বাংলাদেশের টুরিজম

0
748

বাংলাদেশের টুরিজম


বাংলাদেশের টুরিজম ডেভেলপ করার জন্য কোন মাস্টারপ্ল্যান এর প্রয়োজন আছে কিনা জানিনা। শুনেছি ক’দিন আগে কোন এক ইন্ডিয়ান ফার্মকে 24 কোটি (240 million) টাকা দিয়ে ঠিকাদারি দেয়া হয়েছে আমাদের পর্যটন এর জন্য মাস্টার প্ল্যান করার। এ যেন কুমিরের কাছে মুরগী ছানা জিম্মি রাখা। ভারতে বাংলাদেশ থেকে গত বছর 24/25 লক্ষ (2.5 million) টুরিষ্ট বেড়াতে গিয়ে হুদাই খরচ করে আসে প্রায় 1250 কোটি বা 12500 মিলিয়ন টাকা। সুতরাং এত বড় বাজার কে হারাতে চায়? বোঝায়ই যায় বাংলাদেশের টুরিজম মাস্টার প্ল্যানের ভবিষ্যৎ কি। যাই হোক।

কথাগুলো বলছিলাম সিলেট বিভাগের পর্যটন শিল্পের অভাবণীয় সম্পদকে মাথায় রেখে। সম্প্রতি গিয়েছিলাম সিলেটের Bichhanakandi আর Ratargul swamp forest এ।। যতবারই সিলেট যাই আর অবাক হই সিলেটের প্রতি ধুলি কণায় লুকিয়ে থাকা প্রকৃতির পর্যটনের বিশালতা দেখে।। সিলেটের মত বাংলাদেশের কোন জেলায় কিংবা বিভাগে এত পর্যটন সম্পদ আছে বলে আমার মনে হয় না। বিছানাকান্দিতে আর রাতারগুলেই প্রতি বছর প্রায় 7/8 লক্ষ টুরিষ্ট বেড়াতে আসে। শুনে ভাল লাগল বিছানা কান্দিতে টুরিস্ট রা যে ময়লা ফেলে আসে, তা স্থানীয় সরকার প্রতি বৃহস্পতিবার পরিষ্কার করে ফেলে। আর রাতারগুল Swamp forest এর পানিতে ময়লা ফেলতে নিষেধ করলেন নৌকার মাঝি। মানুষ সচেতন হচ্ছে। আমিই এক টুরিষ্ট কে বুঝালাম এই যে আপনি প্লাস্টিকের প্যাকেট টা ফেললেন, এমন করে যদি লক্ষ টুরিষ্ট একটা করে প্যাকেট ফেলে তবে বিছানাকান্দিতে ভবিষ্যতে এসে শুধু কাঁদবেন। দেখি সেই ব্যক্তি প্যাকেটটা উঠিয়ে নিল। লজ্জাজনক একবারের শিক্ষা সাড়া জীবনের শিক্ষা।

বলছিলাম টুরিজম মাস্টার প্ল্যানের। হ্যা তার দরকার আছে। তবে আমাদের দরকার short & medium type এর প্লানিং। আমাদের বিভাগ (division) অনুযায়ী টুরিজম প্ল্যান করা প্রয়োজন। ওই যে বললাম ভারতেই আমাদের টুরিষ্টরা বছরে খরচ করে আসে 1250 কোটি বা 12500 মিলিয়ন টাকা, এই টাকাটা আমাদের মত টুরিজম এর গবেষক এবং প্রাক্টিশনার এর দের হাতে দিয়ে দেন, 2/3 বছরের মধ্যেই Public Private Community Partnership (PPCP) মাধ্যমে সিলেটকে মনের মাধুরি দিয়ে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় Tourist destination করে গড়ে তুলব। হলপ করে বলতে পারি শুধু সিলেট বিভাগ থেকেই সরকার বছরে 1250 কোটি টাকা আয় করতে পারবে। সিলেটকে বাংলাদেশের পর্যটন রাজধানী হিসাবে ঘোষনা দেবার আহবান জানাচ্ছি।
সব শেষে বলি নিজ দেশের সৌন্দর্যেই অবগাহন করুন, দেশের টাকা দেশেই রাখুন। আমাদের দেশ মাতা টা একটু গরীব, তাই হয়তো চলাফেরা করতে গিয়ে কোথাও কোথাও কিছুটা কষ্ট করতে হয়। সেই কষ্টের জায়গা গুলি চিহ্নিত করে ঠিক করার ব্যবস্থা করলেই হয়। এর জন্য কোন মাস্টার প্ল্যানের প্রয়োজন হয়না। মনে পড়ে সেই 1982- ’83 সালের দিকে ADB আমাদের জন্য একটা Tourism master plan করেছিল। সেটা আর সূর্যের মুখ দেখে নাই। বর্তমানের 24 কোটি টাকার Master plan এর ভাগ্যে কি আছে তা জানিনা। পর্যটনই পারবে বংগবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।

অধ্যাপক ড. রাশেদুল হাছান, ঢাকা বিশ্ববিদযালয়