লেখক ও সাংবাদিক জামাল খাশুগজি খুনের ঘটনায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড

0
835
ডেস্ক: তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদির কনস্যুলেটে সৌদি লেখক ও সাংবাদিক জামাল খাশুগজির খুনের মামলায় অভিযুক্ত পাঁচ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও অপর তিন জনকে ২৪ বছর কারাদণ্ড দিয়েছে সৌদি আরবের আদালত। 23.12.19 সোমবার দেশটির পাবলিক প্রসিকিউটর শালান আল শালান এসব কথা জানিয়েছেন বলে খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

এই মামলায় মোট ১১ জন সৌদি নাগরিককে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।  এ খুনের মামলায় সৌদি রাজপরিবারের সাবেক শীর্ষ উপদেষ্টা সৌদ আল কাহতানির বিরুদ্ধে তদন্ত করা হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি এবং তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

খাশুগজি যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসনে ছিলেন। গতবছর ২ অক্টোবর দ্বিতীয় বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে গিয়েছিলেন খাশুগজি। সেখান থেকে তিনি আর বের হননি।  আজ অবধি তার লাশ খুঁজে পাওয়া যায়নি। (বিবিসি)।

পরে জানা যায় তাকে কনস্যুলেটের ভেতর হত্যা করা হয়েছে। সেখানেই প্রাণ হারান সৌদি সরকারের অন্যতম এই সমালোচক। তার মৃতদেহ টুকরা টুকরা করে কনস্যুলেট ভবন থেকে সরিয়ে ফেলা হয় বলে খবর হয়েছে। খাশুজটির দেহাবশেষ আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। খাশুগজি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতেন এবং তিনি সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কঠোর সমালোচক ছিলেন।

খাশুজির হত্যাকান্ডে বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড়ে যুবরাজ মোহাম্মদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ও পশ্চিমা সরকারগুলো জানায়, এই খুনের আদেশ স্বয়ং যুবরাজ মোহাম্মদ দিয়েছেন বলে তাদের বিশ্বাস। কিন্তু এই ঘটনায় যুবরাজের কোনো ভূমিকা নেই বলে দাবি করেন সৌদি কর্মকর্তারা।

খাশুগজির হত্যাকাণ্ডে সৌদির বিচারকার্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে বন্ধ দরজার পেছনে। মানা হয়নি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, সৌদি কর্তৃপক্ষ বিচারকার্যে অর্থবহ দায়বদ্ধতা আদায়ের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছে। বিবিসি জানিয়েছে, খাশুগজির খুনের ঘটনাটিকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন জাতিসংঘের এক বিশেষজ্ঞ। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তা অ্যাগনেস ক্যালামার এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকেও তদন্তের আওতায় আনতে বলেছিলেন।  কিন্তু এই হত্যার ঘটনায় নিজের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন সৌদি যুবরাজ।

উল্লেখ্য, খাশুগজির হত্যাকাণ্ডে ক্রাউন প্রিন্স জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ তুলেছে তুরস্কের গোয়েন্দারা। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাও (সিআইএ) তার জড়িত থাকার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে সৌদি সরকার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ক্রাউন প্রিন্সের কোনো সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে। সালমান নিজেও দাবি করেছেন, খাশুগজির হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তিনি অবহিত ছিলেন না। তবে অক্টোবরে এক বিবৃতিতে, সৌদি আরবের নেতা হিসেবে হত্যাকাণ্ডটির সকল দায়বদ্ধতা নেয়ার কথা জানান তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here