বাণিজ্য যুদ্ধের সুফল বাংলাদেশের পোশাক খাতের হাত ছাড়া

0
404

নতুন অর্থ বছরের শুরু থেকেই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রফতানি খাত তৈরি পোশাকের রফতানি প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে কমতে দেখা যাচ্ছে। অথচ চীন-মার্কিন বাণিজ্য যুদ্ধের ফলে পোশাক খাতের যেসব মার্কিন ক্রেতা চীন থেকে পোশাক কিনতেন, তাদের অনেকেই বাংলাদেশমুখী হবেন বলেই মনে করা হচ্ছিলো। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সেটা হয়নি।

চীন-মার্কিন বাণিজ্য যুদ্ধের সুফল বাংলাদেশ কেন নিতে পারলো না? এর কারন, অনেকের ধারনা আর্ন্তজাতিক ব্যবসায় বাংলাদেশীদের অভিজ্ঞতা কম থাকায় সঠিক ভাবে অনেক ব্যবসঅয়ী বুঝে উঠতে পারেন নাই ।

গেলো বছরের জুলাই ২০১৯ থেকেই চীন-মার্কিন বাণিজ্য যুদ্ধ শুরুর পর ধারণা করা হয়েছিলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে মার্কিন ক্রেতারা চীন থেকে পোশাক কিনবেন না। অথবা কমিয়ে দেবেন। আর এতে করে লাভবান হবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত। কিন্তু দেখা যাচ্ছে তা হয়নি। উল্টো বাংলাদেশের সামগ্রিক পোশাক রফতানিতেই নেতিবাচক ধারা দেখা যাচ্ছে। এসময়ের মধ্যে বিশ্বে পোশাক রফতানিতে তৃতীয় স্থানে থাকা ভিয়েতনাম বেশ লাভবান হয়েছে। তাদের পোশাক রফতানি বাড়ায় গেলো বছর দুইয়ে থাকা বাংলাদেশের আরো কাছে চলে আসে দেশটি। আর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশকেও ছাড়িয়ে যায় ভিয়েতনাম। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে বাংলাদেশের রফতানি আয় যেখানে ২শ ৪১ কোটি ডলার। সেখানে একইসময়ে ভিয়েতনামের আয় দ্বিগুণেরও বেশি ৬শ ৪৫ কোটি ডলার। রফতানি কমে যাওয়ার সঠিক কারণ জানা না গেলেও এত নানা জনের নানা মত আছে ।

পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ বলছে, ভিয়েতনাম যে মার্কিন ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে, সেটা মূলত: হচ্ছে চীনা বিনিয়োগের কারণে। বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক বিবিসিকে বলেন,”প্রথমত: মার্কিন ক্রেতারা ভিয়েতনামের পোশাক পছন্দ করছে। আমরা যে ধরণের পোশাক বানাই, সেসব পোশাকের চাহিদা যুক্তরাষ্ট্রে কমেছে। এটা একটা দিক।”

তিনি বলেন, “আরেকটি দিক হচ্ছে, ভিয়েতনামে প্রচুর চীনা বিনিয়োগ আছে। ওদের স্থানীয় উদ্যোক্তা সেভাবে নেই আসলে। ফলে যখন চীনে ব্যবসা কমে গেছে, তারা সেটা পাশেই ভিয়েতনামে নিয়ে এসেছে। এমনও হয়েছে যে, চায়নায় কিছু অংশ করে পরে সেটা ভিয়েতনামে এনে শেষ করেছে। এবং ভিয়েতনাম থেকেই রফতানি করেছে। ভিয়েতনামের ক্যাপাসিটি কম থাকলেও যেহেতু প্রাথমিকভাবে পোশাকের কাজগুলো চায়নায় হচ্ছে, সে কারণেও তারা লাভবান হয়েছে।”

bbc.