মুনিয়ার মৃত্যু: পুলিশ প্রতিবেদনে সায়েম সোবহানকে অব্যাহতি

0
383

মুনিয়ার মৃত্যু: পুলিশ প্রতিবেদনে সায়েম সোবহানকে অব্যাহতি

উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী মুনিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগের মামলা থেকে বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহানকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে পুলিশ। তারা এ মৃত্যুতে সায়েম সোবহানের কোনো সংশ্লিষ্টতার তথ্য-প্রমাণ পায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রায় তিন মাস তদন্ত করে পুলিশ ২২ জুলাই ২০২১ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে চূড়ান্ত এ প্রতিবেদন দাখিল করেছে ।পুলিশের দেয়া ওই প্রতিবেদনের ওপর ২৯ জুলাই শুনানির দিন ধার্য করেন আদালত। ওইদিন আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন চূড়ান্ত এই প্রতিবেদন গ্রহণ করবেন কিনা।

মুনিয়া আত্মহত্যা করেছেন না তাকে হত্যা করা হয়েছে এ নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রয়েছে। একদিকে মুনিয়ার ভাই এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেছেন। অন্যদিকে মুনিয়ার বোন একটি আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করেছেন গুলশান থানায়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে মুনিয়ার মোবাইল কথোপতন ফাঁশ হওয়ার কারনে সায়েম সোবহানের নাম উঠে আসে।

গত ২৬ এপ্রিল রাতে গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে ঢাকার একটি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে গুলশান থানায় মামলা করেন মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহাদ। মামলার একমাত্র আসামি করা হয়েছিল বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরকে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মোসারাত জাহান মুনিয়া (২১) মিরপুর ক্যান্টনম্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। দুই বছর আগে মামলার আসামির সাথে মোসারাতের পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর থেকে তারা বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় দেখা করতেন এবং সব সময় মোবাইলে কথা বলতেন। আসামির সাথে মুনিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

দুই বছর আগে মুনিয়াকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে রাজধানীর বনানীতে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন আসামি। সেখানে দুজনে বসবাস করতে শুরু করেন। এক বছর পরই আসামির পরিবার এক নারীর মাধ্যমে তাদের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারে। পরে আসামির মা মুনিয়াকে ডেকে ভয়ভীতি দেখান এবং তাকে ঢাকা থেকে চলে যেতে বলেন। পরে আসামি মুনিয়াকে তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায় পাঠিয়ে দেন এবং পরে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দেন।

এরপর গত ১ মার্চ মুনিয়াকে সাথে নিয়ে আবারো বাসা ভাড়া নেন আসামি। এবার গুলশানে ওঠেন তারা। মাঝে মাঝেই ওই ফ্ল্যাটে যাতায়াত করতেন আসামি। আসামি মুনিয়াকে বিয়ে করে বিদেশে স্থায়ী হওয়ার আশ্বাস দেন।

এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি ওই বাসার মালিকের বাসায় ইফতার করেন মুনিয়া। পরে ছবিটি ফেসবুকে শেয়ার করেন। এ নিয়ে দুজনের মাঝে মনোমলিন্য হয়। আসামি মুনিয়াকে কুমিল্লায় চলে যেতে বলেন। আসামির মা জানতে পারলে মুনিয়াকে মেরে ফেলবেন।

২৫ এপ্রিল মুনিয়া কান্না করে বাদিকে বলেন, আসামি তাকে বিয়ে করবে না, শুধু ভোগ করেছে। আসামি তাকে ধোঁকা দিয়েছে। যেকোনো সময় তার বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

২৬ এপ্রিল বাদি তার আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় রওনা হন। গুলশানের বাসায় পৌঁছে দরজা ভেতর থেকে লাগানো দেখতে পান। মিস্ত্রি এনে তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে শোয়ার ঘরে সিলিংয়ের সাথে মুনিয়ার ঝুলন্ত লাশ দেখেন। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।

তবে এই তদন্তের ক্ষেত্রে অপরাধবিজ্ঞানী এবং আইনজ্ঞরা মনে করছেন যে, দুই-তিনটি  তথ্যেই এই মৃত্যুর জট, রহস্য খুলে দিতে পারে। (১)সংশ্লিষ্টদের সকলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট; (২)সিসিটিভির ফুটেজ এবং (৩) সংশ্লিষ্টদের কল লিস্ট খতিয়ে দেখা  ।

মুনিয়া পৃথিবীতে নাই , জানা যাবে না হয়তোবা তার মৃত্যুর প্রকৃত কারন । তবে হত্যাকাণ্ড বা আত্মহত্যার প্ররোচনার যাই হউক না কেন এমৃত্যু কারো কাম্য নয় । যে বা যারাই ঘঠিয়েছে তারা কি আদৌ শান্তিতে থাকতে পারবেন । আইনের শাসনে বিবিধ যুক্তি-তর্কে হয়তো নির্দোষ প্রমানিত হবে। কিন্তু বিবেকের কাছে কি নির্দোষ প্রমানিত হবে !!