টোকিও অলিম্পিকস: বাংলাদেশ থেকে কোন ইভেন্টে কারা খেলবেন

0
242

টোকিও অলিম্পিকস: বাংলাদেশ থেকে কোন ইভেন্টে কারা খেলবেন

দখিনা: অতীতের যে কোনো অলিম্পিক বা যে কোনো ক্রীড়া প্রতিযোগিতার চেয়ে এবারে জাপানের এই অলিম্পিক নানা দিক থেকে অনেকটাই আলাদা। প্যানডেমিকের কারণে অলিম্পিকস এক বছর পিছিয়েছে। ফলে ২০৭টি দেশের ১১,৩০০ অ্যাথলেট প্রশিক্ষণ এবং অনুশীলনের জন্য বাড়তি এক বছর সময় পেয়েছেন।

টোকিও অলিম্পিক গেমসের আগে বাংলাদেশে অলিম্পিক বলতেই বলা হতো কেবলই অংশগ্রহন, অনেক অ্যাথলিট আছেন যারা দেশে ফিরে বিদেশের অন্য অ্যাথলিটদের সাথে কাটানো মুহূর্তকেই বড় করে দেখেন, দেশ ছাড়ার আগেও সাক্ষাৎকারে অলিম্পিক গেমসে যাওয়া, অলিম্পিকস ভিলেজে থাকার আনন্দটাই মুখ্য থাকে।

আজ দেশ থেকে একটা বড় বহর অলিম্পিক গেমসে অংশ গ্রহন এবং কিছু স্মরণীয় মুহূর্ত ধরে রাখা কম কথা নয়। বাংলাদেশের তীরন্দাজ রোমান সানা টোকিও অলিম্পিকসে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। বাংলাদেশের গলফার সিদ্দিকুর রহমানের পর রোমান দ্বিতীয় অ্যাথলিট হিসেবে সরাসরি অলিম্পিকসে খেলতে গেছেন।

২৩শে জুলাই থেকে জাপানের টোকিওতে শুরু হওয়া অলিম্পিক গেমসে ছয়জন বাংলাদেশর অ্যাথলিট বিভিন্ন ইভেন্টের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে ধাপে ধাপে বাংলাদেশ থেকে জাপানে যাবে অ্যাথলেটদের দল। টোকিওতে অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পতাকা বহন করবেন সাঁতারু আরিফুল ইসলাম।

আব্দুল্লাহ হেল বাকি: ১০মিটার এয়ার রাইফেলের পুরুষ বিভাগে অংশ নেবেন আব্দুল্লাহ হেল বাকি। বাংলাদেশের এই প্রজন্মের অন্যতম সেরা শুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকি এর আগে রিও অলিম্পিকে অংশ নিয়েছেন। ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে বাকি বাছাইপর্বে ২৫তম হয়েছিলেন ।রিও ডি জেনিরোর অলিম্পিক রেঞ্জে মোট ৬৫৪ পয়েন্টের মধ্যে প্রতিযোগিতায় বাকির স্কোর ছিল ৬২১.২। ২০১৪ সালে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে এবং ২০১৮ সালে গোল্ডকোস্টে কমনওয়েলথ গেমসে রৌপ্য জিতেছিলেন বাকি।সেবার বাকির পয়েন্ট ছিল ২৪৪.৭।অলিম্পিক আয়োজকদের বিশেষ বিবেচনায় তিনি যাচ্ছেন টোকিও।তিনি করোনাভাইরাস মহামারি শুরু হওয়ার পর অনলাইন আন্তর্জাতিক শুটিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দুটি ব্রোঞ্জ জেতেন ২০২০ সালে।১০ মিটার এয়ার রাইফেলে বিশ্ব রেকর্ড ২৫২.৮।

জুনায়না আহমেদ: নারীদের ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইল সাঁতারে অংশ নেবেন জুনায়না আহমেদ। সাঁতারু জুনায়না আহমেদ ২০১৯ সালে বিশ্ব সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়েছিলেন বাংলাদেশের হয়ে। এর আগে বাংলাদেশের জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতাতেও পদক জিতেছেন ।জুনায়নার জন্ম ও বেড়ে ওঠা যুক্তরাজ্যে। লন্ডনেই পড়ালেখা এবং সাঁতার শেখা। ২০১৭ সালে জুনায়না প্রথম বাংলাদেশের কোন প্রতিযোগিতায় সাঁতার কেটে জয় পান। এবারে তিনি ৫০ মিটার ফ্রি স্টাইলে বাংলাদেশের হয়ে টোকিও অলিম্পিক গেমসে অংশ নেবেন।দক্ষিণ কোরিয়ার গুয়াংজুতে জুনায়না ৩৩ জনের মধ্যে হয়েছিলেন ৩২তম। তিনি সময় নেন ২ মিনিট ৩৪.৯৫ সেকেন্ড । এর আগের জাতীয় আসরে হ্যান্ড টাইমিংয়ে এই সাঁতারু ২ মিনিট ৩৪.১৪ সেকেন্ড সময় নিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন ।

