করোনা ভাইরাসের মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়ালো

0
386

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের ১৭৫টি দেশে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে গ্লোবাল কনসেপ্ট। মরণ এ ব্যাধিতে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে। বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করা ভাইরাসটিতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে বিশ্বের ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণঘাতি সংক্রমণটিতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন প্রায় এক হাজার জন।

আজ শুক্রবার চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের বরাত দিয়ে কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, বিশ্বের অন্তত ১৭৫টি দেশে বিস্তার হওয়া ভাইরাসটিতে বর্তমানে ২ লাখ ৩১ হাজার ২২৮ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আর এখন পর্যন্ত প্রাণহানি ঘটেছে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের।

যেখানে উৎপত্তিস্থল চীনকেও ছাড়িয়ে গেছে ইউরোপের দেশ ইতালি। দেশটিতে নতুন করে ৪২৭ জনের মৃত্যুতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪০৫ জনে। যেখানে চীনে এ পর্যন্ত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩ হাজার ২৪৮ জন। একদিনে সর্বোচ্চ মৃতের রেকর্ডটিও এখন ইতালির। রোমীয় শহরটিতে বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা ৪১ হাজারেরও বেশি।

তবে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ৮৫ হাজার ৪১৬ জন।

এরপরই রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরান। যেখানে প্রতিনিয়ত ভারি হচ্ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। দেশটিতে প্রাণঘাতি ভাইরাসটিতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২৮৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। যেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ১৪৯ জন। অপরদিকে আক্রান্তের হারও বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। ইসলামী প্রজাতান্ত্রিক বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার।

দক্ষিণ কোরিয়া নিয়ন্ত্রণে আসলেও থেমে নেই ইউরোপের আরেক দেশ স্পেন। দেশটি যেন চীন, ইতালি ও ইরানের পথে এগোচ্ছে। এখন পর্যন্ত সেখানে মারা গেছেন ৭৬৭ জন। আক্রান্ত ১৭ হাজারেরও বেশি মানুষ।

জার্মানিতে মহামারি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ জনে। দেশটিতে ইতোমধ্যে ১২ হাজার ৩২৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ১০৫ জন।

যুক্তরাষ্ট্রে মহামারি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৩ জনে। দেশটিতে ইতোমধ্যে ১০ হাজার ৪২৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ১০৮ জন।

মৃতের সংখ্যা বেড়েছে ফ্রান্সেও। সেখানে এখন পর্যন্ত ৩৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার।

এদিকে, প্রাণঘাতি ভাইরাসটির বিস্তার রোধে ভারতজুড়ে কারফিউ জারি করেছে দেশটির সরকার। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া এক ভাষণে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী রোববার থেকে কারফিউ ঘোষণা করেন।

প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বাধ্যতামূলক এই কারুফিউ সবাইকে মানতে হবে। এই সময়ে কাউকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাহিরে না যেতে অনুরোধ জানিয়েছেন মোদি। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১৭৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন ৪ জন।

এদিকে দক্ষিণ এশিয়ার আরেক দেশ বাংলাদেশও বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। এখনো দেশে ফিরছেন বিভিন্ন দেশ বসবাসরত প্রবাসীরা। এতে করেই ঝঁকি বাড়ছে বহুগুণে।

গত এক মাসে বিদেশ থেকে লাখের বেশি মানুষ দেশে ফিরলেও কোয়ারেন্টাইনে আছেন মাত্র ১৫ হাজারের মতো। এর মধ্যে অনেকে আবার মানছেন না কোয়ারেন্টাইনের শর্ত। ফলে, যেকোনো সময় ভাইরাসটি ব্যাপক বিস্তার করতে পারে। এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১৮ জন, মারা গেছেন একজন।

অন্যদিকে, চলমান পরিস্থিতিতে বন্ধ করা হয়েছে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। নিষিদ্ধ করা হয়েছে যেকোনো সমাগম। কয়েকটি জেলায় বন্ধ করা হয়েছে দূরপাল্লার বাস যাতায়াত। আর সবশেষ বৃহস্পতিবার রাতে সারাদেশের বারগুলো আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

এদিকে, করোনার প্রভাব পড়েছে রাজধানীতে। অনেকে করোনার প্রকোপ থেকে বাঁচতে গ্রামের বাড়িতে ছুটছেন। বাদ যায়নি নিত্যপণ্যের বাজারেও। করোনায় সরকারের পক্ষ থেকে খাদ্য মজুদের কথা জানানো হলেও এক শেণির অসাধু ব্যবসায়ীর হাতে জিন্মি থাকায় বাড়তে শুরু করেছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম।