বর্ণিল আয়োজনে মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা

0
517

বর্ণিল আয়োজনে মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা

জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বন্দর নগরীতে মুজিববষের্র ক্ষণগণনা শুরু হয়। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীকে ঘিরে বর্ণিল আলোয় রাঙানো হয় প্রাচ্যের রাণী চট্টগ্রামে কে। নগরীর এম.এ.আজিজ স্টেডিয়াম এলাকা, লালখান বাজার মোড়, আন্দরকিল্লা মোড়, শাহ আমানত সেতু চত্বর ও কোর্ট বিল্ডিংসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বর্ণিল আলোকসজ্জায় সাজিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। সন্ধ্যার সাথে লাল-নীল বাতির রঙিন আলোর ঝলকানিতে আলোকিত হয়ে উঠে চট্টগ্রাম নগর । নগর জুড়ে লাগানো হয়েছে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন পতাকা। নগরীর কাউন্ট ডাউন স্থানে তৈরি করা হয়েছে তোরণ, মঞ্চে এলইডি স্ক্রিন। এছাড়া এম.এ.আজিজ স্টেডিয়ামে বানানো হয়েছে বিশাল প্যান্ডেল।

নগরীর নগরীর এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেশিয়াম মাঠে মুজিববর্ষের ক্ষণগণনার মাহেন্দ্রক্ষণের অংশ হতে জুমার নামাজের পর থেকেই দল বেঁধে মানুষ আসতে শুরু করে। বিকাল ৩টা হতে জিমনেশিয়াম মাঠ এবং তার আশপাশে শুধু মানুষ আর মানুষ। ক্ষণগণনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রত্যক্ষদর্শী হতে গতকাল শুক্রবার জিমনেশিয়াম মাঠ এলাকায় মানুষের ঢল নামে। সবার মুখে মুখে আজ থেকে শুরু হবে মুজিব শতবর্ষ ক্ষণ গণনা।  নিজের উপস্থিতি জানান দিতে ইতিহাসের অংশ করে নিতে ক্ষণগণনার ঘড়ির সাথে তুলছে সেলফি। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা দিতে নিয়ে গেছেন শিশু সন্তানদের। এই যেন এক অন্যরকম পরিবেশ। বঙ্গবন্ধু যেন এখনো বেঁচে আছেন। আজ শুধুই বঙ্গবন্ধুর জন্যে ঘড়ির কাঁটা পাঁচটায় জাতীয় সংগীত “আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি” বেজে উঠার সঙ্গে সঙ্গে সর্বস্তরের মানুষ দাঁড়িয়ে সম্মান জানায় জাতীয় সংগীতকে। এরপর রাজধানীর তেজগাঁওয়ের জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে কেন্দ্রীয় ক্ষণগণনা কর্মসূচি শুরু হয়। ঢাকাস্থ প্যারেড গ্রাউন্ডের জমকালো অনুষ্ঠানে ক্ষণ-গণনা উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সারাদেশের ন্যায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বন্দর নগরীতে স্থাপিত চারটি ‘কাউন্ট ডাউন ক্লক’ উদ্বোধন করেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে এসব ক্লক স্থাপন করা হয়।

জিমনেশিয়াম মাঠ মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিক, সরকারি কর্মকর্তা, স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে। মাঠে জায়গা না পেয়ে সড়কে অবস্থান নেন অনেকে। ক্ষণগণনা অনুষ্ঠানে আসা লোকজন যাতে সড়কে দাঁড়িয়েও সরাসরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিডিও কনফারেন্স দেখতে পারেন, এজন্য স্থাপন করা হয়েছে একাধিক জায়ান্ট স্ক্রিন। বন্ধ করে দেয়া হয় কাজীর দেউড়ি মোড় থেকে লালখান বাজার মোড় সড়ক। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পুরাতন নগর ভবনের সামনে ‘এ’ ক্যাটাগরির একটি, সার্কিট হাউজের সামনে, আদালত ভবনের সামনে এবং শাহ আমানত সেতু এলাকায় ‘বি’ ক্যাটাগরির তিনটি কাউন্ট ডাউন ক্লক উদ্বোধন করা হয়।

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ ‘মুজিববর্ষ’ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা উদ্বোধনের সঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন স্থাপিত আন্দরকিল্লা সিটি কর্পোরেশন পুরানো কার্যালয়ে “এ” ক্যাটাগরির একটি, সার্কিট হাউজের বিপরীতে, কোর্ট বিল্ডিং, শাহ আমানত সেতু মোড় “বি” ক্যাটাগরি তিনটি ক্ষণগণনা ঘড়িগুলো সচল হয়। জিমনেসিয়াম চত্বরে অনুষ্ঠিত মঞ্চের সামনে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মন্ত্রী ডা. আফসারুল আমিন এমপি, সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুস সালাম, সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শংকর রঞ্জন সাহা, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি আলী আব্বাসসহ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চসিক কাউন্সিলর, নগর, উত্তর দক্ষিণ ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা। অনুষ্ঠানে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যায় পরিবেশিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।