মানব সম্পদ গঠনে সাদার্ন ইউনিভার্সিটির ভূমিকা

0
46

মানব সম্পদ গঠনে সাদার্ন ইউনিভার্সিটির ভূমিকা

সাদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ তার মিশন ও ভিশন অনুযায়ী অভিষ্ঠ লক্ষে সকল একাডেমিক কর্মকান্ড পরিচালিত করছে। উন্নত মানের শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠু পরিবেশে পরিচালনা করে সুদক্ষ মানব সম্পদ তৈরীর কাজে উদ্দ্যোগতা ও প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক সরওয়ার জাহান এবং অধ্যাপক ড. ইসরাত জাহান ২০০২ সাল থেকে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে তিনটি অনুষদের বিভিন্ন বিভাগে ৯টি ব্যাচেলর এবং ৭টি মাস্টার্স শিক্ষা কার্যক্রম বাংলাদেশে ও বিদেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের মধ্যে উল্যেখযোগ্যভাবে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। এর ফলশ্র“তিতে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৬০০০ অতিক্রম করেছে। সাদার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সময়োপযুগী বা বাস্তব ভিত্তিক আধুনিক শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা, অভিজ্ঞতা সম্পন্ন দক্ষ উচ্চ শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক মন্ডলী নিয়োগ আধুনিক ল্যাব সুবিধা সৃষ্টি এবং শিক্ষা-সহায়ক কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব আরোপের মাধ্যমে সাদার্ন ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও ফলপ্রসূ মানব সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেয়ায় এ বিশ্ববিদ্যালয় দ্রুত বিকাশ লাভ করছে ।

সাদার্ন ইউনিভার্সিটি ট্রাস্টের যথাযথ তত্বাবধানে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সুযোগ্য পরিচালনায় সাদার্ন ইউনির্ভাসিটি সঠিকভাবে এর সার্বিক কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা হচ্ছে উন্নতমানের উচ্চশিক্ষা প্রদান করে দেশের মানব সম্পদ উন্নয়নে সাদার্ন ইউনির্ভার্সিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ প্রত্যাশা মিটানোর জন্য সাদার্ন ইউনির্ভার্সিটি ট্রাস্ট হতে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করে শিক্ষা সহায়ক সুষ্ঠু পরিবেশ গড়ে তুলা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম উত্তরোত্তর সম্প্রসারিত হয়েছে এবং ক্রমবর্ধমান ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ এ কার্যক্রমের সুযোগ গ্রহণ করছে। নিঃসন্দেহে একটি বিশ্ববিদ্যালয় সময়ের বিবর্তনে গড়ে ওঠে। আর এই গড়ে ওঠার জন্য সুপরিকল্পিত সহায়তা করে যাচ্ছে উদ্যোক্তা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকমন্ডলীরা । বিগত দিনগুলোতে এ ব্যাপারে আশাব্যঞ্জক তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। সাদার্ন ইউনিভার্সিটি এক দল সুদক্ষ শিক্ষক মন্ডলী ও অনুগত কর্মকতা নিয়ে যাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য সাবক্ষনিক অবদান রাখছেন।  চারটি শ্রেণীকক্ষের প্রতিষ্ঠান আজ শহরের প্রাণকেন্দ্রে বায়োজিদ বোস্তামির আরিফিন নগরে দৃষ্টি নন্দন অবকাঠামো মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে  বিশাল স্থায়ী ক্যাম্পাসে পাঠ প্রদান করছে। সাদার্ন গর্বিত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ উপাচার্যরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত । প্রকৌশলী অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক। বর্তমানে সাদার্ন ইউনিভার্সিটিরই উপাচার্য ।

বিশ্ববিদ্যালয় সার্বিক দিক নির্দ্দেশনা প্রদান-এর জন্য বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তাদের নিয়ে গঠিত সাদার্ন ইউনির্ভার্সিটি ট্রাস্ট। বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় সার্বিক দিক নির্দ্দেশনা প্রদান এবং এর পরিচালনায় অন্তরাসমূহ দূর করার জন্য ট্রাস্ট কাজ করে থাকে। বিশিষ্ঠ শিল্পপতি আলহাজ খালিলুর রহমান সাদার্ন ইউনির্ভার্সিটি ট্রাস্ট-এর বর্তমান সভাপতি।

প্রতিষ্ঠার সূচনা লগ্নথেকেই চেতনায় ছিল কি ভাবে চট্রগ্রামে সুদক্ষ মানব সম্পদ তৈরীর লক্ষে উন্নত দেশের মত উন্নত মানের শিক্ষা সহজে প্রদান করা যায়। সাদার্ন ইউনিভার্সিটি ই সর্ব প্রথম বৎসরে তিনটি সেমিস্টারের মাধ্যমে আমেরিকার আদলে ১৯৯৮ সালে চট্রগ্রামে শিক্ষা প্রদান শুরূ করে। সাদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর সার্বিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে বেশ কিছু স্বকীয় বৈশিষ্ঠ্য সৃষ্টি করেছে। দক্ষতা, জবাবদিহিতা, ন্যায় বিচার, সহমর্মীতা এবং উদ্দেশ্য অর্জনে সম্মীলিত প্রয়াসের মাধ্যমে এ বিশ্ববিদ্যালয় এক অনুপম সংগঠনিক সংস্কৃতি সৃষ্টি করেছে। এ বিশ্ববিদ্যালয় শুধুমাত্র উন্নতমানের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে দায়িত্ব সম্পন্ন করছেনা, সামাজিক দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করছে। এর আইনী পরামর্শ কেন্দ্র, বি.এন.সি.সি.(সেনা বাহিনী) ইউনিট, বিজনেস এন্ড সোসাইটি ফোরাম , ক্যরিয়ার প্লানিং সেন্টার, কার্যক্রমগুলো সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি এবং সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্তর্পূণ ভূমিকা রাখছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ক্লাব কার্যক্রম রয়েছে। এগুলোর বিভিন্ন শিক্ষা-সহায়ক কর্মসূচি ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতিভা বিকাশ এবং তাদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলী সৃষ্টিতে সহায়তা করছে। গবেষণা ও প্রকাশনাকে গুরুত্তর্পূণ দিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান সৃষ্টিতে ও অবদান রাখছে। সাদার্ন ইউনির্ভাসিটিতে একটি অন্তরঙ্গ শিক্ষা সহায়ক পরিবেশ বিদ্যমান যেখানে শিক্ষার্থীরা শ্রেণীকক্ষের বাইরেও তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষকদের পরামর্শমূলক সহায়তা গ্রহণ করতে পারে। এ বিশ্ববিদ্যালয় সকল বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান ছাড়াও যোগাযোগ দক্ষতা এবং কম্পিউটার পরিচালন দক্ষতা সৃষ্টিতে সবিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। নিয়মিত সেমিনার, কর্মশালা , তরূণ উদ্যোক্তা তৈরী এবং আলোচনা সভার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশে এ বিশ্ববিদ্যালয় সর্বদা সচেষ্ট।

