ফিলিপাইন্সের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র

0
56

ফিলিপাইন্সের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র

৩০ জুন, ২০২২ বৃহস্পতিবার ফিলিপাইনের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র (বংবং)। তিনি দেশটির সাবেক স্বৈরশাসক মার্কোস সিনিয়রের পুত্র৷ বংবংয়ের বিজয়ে মার্কোস পরিবারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ফিরে এসেছে। এদিকে, মার্কোস জুনিয়রের শপথ অনুষ্ঠানটিকে এশিয়ার সবেচেয়ে বিখ্যাত রাজনৈতিক পরিবারগুলোর একটির দীর্ঘদিন পর রাজনীতিতে ফেরার উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের বাবা ১৯৬৫ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়ে শাসন করেছেন৷ এরমধ্যে ১৯৭২ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত সামরিক আইনের মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করেন। ১৯৮৬ সালে চারদিনের শান্তিপূর্ণ জনশক্তি আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নিজ দপ্তর ত্যাগে বাধ্য হন তিনি৷ নির্বাসিত অবস্থায় ১৯৮৯ সালে মারা যান ফার্দিনান্দ মার্কোস সিনিয়র৷

১৯৯১ সালে মার্কোসের পরিবার ফিলিপাইন্সে আসার অনুমতি পায়৷ মার্কোস জুনিয়র ও তার মা ইমেল্ডা এসময় দেশটির রাজনীতিতে যুক্ত হন৷ চারবার দেশটির কংগ্রেসে নির্বাচিত হন ইমেলডা মার্কোস৷ পারিবারিক রাজনীতির শক্তিশালী ভিত্তি ইলকস নর্টে প্রদেশে ২১ বছর গভর্নরের দায়িত্ব পালন করেন মার্কোস জুনিয়র৷ ২০১৬ সালে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে লড়াই করে পরাজিত হন তিনি৷

মার্কোস জুনিয়রের ক্ষমতায় আসার পেছনে সামাজিক মাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা৷ কয়েক যুগ ধরে মার্কোস পরিবার ইউটিউব, ফেসবুকে তাদের ইতিবাচক ইমেজ গড়তে ক্যাম্পেইন চালিয়ে যায়৷ মার্কোস সিনিয়রের শাসনামলকে অপরাধ দমন ও সমৃদ্ধির স্বর্ণযুগ হিসেবে তুলে ধরে সামাজিক মাধ্যমে নানা কনটেন্ট ছড়িয়ে দেয়া হয়৷ তবে এসব প্রচারের তথ্য ও ভিডিওর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন আছে৷

দীর্ঘসময় ধরে সামাজিক মাধ্যমের প্রচারের মধ্য দিয়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয়তা পান মার্কোস জুনিয়র, যারা তার বাবার শাসনামল প্রত্যক্ষ করেননি৷ গত মে মাসের নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হন মার্কোস জুনিয়র৷ তিনি পান তিন কোটির উপরে ভোট, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট লেনি রবরেডো পেয়েছেন এক কোটি ৪০ লাখ৷

উদ্বোধনী ভাষণে মার্কোস জুনিয়র তার প্রয়াত পিতার শাসনামলকে সমর্থন করে বক্তব্য রাখেন৷ তিনি দাবি করেন, তার বাবা এমন অনেক কাজ করেছেন যেগুলো দেশটি স্বাধীন হওয়ার পর থেকে আর হয়নি৷ তিনি সেই পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করবেন বলে জানান৷

৬৪ বছর বয়সি মার্কোস তার নীতি নিয়ে বিস্তারিত কিছু তুলে ধরেননি৷ কিন্তু এক্ষেত্রে তিনি পূর্বসূরী রদরিগো দুতার্তের মতো ক্ষমতার নিষ্ঠুর ব্যবহার অব্যাহত রাখবেন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা৷ এরইমধ্যে তার সরকারের নেয়া বিভিন্ন প্রকল্পের প্রশংসাও করেছেন মার্কোস৷ তার ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও রয়েছেন দুর্তার্তের কন্যা সারা৷ অনেকের বিশ্বাস বাবার বিতর্কিত রাজনৈতিক ইতিহাসই পুনর্লিখন করতে যাচ্ছেন মার্কোস৷