আরিফুল ইসলাম: টোকিও অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশের হয়ে যার হাতে থাকবে পতাকা। বাংলাদেশের জাতীয় পর্যায়ের সফল সাঁতারু আরিফুল ইসলাম। পুরুষদের ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইল সাঁতারে অংশ নেবেন আরিফুল ইসলাম। ১০০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকে আরিফুল ইসলাম ৮৭ জনের মধ্যে ৭৮তম হয়েছিলেন বিশ্ব সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপে।তবে ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইলে সাঁতারের বিশ্বরেকর্ড ২০.৯১ সেকেন্ড।

প্রায় দুই বছর জুনায়না ও আরিফুল ফ্রান্সে প্রস্তুতি নিয়েছেন । সাঁতারের ওপর বৃত্তি পেয়ে এই দুজন সেখানকার অনুশীলন করার সুযোগ পান । তবে ২০১৯ সালের বিশ্ব সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপে জুনায়না কিংবা আরিফুল কেউই তেমন ভালো করতে পারেননি।

জহির রায়হান: অ্যাথলেটিক্সের পুরুষ বিভাগের ৪০০ মিটার দৌড়ে অংশ নেবেন মোহাম্মদ জহির রায়হান।গত বছর দুয়েক ধরে বাংলাদেশের ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে ভালো পারফর্ম করছেন জহির রায়হান।বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এই অ্যাথলিট ৩৩ বছর পুরোনো রেকর্ড ভেঙেছেন জাতীয় অ্যাথলেটিক্সে। তবে এটা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মিলিয়েই ৪০০ মিটারে বাংলাদেশি যে কোন দৌড়বিদের সেরা টাইমিং।ইলেক্ট্রনিক টাইমিংয়ে ২০১৯ সালে ৪০০ মিটার পার করতে ৪৬ দশমিক ৮৬ সেকেন্ড সময় নেন জহির।দক্ষিণ কোরিয়ার সৌলে ১৯৮৬ সালের এশিয়ান গেমসের ৪০০ মিটারে মিলজার হোসেন ৪৭ দশমিক ৫৫ সেকেন্ড সময় নিয়েছিলেন, যা বাংলাদেশি অ্যাথলেটদের মধ্যে দ্রুততম ছিল বহুদিন।১৯৯৮ সালে ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ গেমসে ১০০ মিটারে আব্দুল্লাহ হেল কাফি সেমিফাইনালে উঠেছেন, তারপর ২০১৭ সালে জহির রায়হান অনুর্ধ্ব ১৮ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেন।৪০০ মিটার স্প্রিন্টে বিশ্ব রেকর্ড ওয়েড ফন নিকার্কের। দক্ষিণ আফ্রিকার এই অলিম্পিকস পদকধারী দৌড়বিদ ৪৩.০৩ সেকেন্ড সময় নিয়েছিলেন।

রোমান সানা ও দিয়া সিদ্দিকী: মূলত আর্চারিতেই বাংলাদেশের অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন এবারে একটা পদকের আশা করছে। তাদের ঘিরে বাংলাদেশ অ্যালিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন এবারের স্লোগান ঠিক করেছে- নতুন স্বপ্নে অলিম্পিক যাত্রা। এখন পর্যন্ত আর্চারির ছয়টি বিশ্বকাপে খেলা রোমান সানা বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ে আর্চারদের সামগ্রিক র‍্যাংকিংয়ে মধ্যে ২৫তম অবস্থানে আছেন। আর্চারির রিকাভ ইভেন্টে রোমান সানা বিশ্বের সেরাদের একজন। মে মাসের তালিকা অনুযায়ীও এই ইভেন্টে রোমান বিশ্ব র‍্যাংকিয়ের ১০ নম্বরে ছিলেন।রোমান সানার প্রথম অলিম্পিকস যাত্রা এটা, রিকার্ভ ইভেন্টে বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ের দশম স্থানে আছেন সানা। ২০১৯ সালে নেদারল্যান্ডসে ওয়ার্ল্ড আর্চারির রিকার্ভ ইভেন্টে জিতেছেন ব্রোঞ্জ। এবারে ২০২১ সালের মে মাসে সুইজারল্যান্ডে দিয়া সিদ্দিকীর সাথে ওয়ার্ল্ড স্টেজ-২ তে রোমান সানা, দ্বৈত ক্যাটাগরিতে রুপা জেতেন। তাই বলা হচ্ছে, আর্চারিতে এবার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের প্রথম অলিম্পিক পদক জয়ের।