সাদার্ন  ইউনির্ভাসিটির ২য় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত

0
50
 কেবল সার্টিফিকেট দেখে এখন আর চাকরি দিতে আগ্রহী নন: শিক্ষা উপমন্ত্রী 

বায়েজিদ থানাধীন আরেফিন নগরে সাউদার্ন  ইউনির্ভাসিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসে রোববার সকালে ২য় সমাবর্তন সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করেন। সমাবর্তন বক্তা ছিলেন বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ। অন্যান্যের মাঝে সাউদার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হক, ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা,  পদকপ্রাপ্ত দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, পিএইচপি গ্রুপের চেয়ারম্যান সুফি মিজানুর রহমান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য , উপ-উপাচার্য , মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য , ইউ এস টি সির উপাচার্য , বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য উপস্থিত ছিলেন।

২য় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, কোনো কর্মদাতা কেবল সার্টিফিকেট দেখে এখন আর চাকরি দিতে আগ্রহী নন। সার্টিফিকেট একজন শিক্ষার্থীর কেবল স্বীকৃতি। কিন্তু আদৌ দক্ষ কিনা, সেটা নিজেকে উপলব্ধি করতে হবে। উচ্চশিক্ষা ছাড়াও পৃথিবীতে অনেক বিজ্ঞানী ছিলেন। তাই উচ্চশিক্ষা নিলেই যে কর্মসংস্থান হবে, এই মানসিকতা থেকে সবাইকে বেরিয়ে আসতে হবে।

স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষা সমাপন করা মোট ৭ হাজার ৮৫৩ জন শিক্ষার্থীকে এই সমাবর্তনে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এদের মধ্যে কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ১০ জনকে চ্যান্সেলর অনার রোল অ্যাওয়ার্ড, ৩৯ জনকে ভাইস চ্যান্সেলর অনার রোল অ্যাওয়ার্ড, ৩৮ জনকে ডিন অনার রোল অ্যাওয়ার্ড এবং ৯ জনকে গ্রাজুয়েটে একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়।
সমাবর্তন উপলক্ষে সকাল থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হতে থাকেন সাবেক শিক্ষার্থীরা। পুরনো সহপাঠীদের কাছে পেয়ে খুনসুঁটিতে মেতে উঠতে দেখা যায় তাদের। অনেককে আবার সেলফি ও ছবি তুলতে ব্যস্ত দেখা যায়। শিক্ষা জীবন শেষে সনদ হাতে নেয়ার দিনটিকে স্মৃতিতে ধরে রাখাই উদ্দেশ্য যেন। শরীরে গাউন আর হাতে সনদ। ঘোষণা আসা মাত্রই মাথার টুপি শূন্যে উড়িয়ে দেয়া। মুহূর্তেই যত ক্যামেরার ক্লিক। আনন্দে উদ্বেলিত শিক্ষার্থীরা অনিন্দ্য সুন্দর এ দৃশ্যের অবতারণা করেছে।

অনুষ্ঠানে সদ্য গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, চাকরি আমাদের কাছে আসবে না। আমাদের কর্মদক্ষতার পরিচয় দিয়েই চাকরি নিতে হবে। তাই বিভিন্ন বিষয়ে নিজেকে দক্ষ করে তুলতে হবে। আমাদের অনেক ডিগ্রিধারী দু’কলম লিখতে পারে না। দু’কলম লিখতে দিলে কলম ভেঙে যায়। প্রায়োগিক দক্ষতার ক্ষেত্রে আমাদের ঘাটতি আছে। সেটাই হচ্ছে বাস্তবতা।
কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি থেকে দেশ এখন শিল্পায়নের দিকে যাচ্ছে মন্তব্য করে উপমন্ত্রী বলেন, এ শিল্পনির্ভর অর্থনীতিতে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে বিদেশি দক্ষ জনশক্তির পিছনে। অর্থাৎ বিদেশিরা প্রতি বছর বিশাল অংকের এই অর্থ নিয়ে যাচ্ছেন। পরিতাপের বিষয়, আমাদের দেশের গ্রাজুয়েটরা এ ধরনের পদে সুযোগ পাচ্ছে না বা যেতে পারছে না। এর কারণ দক্ষ জনশক্তির অভাব। গ্রাজুয়েট আছে। কিন্তু দক্ষতা নেই। তাই আমাদের আত্ম সমালোচনা ও আত্ম উপলব্দি করতে হবে। সাউদার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্ট্রিরা যারা আছেন, তারা অত্যন্ত প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তারা কিন্তু  চাকরি দাতা। তারা কেন বিদেশ থেকে দক্ষ ম্যানেজার, দক্ষ টেকনিশিয়ান, দক্ষ ব্যবস্থাপক আনছেন। আমাদের সন্তানেরা কেন এসব জায়গায় কাজ করতে পারছেন না? এটাই একজন শিক্ষার্থী হিসেবে, একজন গ্রাজুয়েট হিসেবে উপলব্দি করতে হবে। কারণ কোনো কর্মদাতা সার্টিফিকেট দেখে এখন আর কর্ম দিতে আগ্রহী নন। সার্টিফিকেট একজন শিক্ষার্থীর শুধু একটা স্বীকৃতি। কিন্তু আপনি আদৌ দক্ষ কিনা, সেটা নিজেকে উপলব্দি করতে হবে।

নওফেল বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ৩০ লাখ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় আছে। সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ৫০ লাখ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় আছে। কিন্তু উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিতদের কর্ম সৃষ্টি হচ্ছে কিনা? সেটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও সৃষ্টি হয় না। সুতরাং আমার কী গতি হবে। আমার কর্মসংস্থান কোথায় হবে? আর আমাদের দেশে বিএ পাস না করলে বিয়ে হয় না। সার্টিফিকেট নেবেন, পাশাপাশি অবশ্যই কাজের দক্ষতা অর্জন করতে হবে। নতুন করে শেখার মানসিকতা থাকতে হবে। জীবন থেকে শিখতে হবে। লাইফ লং লার্নিংয়ের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশে ৬ লাখ ফ্রিলেন্সার তৈরি হয়েছে। আমরা উন্নত সার্টিফিকেটধারী বেকারে পরিণত হতে চাই না। আমরা নিজেদের দক্ষতার পরিচয় দিতে চাই। নিজেকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলে হবে। সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা তাদের অর্জিত জ্ঞান, মেধা ও সৃজনশীলতাকে দেশপ্রেম, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজে লাগিয়ে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়তে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

সমাবর্তন বক্তা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেন, স্নাতকবৃন্দ, কর্মমুখর পৃথিবী তোমাদের ডাকছে, সামনে অনেক কাজ, এই ঘনবসতিপূর্ণ দেশের উন্নয়নে সামান্য প্রাকৃতিক সম্পদ হলো আমাদের পুঁজি। কিন্তু আমাদের রয়েছে ১৬ কোটি অসামান্য সম্পদ- মস্তিষ্ক। সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এই মস্তিষ্ককে শাণিত করার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। আমি বিশ্বাস করি তোমরা সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছো। তোমাদের অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা দিয়ে এখন আমাদের সীমিত সম্পদে জাপান কিংবা কোরিয়ার মতো মূল্যসংযোজন করতে হবে। তাহলেই আমরা সম্পদশালী দেশে পরিণত হবো। মানব সম্পদের চেয়ে মূল্যবান কোনো সম্পদ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সদ্য গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান বলেন, কর্মজীবনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জিত জ্ঞান আপনাদের সর্বাত্মক কাজে লাগবে। আজ আপনার জীবনে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হতে যাচ্ছে। একই সাথে আরও একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। যে সুন্দর আগামীর স্বপ্ন আপনারা আজ এখানে বুনে গেলেন সে স্বপ্ন আপনাদের হাতে একদিন ধরা দেবে। এই সমাবর্তন সাউদার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হক বলেন, সমাবর্তন নিঃসন্দেহে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যই অত্যন্ত মর্যাদা, সম্মান ও গৌরবের। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, আমাদের প্রাণপ্রিয় শিক্ষার্থীরা আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে কর্মযজ্ঞে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখতে যাচ্ছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তারা নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আদর্শ ও মূল্যবোধ অন্তরে ধারণ করে বিশ্ব নাগরিক হিসেবে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাবে এবং পরিবারের স্বপ্ন পূরণ করবে।

সংস্কৃতি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনব্যপি অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।