ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারির পর ভারত ওষুধ রফতানিতে নমনীয়

0
625

সারা পৃথিবী এই মুহূর্তে করোনা মহামারির বিরুদ্ধে লড়াই করছে ৷ বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ম্যালেরিয়ার রোগের ওষুধ হাইড্রক্সি ক্লোরোকয়েন খুবই উপযোগী। এই ঔষধ অ্যান্টি ম্যালেরিয়া ড্রাগ ক্লোরোকুইন থেকে একটু আলাদা। এই ঔষধ অটো ইমিউন রোগ অর্থাৎ অর্থরাইটিস রোগের ঔষধ হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এই ঔষধ করোনা ভাইরাসের সাময়িক প্রতিষেধক রূপে কাজ করে ।

করোনা ভাইরাসে (COVID-19) প্রসার বৃদ্ধির ফলে বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট মৃত্যুপুরীতে পরিণত। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন রাস্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে ম্যালেরিয়ার ঔষধ হাইড্রক্সি ক্লোরোকয়েন (Hydroxychloroquine) যুক্তরাষ্টে পাঠানোর অনুরোধ করেন।

এই ঔষধটি ভারতেও বিপুল পরিমাণে কাজে লাগতে পারে, এই বিবেচনায় ভারত গত মাসে মার্চের ২৫ তারিখ আচমকাই হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন-সহ মোট ২৬টি ড্রাগ রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এতে প্রচন্ড চটে যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি গত বেশ কিছুদিন ধরে করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের হয়ে জোরালো সওয়াল করে আসছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সোমবারের ৬ এপ্রিল ব্রিফিংয়ে বলেন, “ভারত যদি এই নিষেধাজ্ঞা তোলে না নেয় তাহলে আমি অবাকই হব, কারণ আমেরিকার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ভাল। তারা বহু বছর ধরে আমাদের কাছ থেকে বাণিজ্য সুবিধা নিয়েছে।” তিনি বলেন, “আমাদের ঔষধের জোগান যাতে পাঠানো হয়, সেটা বলতে আমি রবিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে কথাও বলেছি। যদি তারা না-পাঠায় – তাহলে ঠিক আছে, আমরাও সে ক্ষেত্রে পাল্টা আঘাত করব। কেন করব না?” ম্যালেরিয়া-প্রতিরোধী ঔষধ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন আমেরিকাকে রফতানি না-করা হলে ভারতকে তার ফল ভুগতে হবে,  প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নজিরবিহীন ভাষায় এই হুঁশিয়ারি দেওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ভারত ওই ঔষধ রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শর্তসাপেক্ষে তুলে নিয়েছে।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানিয়ে দেন, “আমেরিকা-সহ যেসব দেশ করোনাভাইরাসের মোকাবেলায় বিপন্ন অবস্থানে আছে তাদেরকে ভারত ওই ঔষধ সরবরাহ করবে।”

কয়েক সপ্তাহ আগেই ভারতের দুটি বৃহৎ ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি, ইপকা ল্যাবরেটরিজ ও জাইডাস ক্যাডিলা আমেরিকার কাছ থেকে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের বিপুল পরিমাণ অর্ডার পেয়েছিল। ভারতের নিষেধাজ্ঞায় সেই চালান অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষুব্ধ ছিলেন ঠিকই, কিন্তু তিনি যে এই ভাষায় দিল্লিকে হুমকি দেবেন কূটনৈতিক মহলও তা ভাবতে পারেনি।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারির পর ভারত অবশ্য হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের মার্কিন চালানে আপাতত আর কোনও বাধা রইল না।