পুতিনের প্রতিদ্বন্দ্বী আলেক্সি নাভালনি !

0
191

পুতিনের প্রতিদ্বন্দ্বী আলেক্সি নাভালনি !

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট র কট্টর সমালোচক অ্যালেক্সেই নাভালনি বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছেন। তিনি পুতিন সরকারের দুর্নীতি নিয়ে খুব সোচ্চার থাকেন সবসময়। ছিলেন আইনজীবী৷ হয়েছেন সক্রিয় রাজনীতিক ৷ চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন ভ্লাদিমির পুতিনকে৷ ২০০৮ সালে রাশিয়ার রাজনীতি আর রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর অপকর্ম নিয়ে ব্লগ লিখে রাতারাতি আলোচনায় আসেন নাভালনি৷ তাঁর লেখা ব্লগের কারণে অনেকেই পদত্যাগ পর্যন্ত করতে বাধ্য হন৷ যা ছিল রাশিয়ার রাজনীতির বিরল ঘটনা ৷

নাভালনি মস্কোর স্টেট ডুমায় সরকার বিরোধী মিছিল-সমাবেশ করার অভিযোগে ২০১১ সালে প্রথম কারাগারে গেলেন এবং ১৫ দিন কারাগারে ছিলেন ৷  এরফলে পুতিনের ‘ইউনাইটেড রাশিয়া’ নির্বাচনে জয় পায়৷ কিন্তু ভোট কারচুপির অভিযোগ আনা হয় পুতিনের বিরুদ্ধে৷ কারাগারে রেখেও দমানো যায়নি নাভালনিকে৷ বের হয়ে এসে আবারো চাঙ্গা করেন পুতিন বিরোধী আন্দোলন৷

২০১২ সালে পুননির্বাচিত হলেন পুতিন৷ রাশিয়ার তদন্ত কমিটিকে নির্দেশ দিলেন নাভালনির অতীত খুঁজে বের করতে৷ দ্বিতীয় দফায় কারাগারে গেলেন নাভালনি৷ আত্মসাতের অভিযোগ মাথায় নিয়ে জেল খাটলেন পাঁচ বছর৷ উচ্চ আদালতে শেষ পর্যন্ত মুক্তি দেয় তাঁকে৷

আইনি কিছু ঝামেলার কারনে মস্কোর মেয়র পদে নির্বাচনে অনুমতি পান তিনি ৷ ২০১৩ সালের ওই নির্বাচনে নাভালনিকে হার মানতে হয় ৷ কারণ, পুতিনের মিত্র সের্গেই সোবানিয়ান বিপুল ভোটে জয় পায় ৷ নাভালনি পান ২৭% ভোট । আর বিরোধী রাজনীতি আবারো চাপা পড়ে যায় পুতিন জোয়ারে ৷

ক্রেমিলন বিরোধী আন্দোলনের কারণে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে নিষিদ্ধ হন নাভালনি৷ ফলে, নিজের রাজনৈতিক বার্তা ছড়িয়ে দিতে বেছে নিলেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ব্লগ৷ গুছিয়ে বলতে পারা, ভাষার ব্যবহার, পুতিনকে নিয়ে হাস্যরসত্মাক কথা আর বিনয়-সবমিলিয়ে তরুণদের কাছে তিনি হয়ে যান নতুন কান্ডারি৷

২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ঘোষণা দিলেন প্রেসিডন্ট পদে লড়তে চান আলেক্সি নাভালনি ৷ ২০১৮ সালের মার্চকে সামনে রেখে শুরু করলেন প্রচারণা ৷ কিন্তু বিধিবাম,  এবার দুর্নীতির অভিযোগে পারলেন না কাঙ্ক্ষিত পদে দৌড়াতে ৷ যদিও বলা হয়, রাজনৈতিক হয়রানি শিকার হয়েছেন তিনি৷

২০১৬ সাল৷ ইউরোপিয়ান মানবাধিকার আদালত এক রুলে জানায়, কিরভ মামলায় সুবিচার বঞ্চিত হয়েছে নাভালনি ৷ রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্টও নাভালনির পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বাতিল করে ৷ নথি পাঠিয়ে দেয়া হয় কিরভ আদালতে ৷ ২০১৭ সালে আবার তাঁর কারাদণ্ড বাতিলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় ৷

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি ৷ প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভের বিলিয়ন-ইউরোর সাম্রাজ্য নিয়ে রিপোর্ট লিখেন নাভালনি ৷ সেই ঘটনাকে ঘিরে রাশিয়ার অন্তত ১২টি শহরে শুরু হয় দুর্নীতি বিরোধী মিছিল-সমাবেশ ৷ নাভালনিসহ অন্তত হাজারো রাজনৈতিক কর্মীকে সেদিন গ্রেপ্তার করা হয় ৷ ২০১১ সালের পর এতো বড় বিক্ষোভ আর দেখেনি মস্কোবাসী ৷

দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনের দুই মাস পর হাসপাতাল ঠিকানা হয় তাঁর৷ নাভালনির মুখে ছোঁড়া হয় এন্টিসেপ্টিক সবুজ রঙের রাসায়নিক ৷ এতে তিনি তার চোখের নিকটবর্তী অংশে রাসায়নিক দহনের শিকার হন। ডান চোখের কর্নিয়া তাতে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়৷ চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যেতে দেয়া হয়নি তাঁকে৷ কারণ তখনও দুর্নীতির অভিযোগ ঝুলছিল তাঁর গলায়৷ পরে ক্রেমলিনের মানবাধিকার কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে চোখের অপারেশনের জন্য স্পেন যাওয়ার অনুমতি পান নাভালনি৷

২০২০ বছরের শুরুতে এক মাস জেল খেটেছেন নাভালনি৷ তার কিছুদিন বিরতি দিয়ে আবারো গ্রেপ্তার হন তিনি৷ ২০২০ সেপ্টেম্বরে জামিন পান৷ সে বছরের এপ্রিলে, তাঁর পক্ষে রুল জারি করে ইউরোপের মানবাধিকার কোর্ট৷ বলা হয়, কিরভ মামলায় ২০১৪ সাল থেকে এক প্রকার গৃহবন্দি রেখে নাভালনির অধিকার হরণ করেছে রাশিয়া৷

১০ দিন জেল খেটে বের হবার পর, সাতদিনও কাটেনি৷ এ বছরের জুলাইতে আবারো গ্রেপ্তার হন তিনি৷ রাশিয়ার কঠোর প্রতিবাদ আইন ভঙ্গের অভিযোগে আবারো ৩০দিনের জন্য জেলে ঢুকলেন তিনি৷ কারাগারে তাঁর শরীরে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ তুলেছেন পুতিন বিরোধী এই রাজনীতিবিদ৷

পুতিন তার সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বীকে সরিয়ে দিতে গিয়ে তাকে হয়তো আরো শক্তিশালী করে ফেলছেন। আলেক্সি নাভালনি দেশ প্রেমিক না দেশদ্রোহিতা । তা সময়ই বলে দেবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here