চামড়া কিনতে ঋণ দিচ্ছে ব্যাংকগুলো

0
34

চামড়া কিনতে ঋণ দিচ্ছে ব্যাংকগুলো

আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া কিনতে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক মিলে ব্যবসায়ীদের ৪৩৩ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এবার কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে ট্যানারি মালিকরা ৪০০ কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ পাবেন।  এসব ঋণের মধ্যে শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংক (সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী) দেবে ২৫৮ কোটি টাকা। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১২০ কোটি টাকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জনতা ব্যাংক লিমিটেড। এসব ঋণের অধিকাংশই বিতরণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। গত বছর একই পরিমাণ ঋণ বিতরণের প্রস্তুতি থাকলেও শেষ পর্যন্ত জনতা ব্যাংক বিতরণ করে ৪০ কোটি টাকা।

এ বছর রূপালী ব্যাংক ৩০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে। অগ্রণী ব্যাংক দিচ্ছে ৮৩ কোটি টাকা এবং সোনালী ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা ২৫ কোটি টাকা। এখন মূলত রাষ্ট্রায়াত্ত চার ব্যাংকই চামড়া কেনায় বেশি ঋণ দিয়ে থাকে। এর বাইরে বেসরকারি কয়েকটি ব্যাংক ঋণ দিচ্ছে।

২০২০ সালে ঈদুল আজহায় রাষ্ট্রায়ত্ত চারটিসহ ৯ বাণিজ্যিক ব্যাংক চামড়া খাতে বরাদ্দ রেখেছিল ৬৪৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এসব লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ঋণ বিতরণ হয়েছিল মাত্র ৬৫ কোটি টাকা। ২০২১ সালেও ৫৮৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও অর্ধেকের কম ঋণ বিতরণ করা হয়েছিল।

এদিকে, চামড়া ব্যবসায়ীদের ঋণ বিতরণ সহজ করতে সম্প্রতি নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চামড়া ব্যবসায়ীরা ঋণ পেতে আগের ঋণ খেলাপি হলে মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে দিয়ে পুনঃতফসিল করতে পারবেন।

ওই নির্দেশনায় বলা হয়, পুনঃতফসিলিকরণ পরবর্তীতে ব্যাংকিং নিয়মাচার অনুসরণপূর্বক তফসিলি ব্যাংকসমূহ ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ঋণগ্রহীতার সক্ষমতা যাচাই সাপেক্ষে ২০২২ সালে কোরবানি করা পশুর কাঁচা চামড়া ক্রয়ের উদ্দেশ্যে ঋণ বিতরণ করতে পারবে। ২০২২ সালে কোরবানি করা পশুর চামড়া ক্রয়ের উদ্দেশ্যে নতুন ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের কম্প্রোমাইজড অ্যামাউন্ট আদায় করা যাবে না।

ব্যবসায়ীদের মতে, দেশের চামড়াশিল্প এখন চীনের কাছে জিম্মি। তারা যে দাম দেয়, তা মেনে নিতে হয়। এরআগে বিভিন্ন দেশের ক্রেতা ছিল। চামড়ার দরদামও হতো। এখন এককভাবে ব্যবসা করছে চীন। তাছাড়া কেমিক্যালের ক্ষেত্রেও সিন্ডিকেট রয়েছে। যাদের বন্ড আছে, তারা চামড়ার ব্যবসা ছেড়ে কেমিক্যালের ব্যবসা করছেন। ইচ্ছামতো কেমিক্যালের দাম নির্ধারণ করছেন। ওয়েট ব্লু করতে চাইলে এখানে ৪৫ ধরনের কেমিক্যালের ব্যবহার হয়।

পূর্ণাঙ্গ চামড়া তৈরি করতে ৯২ প্রকারের কেমিক্যাল চামড়ায় ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এরমধ্যে কিছু কেমিক্যালের দাম চারগুণ পর্যন্ত বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে একটা দাম বাড়লে দেশি ব্যবসায়ীরা আরও দাম বাড়িয়ে দেন। এতে তিনগুণ কেমিক্যালের পেছনে খরচ করতে হয়।