আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতা : সম্ভাবনা ও করনীয়

0
530

আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতা : সম্ভাবনা ও করনীয়

প্রফেসর ড. ইসরাত জাহান

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলির মধ্য থেকে তথা শিক্ষার্থীদের মাঝে সুষ্ঠ প্রতিযোগিতা মুলক মনোভাব তৈরীর লক্ষ্যে একাডিমিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক সহপাঠ্যক্রমিক র্কাযক্রম যেমন, ক্রিকেট, ফুটবলসহ সব ধরনের খেলাধুলা প্রায় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই হয়ে থাকে । কিন্তু আন্ত-বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতা খুব একটা দেখা যায় না । ঢাকাতে বিক্ষিপ্ত ভাবে হলেও চট্টগ্রামে বা দেশের অন্য কোথাও হয় না।

শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি খেলাধুলা উন্নয়নে চট্টগ্রামে একক প্রচেষ্টায় ও পৃষ্টপোষকতায়  আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় টুর্নামেন্ট প্রথম অনুষ্ঠিত হয় ২০০০ সালে । বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও ক্রীড়ানুরাগী  প্রফেসর সরওয়ার জাহানের উদ্যোগে চট্টগ্রামের চারটি(৪)বিশ্ববিদ্যলয় নিয়ে দামপাড়া পুলিশ লাইনের মাঠে প্রথম আন্ত-বিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয় ।

দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৫ সালে আটটি (৮) বিশ্ববিদ্যলয় নিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয়  ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় চট্টগ্রাম মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের মাঠে পূনরায় প্রফেসর সরওয়ার জাহানের উদ্যোগে দখিনা আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট শুরু হয়। অংশগ্রহনকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপর্চায্যমহোদয়গন উপস্থিত ছিলেন। মাননীয় মেয়র উদ্ভোদন অনুষ্ঠান এবং সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে  টুর্নামেন্টকে  উৎসাহ দিয়েছেন। তাঁরই সহযোগিতায় ফাইনাল খেলাগুলি এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে অনষ্ঠিত হয়।  অত্যন্ত উৎসব মুখর পরিবেশে সফলভাবে পাঁচটি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ইতি মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে । চট্টগ্রাম বিভাগীয় এবং জেলা  ক্রীড়া সংস্থার ধারাবাহিক সহযোগিতা এবং আয়োজনের কারনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে খেলাধুলায় একটি সুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়েছে । প্রতিযোগি খেলোয়াড়রা স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ক্লাবে, জাতীয় এবং আর্ন্তজাতীক পর্যায়ে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে তাদের সক্ষমতার প্রমান দিয়েছে । যাদের মধ্যে ইয়াছির আলী(রাব্বি), ইরফান শুক্কুর , সাজ্জাদুল হক রীপন, নাইম হাসান  উল্লেখযোগ্য । অন্য জেলা থেকেও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় দখিনা আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় টুর্নামেন্টে অংশগ্রহন করতে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে এবং দখিনা আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় টুর্নামেন্টে ক্রিড়া সংঘটকদের মধ্যে আলোচনা বিষয়ে পরিনত হয়েছে।

দখিনা আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের সফলতায় , অংশগ্রহনকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অনুপ্রেরনায়, ফুটবল খেলওয়াড় শিক্ষার্থীদের আকাঙ্খার কারনে ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম দখিনা আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টের আসর। দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট পর্যায়ের চট্টগ্রামের ১০টি দল এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেছিল। উৎসব মুখর পরিবেশে সফলভাবে টুর্নামেন্ট শেষ করায় এবারও ধারাবাহিকভাবে  টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হচ্ছে । এবারের টুর্নামেন্টে মোট ৯টি দল অংশগ্রহণ করছে। এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার (সিজেকেএস)-এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ও মাসিক দখিনার আর্থিক সহযোগিতায় আয়োজিত হচ্ছে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০১৯ । প্রধান অতিথি হিসেবে এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাসিক দখিনার সম্পাদক প্রফেসর সরোয়ার জাহান ও পিওরিয়া ফুড প্রোডাক্টস লি. এর পরিচালক মো. কফিল উদ্দিন ।

দেশের বিভিন্ন ক্লাবের খেলায় এখন আর অগের মত  দর্শক দেখা যায় না পাওয়াও যায়না, যত বড় বাজেটের খেলা হউক না কেন , খেলার মাঠের আনন্দ এখন আর নাই। তবে বিদেশী দলের খেলাতো ভিন্ন কথা । খেলার মাঠে দর্শক  আনতে পারে একমাত্র এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলিই । আর তার প্রমানও মিলছে চট্টগ্রামে দখিনা আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় টুর্নামেন্ট ।

আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় টুর্নামেন্ট একটি সময় উপযোগী টুর্নামেন্ট যা শিক্ষার্থীদের আন্তরিক চাওয়া। সঠিক ব্যবস্থাপনায় এধরনের র্টুনামেন্ট জাতীয় পর্যায়ে সকল বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে আয়োজন করা সম্ভব  । যার ফলে এ টুর্নামেন্টগুলি থেকেই দেশে উঠে আসবে সুশিক্ষিত সুশৃংখল জাতীয় পর্যায়ের মান সম্পন্ন খেলোয়াড়। এছাড়া পৃষ্ঠপোষকতা পেলে খেলোয়াড় বের করে আনার জন্য এধরনের টুর্নামেন্ট রাখতে পারে উল্লেখযোগ্য অবদান । খেলাধুলা চর্চা ও প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে যুব সমাজকে রক্ষা ও খেলাধুলার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে যুকান্তরি ভূমিকা রাখতে পারে এই আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতা। আগ্রহী বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে যদি আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় টুর্নামেন্টে সঠিক ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করা হয়, এতে সকলের জন্য অর্থাৎ দেশ, প্রতিষ্ঠান, নগরবাসী সকলেই উপকৃত হবে। দেশ সুশৃঙ্খল শিক্ষিত খেলোয়াড় পাবে । যারজন্য জনগনের বা রাষ্টিয় কোষাগার থেকে কোন টাকা খরচ হবেনা ।  যে বিশ্ববিদ্যালয় টুর্নামেন্টে অংশগ্রহন করবে তারা তাদের প্রয়োজনে বাজেট রাখবে , প্রশিক্ষক রাখবে ও খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষন দিবে, খেলোয়াড়দের জন্য ভর্তির কোটা থাকবে । লেখাপড়ার পাশাপশি খেলাধুলা বিশ্ববিদ্যালয়ের সারা বৎসরের র্কাযক্রমের অর্ন্তভুক্ত হবে, শিক্ষার্থীরা ফিরে আসবে সুস্থ চর্চা ও সুস্থ প্রতিযোগিতার দিকেই। বিশ্ববিদ্যালয়গুলি প্রতিযোগিতার দিকে মনোনিবেশ করবে । উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুশৃঙ্খলতা গড়ে উঠবে। যুবসমাজের ভাল একটি অংশ সমাজের অনুকরনীয়  হয়ে থাকবে । অপসংস্কৃতি অপরাজনীতি মাদকানেশা বা অন্য যে কোন বাজে কাজ থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করা সহজ হবে।

চট্টগ্রামে এই আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় টুর্নামেন্টের সুবাদে অংশগ্রহনকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলি নিজেদের প্রয়োজনে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার লক্ষে খেলোয়াড়দেরকে নিয়মিত প্রশিক্ষন দিচ্ছে, প্রশিক্ষক রেখেছে, বাজেটে রেখেছে, খেলোয়াড় কোটায় বিনাবেতনে অধ্যয়নের শুযোগ দিচ্ছে। খেলাধুলার জন্য আলাদা বিভাগ করেছে । যারফলে প্রতি বৎসর যখন চট্টগ্রামে দখিনা আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় টুর্নামেন্টের আয়োজন হয় , তখন অংশগ্রহনকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে উৎসব মুখর হয়ে উঠে। সোশাল মিডিয়ায় সহ সবত্র টুর্নামেন্টে নিয়েই বাহাস চলতে থাকে । চট্টগ্রামের সবকটি সরকারী-বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় এই প্রতিযোগিতায় খেলেছে এবং আনন্দচিত্তে প্রতিযোগিতায় থাকার আগ্রহ দখায় । চট্টগ্রামের অংশগ্রহনকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতে  চট্টগ্রামে দখিনা আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় টুর্নামেন্টে এঅঞ্চলের উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগিুলির জন্য ছোট্ট বিশ্বকাপের প্রতিযোগিতা।

তবে আরও সুন্দরভাবে এই আয়োজন করা সম্ভব । অপরিকলপিত বেধে দেওয়া সিমিত সময়ের মধ্যে দল গুছিয়ে মাঠে নামা দলগুলির জন্য যেমন কঠিন তেমনি যারা  টুর্নামেন্ট পৃষ্ঠপোষকতা বা আথিক সহায়তা প্রদান করবেন তাদেরকে বুঝিয়ে আনা সহজ কাজ নয়। এখানে মনে রাখা দরকার অংশগ্রহনকারী দল সমুহ কোন খেলাধুলার দল বা সংঘঠন নয় ,এক একটি উচ্চ শিক্ষপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্কাযক্রমই প্রদান, তাই তাদের চলমান র্কায়ক্রম বাদ দিয়ে শুধু র্টুনামেন্টের কথা ভাবলে চলে না। সঠিক ব্যবস্থাপনা যদি না হয় যারা  টুর্নামেন্ট পৃষ্ঠপোষকতা করার আগ্রহ দেখান তা হারিয়ে যেতে পারে । সুন্দর উদ্দোগ অব্যবস্থাপনা বা অপেশাদারিত্বের কারনে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও খেলার মাঠ না থাকা এবং আর্থিক সীমা বদ্ধতাতো আছেই । অথচ সঠিক উদ্দোগের অভাবে খেলাধুলায় বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা  থাকার পরও আমরা পিছিয়ে আছি, সমগ্র বাংলাদেশ আজ ক্রিকেটপ্রেমী । ছোট্ট শিশুও স্বপ্ন দেখে সাকিব,তানিম, মুশফিকের মত হওয়ার । এরই সুবাদে, সার্দান ইউনির্ভাসিটির উদ্দোগতা প্রফেসর সরওয়ার জাহানের উদ্দোগে অনেকটা বলা যায় সময় এবং সুযোগের সৎব্যবহার ।

শুভকামনা রইল অংশগ্রহনকারী দলগুলির প্রতি।

ধন্যবাদ আয়োজক ও উদ্দোগতার প্রতি।