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের দ্বারা মূল্যায়িত হয়ে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয় এর স্নাতকদের মধ্যে আধুনিক জ্ঞান বিষয় ভিত্তিক কারিগরী দক্ষতা এবং যোগাযোগ পারদর্শিতা সৃষ্টি করতে পারলেই তারা চাক্রীর বাজারে গ্রহণযোগ্যতা পেয়ে থাকে। সাদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ হতে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী ছাত্র-ছাত্রীরা ভাল পদ মর্যাদার সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন চাক্রীতে আসীন হয়েছে। বর্তমানে দেশের অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয় হতে ডিগ্রি নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা চাক্রীর বাজারে প্রবেশ করছে। সাদার্ন ইউনিভার্সিটির স্নাতকরা তাদের সাথে প্রতিযোগীতায় অবতীর্ণ হয়ে চাক্রীর সুযোগ পাচ্ছে। এটি নি:সন্দেহে সাউদার্ণের শিক্ষার মানের অনন্যতার সুষ্পষ্ট পরিচায়ক। সাদার্ন ইউনির্ভাসিটি হতে ইতিমধ্যে প্রায় ৬,০০০ শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষা কার্যক্রম শেষ করেছে। তাদের মধ্যে অধিকাংশই সরকারী ও বেসরকারী খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষা দিয়ে চাকুরী পেয়েছে। নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো হতে এসব সাদার্ন-এর গুণগত মান সম্পর্কে ভাল রিপোর্ট পাওয়া যায়। বস্তুতঃ সাদার্ন ইউনির্ভাসিটি যে পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে তাতে শিক্ষার্থীরা দক্ষ মানব সম্পদ হিসেবে গড়ে ওঠাই স্বাভাবিক। আমরা জানি, বর্তমানে বিশ্বায়নের যুগে বিশ্ব পরিমন্ডলে প্রতিযোগিতায় সক্ষম মানব সম্পদ তৈরীতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কাজ করতে হবে। সাদার্ন সে মানে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থায় বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংযোজনকে উচ্চ শিক্ষার প্রসারে একটি যুগান্তকারী সরকারী সিদ্ধান্ত। দেশের উচ্চ শিক্ষার ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ এ দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পক্ষে সম্ভব না হওয়ায় উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী সামর্থ্যবান শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ বিদেশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এতে একদিকে যেমন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি হয়, অন্যদিকে অনেক প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের পক্ষে সুযোগের অভাবে উচ্চ শিক্ষায় অংশ গ্রহণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ অবস্থা হতে উত্তরণের জন্যই মান সম্মত বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা প্রবর্তনের দাবী ওঠে, যার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ১৯৯২ সালে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাশ হয়। এদেশের ১০৭ টি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় চার লক্ষ শিক্ষার্থী ব্যাচেলর ও মাস্টার্স কার্যক্রমে পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছে। আগামি দিনে সরকারের পৃষ্টপোষকতা ও সহায়তামূলক ভূমিকা পেলে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ দেশের উচ্চ শিক্ষায় কাংখিত অবদান রাখতে পারবে ।

সাদার্ন ইউনির্ভার্সিটিকে একটি আন্তর্জাতিক মানের ব্যতিক্রমধর্মী বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলাই বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্ট-এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার লক্ষ্য। বাস্তবমূখী, সময় উপোযুগী আধূনিক শিক্ষা দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের গড়ে তুলে যাতে তারা বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্চ মোকাবেলার সক্ষমতা অর্জন করে। আগামী দিনগুলোতে সাদার্ন ইউনির্ভার্সিটি দেশের চাহিদার আলোকে বিজ্ঞান ভিত্তিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স¤প্রসারণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে আধূনিক শিক্ষা প্রদানে সহায়ক যাবতীয় অবকাঠামোগত সুবিধা সৃষ্টির পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে এবং আগামী দিনে এ প্রয়াস আরো জোরদার হবে।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যেক্তাদের লালিত স্বপ্ন হলো বাংলাদেশের একটি শীর্ষমানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সাদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা। এ স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবাই দৃঢ় প্রত্যয় ও উন্নত মনোবল নিয়ে আন্তরিকতার সাথে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে। আমাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা হলো উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে একটি বিশিষ্ট স্থান অধিকার করা। বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য দক্ষ মানব সম্পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষাকে সম্প্রসারণের প্রয়াসে শিল্পের চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ পেশাজীবি গড়ে তোলা।