নগর স্বাস্থ্যসেবার বর্তমান পরিস্থিতি ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাছে প্রত্যাশা

0
886

নগর স্বাস্থ্যসেবার বর্তমান পরিস্থিতি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাছে প্রত্যাশা

নাজিমুদ্দীন শ্যামল

স্বাস্থ্যসেবা প্রদান বা হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপনা সিটি কর্পোরেশনের মূল কাজ নয় নগরীর পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা সুরক্ষা করা নগরবাসীকে নাগরিক সেবা সুনিশ্চিত করাই সিটি কর্পোরেশনের প্রধান কাজ রাস্তাঘাট সুন্দর রাখা, মেরামত করা, নালা নর্দমা সচল রাখা ইত্যাদি সিটি কর্পোরেশনের মূল কাজ এসব কথা অত্যন্ত সত্য কিন্তু যে নগরীতে নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা একেবারেই অপ্রতুল যেখানে সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা বা চিকিৎসা পেতে গুটি কয়েক সরকারি হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল, সেখানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যকেন্দ্র হাসপাতাল নির্মাণ করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলো এসব হাসপাতাল স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সকল পরিচালনা সক্রিয়তার ফলে নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা চিকিৎসার চাহিদা অনেকখানি মিঠতো এসব বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা এসবের বেহাল অবস্থা কারো কাম্য হতে পারে না

বৃহত্তর চট্টগ্রামের এক কোটির বেশি নাগরিকের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল একমাত্র আশ্রয়স্থল বলা চলে। মাত্র ১ হাজার ৩১৩ বেডের এই হাসপাতালে প্রতিদিন চার-পাঁচহাজার রোগী গাদাগাদি করে চিকিৎসার জন্য থাকে। অনেক কিছুর পরিবর্তন ও উন্নয়ন হলেও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটির চাহিদানুসারে আশানুরূপ কোন উন্নয়ন বিগত বা বর্তমান সরকারের আমলে হয়েছে বলে দৃশ্যত দৃশ্যমান হয় না। এতদাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে রয়েছে। কিন্তু এগুলোতে চিকিৎসক ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধার অপ্রতুলতা মানুষের স্বাস্থ্যসেবা বিঘিœত হওয়ার জন্য যথেষ্ট। আর এই সুযোগ চট্টগ্রামে প্রায় আড়াই শতাধিক বৈধ-অবৈধ ক্লিনিক তৈরী হয়ে গেছে প্রাইভেটভাবেই। এই সব ক্লিনিকের চিকিৎসার মান নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও এগুলোর গুণগত মান মনিটরিং-এর কোন ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না সরকারিভাবে। তদুপরি কতিপয় এনজিও বিদেশি ফান্ড পাওয়া সাপেক্ষে কিছু ক্লিনিক পরিচালনা করছে। এসব ক্ষেত্রে দুয়েক জন হতদরিদ্র মানুষকে কম পয়সায় চিকিৎসা প্রদান করা হলেও অভিযোগ রয়েছে যে, এসব ক্লিনিকও অনেকটা প্রাইভেট ক্লিনিকের মতোন টাকা আদায় করছে।

এসব চিত্র বিস্তারিত তুলে ধরতে গেলে কিংবা আরো বিশদভাবে বলতে গেলে দেখা যাবে এতদাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্য বা চিকিৎসার ব্যবস্থা এতই অপ্রতুল যে, মানুষগুলো কিভাবে বেঁচে আছে তা ভাবলেও অবাক হয়ে যেতে হয়। এখানে হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য কোন স্পেশালাইজড হাসপাতাল নেই, নেই ক্যান্সার বা এরকম জটিল রোগের চিকিৎসার কোন ব্যবস্থা। মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশু স্বাস্থ্যের জন্য উন্নতমানের কোন চিকিৎসা ব্যবস্থাও চোখে পড়ে না। চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল প্রয়াত প্রকৌশলী এল কে সিদ্দিকী সহ অনেক সুধীজনের উদ্যোগে চালু হয়েছিলো, তাও এক ধরনের সিন্ডিকেট প্রথার কাছে জিম্মি হয়ে অনেকটা রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই হাসপাতালে একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজও চালু করা হয়েছে। কিন্তু এর পরিচালনার ক্ষেত্রে আমরা যদি বিগত ১০/১৫ বছরের চিত্র বিবেচনা করি তবে দেখতে পাবো এক ধরনের দখলদারিত্ব বহাল রয়েছে এবং মানুষের চাঁদার টাকায় নির্মিত গণমানুষের সেবামূলক এই প্রতিষ্ঠানটির নানা পদ দখলের নোংরা প্রতিযোগিতাও দৃশ্যমান। একইভাবে চট্টগ্রাম ডায়বেটিস সমিতি ও চট্টগ্রাম ডায়বেটিস হাসপাতালটিও দখলদারিত্বের কাছে জিম্মি হয়ে আছে দশকের পর দশক ধরে। যদিও এসব হাসপাতাল মানুষের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনুদানে নির্মিত, কারো ব্যক্তিগত টাকায় এসব তৈরী হয়নি, কিন্তু সদস্যপদ প্রদান, নির্বাচন, পরিচালনা কমিটি দখলের তথাকথিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ইত্যাদি মিলে এইগুলো বর্তমানে যেন সিন্ডিকেটের দখলদারিত্বে ব্যক্তিমালিকানাধীন ক্লিনিকে বা হাসপাতালের মতো রূপ লাভ করতে যাচ্ছে বা ইতোমধ্যেই করেছে।

