শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত জাতীয় স্মৃতিসৌধ

0
753

 

রাত ফুরালেই মহান বিজয় দিবস। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ। দিনটিকে ঘিরে সৌধচত্বর ও এর আশপাশে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দিবসের শুরুতেই সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ ভরে উঠবে ফুলে ফুলে। মহান বিজয় দিবসে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষ।

একাত্তরের নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম আর লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বিজয়ের মধ্য দিয়ে ইতিহাসে পাতায় জন্ম নেয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবন দেয়া সেসব বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকার অদূরে সাভারে ১০৮ একর জায়গার উপর নির্মিত হয় জাতীয় স্মৃতিসৌধ। মহান বিজয় দিবসে বাঙালি জাতির সেসব শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিবছরের মতো সৌধ চত্বরের সৌন্দর্যবর্ধনে ইট-সিমেন্টের স্থাপনার সংস্কার, ধোয়া-মোছা ও মেরামত শেষে রং-তুলির আঁচড়ে রাঙানোসহ কেটে ছেটে পরিষ্কার করা হয়েছে উদ্যানের সবুজ ঘাস, উপড়ে ফেলা হয়েছে ফুল বাগানের আগাছা। ঝরনাধারা, ল্যাম্প পোস্টের বাতি, লেকেরধার, অভ্যর্থনা কেন্দ্রের সৌন্দর্য বৃদ্ধিসহ সৌন্দর্য বর্ধনের সকল প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।

মাসব্যাপী সৌধ চত্বরের সৌন্দর্যবর্ধনসহ বিজয় দিবস উদযাপনের সকল প্রস্তুতি শেষ হয়েছে বলে জানালেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম। মন্ত্রী জানান, নিরাপত্তার কারণে ৮ ডিসেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত জনসাধারণের প্রবেশ নিষেধ করা হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর ভোরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।
যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনে নবম পদাতিক ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া তিন বাহিনী সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর গার্ড অব অনারের মহড়ার সকল প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। বিজয় দিবসে সৌধচত্বর ও এর আশপাশের নিরাপত্তায় বিশেষ নজরদারি রাখবার কথা জানালেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার। এবিষয়ে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার আরো জানান, বিজয় দিবসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে আমিনবাজার থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত মহাসড়কে ব্যাপক নিরাপত্তা গ্রহণ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে র‌্যাব, পুলিশ ও সিভিল পোশাকের পুলিশের পাশাপাশি থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স। সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে গোটা স্মৃতিসৌধ চত্বর। এছাড়া ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উভয় পাশে আমিনবাজার থেকে নয়ারহাট পর্যন্ত সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরিং করা হচ্ছে।