পুলিশি হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় উত্তাল আমেরিকা,

0
490

পুলিশ হেফাজতে আমেরিকার মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনেপোলিস শহরে জর্জ ফ্লয়েড নামে একজন কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে পড়েছে মিনেপোলিসসহ বেশ কয়েকটি প্রধান প্রধান শহর। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়।হোয়াইট হাউসের বাইরে হাজার হাজার মানুষ জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। এদিন বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে মিনেসোটা, নিউইয়র্ক এবং ক্যালিফোর্নিয়া।আটলান্টায় সংবাদমাধ্যম সিএনএনের দপ্তরের পাশেই ভবনে ভাঙচুর এবং পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

 

শ্বেতাঙ্গ এক পুলিশ কর্মকর্তার হাতে ৪৬ বছর বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মিনিয়াপোলিসসহ যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি শহরে পুলিশি সহিংসতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়। ভিডিওতে দেখা গেছে, পুলিশের এক কর্মকর্তা ফ্লয়েডের ঘাড়ের ওপর হাঁটু দিয়ে তাকে মাটিতে চেপে ধরে রেখেছেন। এসময় ফ্লয়েড বলেছেন, ‘প্লিজ, আমি শ্বাস নিতে পারছি না’, ‘আমাকে মারবেন না।’

 

ফ্লয়েডের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি ২০ ডলারের একটি জালনোট ব্যবহার করেছিলেন। তাকে গ্রেফতার করে পুলিশের গাড়িতে নেওয়ার আগে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবি, হাতকড়া পরাতে বাধা দিচ্ছিলেন তিনি। এ ঘটনায় নিরস্ত্র ফ্লয়েডের ঘাড়ের ওপর হাঁটু রাখা পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক শভিনসহ চারজন পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ফ্লয়েডকে হত্যার অভিযোগে ডেরেক শভিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পরিস্থিতি সামাল দিতে মিনেসোটা প্রদেশ সরকার কারফিউ জারি করেছেন। সবাইকে রাস্তা থেকে ঘরে ফিরতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ বলবৎ থাকবে। এ সময় শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজন, ফায়ার সার্ভিস এবং চিকিৎসা কর্মী ও ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা শান্তি রক্ষার দায়িত্বে রাস্তায় থাকতে পারবে।

রাতের বেলায় যারা রাস্তায় নামবে তাদেরকে ৯০ দিনের জেল দেয়া হবে এবং এক হাজার ডলার জরিমানা করা হবে। এর আগে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর মিনেপোলিস শহরে বিক্ষোভের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানান। গভর্নর টিম ওয়াল্জ বলেন, পুলিশ হেফাজতে রেখে হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় বর্বরতা চালিয়ে কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিকে হত্যা করার সঙ্গে যেসব কর্মকর্তা জড়িত তাদেরকে দ্রুত ন্যায় বিচারের আওতায় আনা হবে।

কিন্তু শুক্রবার কারফিউ উপেক্ষা করে রাস্তায় নামেন বিক্ষোভকারীরা। এসময় একাধিক ভবন এবং যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্ক, লস এঞ্জেলেস, শিকাগো, ডেনভার, হাউসটন, লুইভিল, ফিনিক্স, কলাম্বাস এবং মেমফিসসহ অনেক শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সহিংস সংঘর্ষ হয়।

এ ঘটনাকে ‘ভয়ানক, ভয়ানক ব্যাপার’ বলে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প পরে এক টুইটে মিনিয়াপোলিসে অরাজকতা ঠেকাতে মেয়র জ্যাকব ফ্রের ব্যর্থতার কড়া সমালোচনা করেছেন। মেয়র শহরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে ন্যাশনাল গার্ড বাহিনী পাঠিয়ে ‘সব ঠিক করা হবে’ বলে মন্তব্যও করেছেন তিনি। “যখন লুটপাট শুরু হবে, তখন গুলিও শুরু হবে,” বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া টুইটে হুঁশিয়ার করেছেন তিনি।