এসব চিত্র বড়ই হতাশাজনক। এর মধ্যে আমরা দেখেছিলাম চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ৪১ ওয়ার্ডের অনেকগুলোতে হাসপাতাল নির্মাণ ও পরিচালনা করেছিলো। চট্টগ্রামের অবিসাংবাদিত জননেতা আলহাজ্ব এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী তাঁর দীর্ঘ সতের বছর সময়কাল ধরে মেয়রের দায়িত্ব পালনকালীন এসব হাসপাতাল নির্মাণ ও পরিচালনা করেছিলেন। এতে সেই সময় চট্টগ্রামের মাতৃস্বাস্থ্য সেবা ও প্রসূতি সেবার ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছিলো। সাধারণ মানুষ প্রতিটি ওয়ার্ডের এসব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা পেত। ৫/১০ টাকা দিয়ে টিকেট করে মানুষের সাধারণ চিকিৎসাগুলো এখানে হতো। অনেক ক্ষেত্রে ঔষুধপত্রও বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে সরবরাহ করা হতো। শিশুদের টাকা বা অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা এসব হাসপাতাল বা কেন্দ্র থেকে অনেকটা সহজলভ্য ছিলো। পর্যপ্ত চিকিৎসক ও কর্মচারী ছিলো। তাছাড়াও বন্দরটিলা মেটারনিটি হাসপাতালের মতো অনেকগুলো বড় মেটারনিটি হাসপাতাল সচল ছিলো যেগুলোতে ডেলিভারির জন্য অপারেশন হতো ও প্রায় প্রতিটিতে অনেক রোগী ভর্তি থাকতো। এসব হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার সুনামও সারাদেশে ছিলো। সেক্ষেত্রে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সারাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। আমার এখনো মনে আছে বিএনপি সরকারের আমলে তৎকালীন এলজিআরডি মন্ত্রী আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া চাক্তাই খাল সহ বেশ কয়েকটি প্রকল্পের উদ্বোধন করতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে এসেছিলেন। সেসময় তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন মেয়র আলহাজ্ব এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন শিক্ষা ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভূমিকা ও অবদানের জন্য। তৎকালীন মেয়র তাঁকে সবিস্তারে বলেছিলেন বাজেটের স্বল্পতার মধ্যেও কিভাবে এগুলো পরিচালিত হচ্ছিলো। তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনেছিলেন। আরেকবার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের সকল সিটি কর্পোরেশনের মেয়রদের সাথে বৈঠকেও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের অবদান ও ভূমিকার প্রশংসা করে অন্যান্য মেয়রদের বলেছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রামের মেয়র থেকে আপনারা শিখে নেন কিভাবে স্বল্প বাজেটেও অনেক কাজ করা যায়।

আমার মনে আছে অনেক আগে আলহাজ্ব এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নির্বাচনী এক সভায় জননেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সভাস্থলে সবিস্তরে বলেছিলেন সারা দেশের অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনে বিএনপির মেয়ররা কি কাজ করেছে আর আওয়ামী লীগের মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে শিক্ষা, স্বাস্থ্যখাতে কি বিপ্লব ঘটিয়েছে তা জনগণ দেখেছে। তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতের ভূয়সী প্রশংসা করে আলহাজ্ব এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর জন্য ভোট চেয়েছিলেন।

কিন্তু সেসব এখন ইতিহাস। বিগত ৫/৬ বছরের আমরা দেখতে পেয়েছি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্যখাতের বেহাল অবস্থা। অনেকগুলো হাসপাতাল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর বেশিরভাগ এখন প্রায়শ বন্ধ থাকে। শুধুমাত্র জাতীয় টিকা সপ্তাহ বা এরকম ধরনের কর্মকান্ডে এগুলো খানিকটা সচল হয়। এসবের মধ্যে বেশিরভাগ চিকিৎসক থাকেন না। কর্মচারীরাও যে যার মতোন থাকে। সাধারণ মানুষ বা নগরবাসী এসব হাসপাতালে বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে আগের মতোন আর স্বাস্থ্যসেবা পান না। এসব ব্যাপারে এন্তার অভিযোগ থাকলেও সমস্যা সমূহ সমাধানের উদ্যোগ এ যাবৎ পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

