করোনা পজিটিভ অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের দাফন সম্পন্ন

0
734

জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন৷ মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর৷ অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের ছেলে আনন্দ জামান জানান, ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ মে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ৪টা ৫৫ মিনিটে তার বাবার মৃত্যু হয়৷ তিনি হৃদরোগ ও কিডনি জটিলতার পাশাপাশি রক্তের ইনফেকশনে ভুগছিলেন৷ ড. আনিসুজ্জামানের মৃত্যুর পর জানা গেল তিনি করোনা পজিটিভ৷ কিন্তু মৃত্যুর আগে দুইবার টেস্টের ফল নেগেটিভ এসেছিল৷

করোনা পজিটিভ হওয়ায় তাকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইড লাইন মেনে শুক্রবার সকালে তাঁর বাবার কবরের পাশে দেশ বরেণ্য এই শিক্ষাবিদ, লেখক এবং মুক্তিযোদ্ধাকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় পরিবারের পক্ষ থেকে অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের ছেলে আনন্দ জামান, ভাই আখতারুজ্জামান ও মেয়ে জামাই আজিমুল হক উপস্থিত ছিলেন৷ সকাল পৌনে ১১ টার দিকে দাফনের কাজ শেষ হয়৷ এর আগে অল্প সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে গার্ড অফ অনার প্রদান করা হয়।

অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের জন্ম ১৯৩৭ সালে কলকাতায়  । ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় তাঁর পরিবার বাংলাদেশে চলে যায়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ১৯৭২-এর মুক্তিযুদ্ধ, পরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়া এবং আটের দশকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার – বাংলাদেশের প্রায় সবক’টি গণতান্ত্রিক আন্দোলনেই সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন আনিসুজ্জামান।  এমনকী, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে তিনি সাক্ষী হিসেবেও উপস্থিত হয়েছিলেন।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে কুদরাত-এ-খুদাকে প্রধান করে গঠিত জাতীয় শিক্ষা কমিশনের সদস্য ছিলেন। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস নিয়ে তার গবেষণা সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। আনিসুজ্জামান শিক্ষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য একাধিক পুরস্কার লাভ করেছেন। প্রবন্ধ গবেষণায় অবদানের জন্য ১৯৭০ সালে তিনি বাংলা একাডেমি থেকে প্রদত্ত বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। শিক্ষায় অবদানের জন্য তাকে ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। শিক্ষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য তাকে ভারত সরকার কর্তৃক প্রদত্ত তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মভূষণ পদক প্রদান করা হয়। সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৫ সালে তাকে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয়। এছাড়া তিনি ১৯৯৩ ও ২০১৭ সালে দুইবার আনন্দবাজার পত্রিকা কর্তৃক প্রদত্ত আনন্দ পুরস্কার, ২০০৫ সালে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি. লিট. ডিগ্রি এবং ২০১৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগত্তারিণী পদক লাভ করেন। ২০১৮ সালের ১৯ জুন বাংলাদেশ সরকার তাকে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেয়।