নতুন সড়ক আইনের শিথিল প্রয়োগে আসছে না ফল

0
608

 

শিথিল প্রয়োগে ফল আসছে না নতুন সড়ক পরিবহন আইনের। গত এক মাসে এ আইনে সারাদেশে মামলা হয়েছে নামে মাত্র। সে কারণেই যেখানে-সেখানে পার্কিং বা বেপরোয়া অভারটেকিং বন্ধ হয়নি এখনও। বিশ্লেষকরা বলছেন আইন বাস্তবায়নের কঠোর হওয়ার বদলে শ্রমিকদের সঙ্গে আপোস-রফায় তৈরি হয়েছে জটিলতা। এতে তৈরি হয়েছে কালক্ষেপনের সুযোগ।

রাজধানী ব্যস্ততম এলাকা মহাখালী চৌরাস্তা। আগের মতোই যেখানে-সেখানে বাস থামিয়ে তোলা হচ্ছে যাত্রী। অথচ নতুন সড়ক আইনে এতে রয়েছে ৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান।

হালনাগাদ করতে পজ মেশিন তুলে নেয়া ও মামলার বই সংকটে নিরুপায় ট্রাফিক পুলিশ। অন্যদিকে সহকারী কমিশনারের সামনে মামলা-জরিমানা করার বিধানে জটিল হয়ে পড়েছে পরিস্থিতি।

ট্রাফিক পুলিশ বলেন, আমার কাছে বইটা নাই এই জন্য মামলাটা কম হচ্ছে।

এক চালক বলেন, নতুন আইনে মামলা দেয় না কিন্তু জরিমানা লাগে। তার সাথে রেকারের বিল নিয়ে থাকে।

আরো এক চালক বলেন, এখন তো কেস স্লিপ নাই শুধু জরিমানা করে। যেকোনো জায়গায় দাড়িয়েছে রেকার বিল করে নিয়েছে। তা না হলে টাকা খায়।

পহেলা নভেম্বর থেকে আইন কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, প্রস্তুতির অভাবে ২ ডিসেম্বর থেকে সীমিত পরিস মামলা-জরিমানা শুরু করে ট্রাফিক বিভাগ। মহাখালী পুলিশ বক্সে গত নভেম্বরে মামলা হয়েছিল ৩ হাজার। ডিসেম্বরে এসে সে সংখ্যা মাত্র ১০০।

একই অবস্থা চট্রগ্রামেও সেখানে নভেম্বরে প্রায় ৪০ হাজার মামলা হলেও ডিসেম্বরে হয়েছে ৭০০টি। সিলেটেও নতুন আইনে মামলা ৭৩১, রাজশাহীতে ১২২। রংপুরে এখনও কোনো মামলাই হয়নি।

ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, আমাদের প্রায় ৮০০-র মতো প্রসিকিউটিং অফিসার আছে ঢাকা শহরে। পজ মেশিন চালু হলে কাজ করার জায়গায় তৈরি হবে।

এদিকে এখনও নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে অনড় অবস্থানে পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের আপোস-রফার উদ্যোগই আইন বাস্তবায়নের পথে মূল বাধা।

বুয়েটের অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, প্রথমে যেহেতু এটাকে ধার কমিয়ে দেওয়া হয়েছে যার ফলে দেখা যাচ্ছে এখ সবাই বিশেষ করে যারা এই আইনের বিরোধীতা করছে তারা হয়তো এখন ভাবছে এটাকে আরো প্রলম্বিত এবং র্দীঘায়িত করা যাবে।

সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাজাহান খান বলেন, যারা মনে করে আইন সংশোধন করা যাবে তা নয়। এই আইনের মধ্যে কিছু দিক আছে যেটা কিনা অসংগতিপূর্ণ এবং অসামঞ্জস্যপূর্ন।

নতুন সড়ক আইন কার্যকরের আগে সরকারের যথাযথ প্রস্তুতি নেয়া উচিত ছিলো বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

সূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন টেলিভিশন