স্বাস্থ্যসেবা প্রদান বা হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপনা সিটি কর্পোরেশনের মূল কাজ নয়। নগরীর পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা সুরক্ষা করা ও নগরবাসীকে নাগরিক সেবা সুনিশ্চিত করাই সিটি কর্পোরেশনের প্রধান কাজ। রাস্তাঘাট সুন্দর রাখা, মেরামত করা, নালা নর্দমা সচল রাখা ইত্যাদি সিটি কর্পোরেশনের মূল কাজ। এসব কথা অত্যন্ত সত্য। কিন্তু যে নগরীতে নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা একেবারেই অপ্রতুল যেখানে সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা বা চিকিৎসা পেতে গুটি কয়েক সরকারি হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল, সেখানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতাল নির্মাণ করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলো। এসব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সকল পরিচালনা ও সক্রিয়তার ফলে নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসার চাহিদা অনেকখানি মিঠতো এসব বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা এসবের বেহাল অবস্থা কারো কাম্য হতে পারে না। নিশ্চয়ই একথা সত্য যে, সরকার থেকে এই খাতে সিটি কর্পোরেশনকে যে বাজেট প্রদান করে তাতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের এই বৃহৎ কর্মযজ্ঞের দশ শতাংশও পরিচালনা করা যাবে না। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠান আগে সক্রিয় ছিলো এবং নানাভাবে ও কৌশলে পরিচালিত হয়ে নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবার সংকট অনেকখানি দূর করেছিলো। তবে এসব গত ৫/৬ বছরে কেন এমন বেহাল হয়ে পড়বে কিংবা অনেকগুলো বন্ধ হয়ে যাবে এসব প্রশ্নের কোন সুরাহা নগরবাসীর কাছে নেই। বিদেশি অর্থায়ন সাহায্য নতুন করে নবায়ন করার চেষ্টাও দেখা যাচ্ছে না কর্তৃপক্ষের তৎপরতার মধ্যে।

বর্তমানে গত ২৮ এপ্রিল ২০১৫ এ মেয়র ও কাউন্সিলদের নির্বাচনের মাধ্যমে নতুনরা দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দিন নির্বাচনের আগে ও দায়িত্ব গ্রহণের পরেও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের যাবতীয় সমস্যা নিরসনপূর্বক চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক ও বিশ্বমানের নগরীতে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছেন। একটি বিশ্বমানের আধুনিক নগরীতে নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নগরবাসী আশা করে বন্ধ হয়ে যাওয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালগুলো নতুন মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দিনের উদ্যোগে আবার সফলভাবে সচল হবে। যেসব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো খানিকটা সচল আছে সেগুলোও পরিপূর্ণ ক্ষমতা নিয়ে নতুন মেয়রের উদ্যোগেই নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা সুনিশ্চিত করবে।

নতুন মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দিন বর্তমান সরকার দলীয় মেয়র। তদুপরি তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন ও নিকটজন বলে পরিচিত। ফলত চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের আশা ও চাহিদা বর্তমান মেয়রের কাছে অনেক বেশি। চট্টগ্রামের মানুষ আশা করে বর্তমান মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দিন উদ্যোগ গ্রহণ করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সকল স্বাস্থ্যকেন্দ্র, হাসপাতাল তথা পুরো নগরবাসীর চিকিৎসা সেবার আধুনিকায়ন ও ব্যাপক বিস্তার ঘটাবেন। এই কাজ তাঁর দ্বারা সম্ভব বলেও বেশিরভাগ মানুষ বোধ করে। এই ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের নতুন মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দিনের উদ্যোগের দিকে মানুষ তাকিয়ে আছে। কেননা, তিনি জানেন, কিভাবে প্রকল্প গ্রহণ করতে হয় এবং সরকারের সাথে যোগাযোগ করে তা বাস্তবায়ন করতে হয়। যেহেতু তিনি সরকার দলীয় মেয়র, তদুপরী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ আস্থাভাজন, সেহেতু তিনি উদ্যোগ গ্রহণ করলে এবং চাইলে নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব এক বিপ্লব ঘটাতে পারবেন। আমরা এর আগে দেখেছি ক্রীড়া ক্ষেত্রে তিনি সফল হয়েছেন। সম্প্রতি শেখ কামাল ক্লাব কাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট সফলভাবে আয়োজন করে তিনি চট্টগ্রামকে গৌরবান্বিত করেছেন। সেভাবে তিনি চট্টগ্রামের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করতে পারবেন বলেই চট্টগ্রামবাসী তাঁর উদ্যোগের দিকে তাকিয়ে আছে। এসব হাসপাতাল ও ক্লিনিক সফলভাবে পরিচালিত হলে এই নগরের সাধারণ মানুষ ন্যূনতম চিকিৎসা পাবে, মানুষের এইটুকু চাহিদা আর আশার প্রতি নতুন মেয়র কি সম্মান দেখাবেন?

প্রচ্ছদ রচনা দক্ষিনা:38

নাজিমুদ্দীন শ্যামল : কবি ও সাংবাদিক- চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান ও বিশেষ প্রতিনিধি, দৈনিক সকালের খবর।nazim.reuters@gmail.com