আপিল বিভাগে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের হট্টগোল, বিচারকাজ বন্ধ

0
758

বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলার কারণে দীর্ঘক্ষণ ধরে শুনানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে আছে আপিল বিভাগে। এজলাসে চুপচাপ বসে আছেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের বেঞ্চ। বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে দিয়ে হট্টগোল চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা।
এর আগে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির জন্য আগামী বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন আদালত। আজ (বৃহস্পতিবার) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছেন। সকালে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় আরও সময় চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।
খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত তথ্যের বিষয়ে আদালতের কাছে সময়ে চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আরও সময়ের প্রয়োজন। আরও কিছু পরীক্ষা বাকি রয়েছে। এজন্য সময় আবেদন করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে এটি তৈরি না হওয়ায় তা আজ আদালতে দাখিল করতে পারিনি রাষ্ট্রপক্ষ।

এ সময় প্রধান বিচারপতি এ রিপোর্ট দাখিলের জন্য ১২ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন। তবে খালেদার আইনজীবীরা অবশ্য চান ৭ ডিসেম্বর যেন এ দিন ধার্য করা হয়। ওই সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তাদের কাছে থাকা মেডিকেল রিপোর্ট দাখিল করতে চাইলে, বাধা দেন অ্যাটর্নি জেনারেল। এ সময় কোর্টে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আদালতে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, এই প্রতিবেদনের কোন ভিত্তি নাই।

মেডিক্যাল রিপোর্ট না আসায় এ মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে করা আবেদনের শুনানি পিছিয়ে দিতে চাওয়ায় আপিল বিভাগের এজলাস কক্ষে হট্টগোল শুরু করেন বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা। তবে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এ অবস্থায় বিব্রত হয়ে বিচারপতিরা এজলাস কক্ষ ত্যাগ করে খাস কামরায় চলে যান।
এর আগে আপিল বিভাগ মেডিকেল রিপোর্ট দাখিলের জন‌্য এবং পরবর্তী শুনানির জন‌্য আগামী ১২ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন। এ সময় বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা এ আদেশ মানি না বলে উচ্চস্বরে কথা বলতে থাকেন। তারা ‘শেইম’ ‘শেইম’ বলে হট্টগোল শুরু করলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরাও তাদের বক্তব‌্যের বিরোধীতা করেন। শুরু হয় দু’পক্ষের বাকবিতণ্ডা। এক পর্যায়ে বিচারপতিরা কোনো লিখিত আদেশ না দিয়ে এজলাস কক্ষ ত‌্যাগ করেন।
এদিকে শুনানিকে কেন্দ্র করে জোরদার করা হয় সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সকাল থেকে সুপ্রিম কোর্টের প্রবেশ পথগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়।