্ট্রেন্দেনিং অব পাওয়ার সিস্টেম আন্ডার ডিপিডিসি এরিয়া প্রজেক্ট।

৪. ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট অব পাওয়ার গ্রিড নেটওয়ার্ক স্ট্রেন্দেনিং প্রজেক্ট আন্ডার পিজিসিবি প্রজেক্ট।

৫. এগ্রিমেন্ট অন ইকোনমিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল কোঅপারেশন বিটুইন দি গভর্নমেন্ট অব দি পিপল’স রিপাবলিক অব বাংলাদেশ অ্যান্ড গভর্নমেন্ট অব দি পিপল’স রিপাবলিক অব চায়না।

৬. মেমোর্যান্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (এমওইউ) অন দি ইস্ট্যাবলিশমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট কোঅপারেশন ওয়ার্কিং গ্রুপ।

৭. এমওইউ অ্যান্ড ইটস ইমপ্লিমেন্টেশন প্ল্যান অন হাইড্রোলজিক্যাল ইনফরমেশন শেয়ারিং অব ইয়েলো জাংবো/ব্রহ্মপুত্র রিভার।

৮. সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং পর্যটন সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক।

বিএম/এমআর