ব্রিটেনের প্রিন্স চার্লস, প্রধানমন্ত্রী , স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত

0
593

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রিন্স অব ওয়েলস চার্লস, প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের বড় ছেলে প্রিন্স অব ওয়েলস চার্লস। বুধবার (২৫ মার্চ) স্থানীয় সময় বেলা পৌনে ১১টার দিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি এ তথ্য জানায়। এক বিবৃতিতে জানানো হয়, স্কটল্যান্ডে নিজ বাড়িতে স্বেচ্ছা ইসোলেশনে রয়েছেন ৭১ বছর বয়সী প্রিন্স চার্লস। সঙ্গে রয়েছেন তার স্ত্রী ডাচেস অব কর্নওয়াল ক্যামিলা কিন্তু তার শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া যায়নি।

প্রিন্স চার্লসের পর এবার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে জনসনের দেহে জ্বর এবং কাশিসহ ‘মৃদু উপসর্গ ‘ দেখা দিয়েছে, এবং তিনি স্বেচ্ছা আইসোলেশনে আছেন। সেখানে থেকেই তিনি সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে যাবেন বলে জানান তার মুখপাত্র।

তবে করোনাইরাস সংকট মোকাবিলায় ব্রিটেনের সরকারের প্রয়াসের নেতৃত্ব তিনিই দেবেন বলে বিবৃতিতে বলা হয়। তবে বিবিসি জানায়, প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালনে অক্ষম হবার মতো অসুস্থ হলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক র‍্যাব দায়িত্ব পালন করবেন ।

বৃহস্পতিবার রাতেই মি. জনসনকে সবশেষ প্রকাশ্যে দেখা যায়। বিশ্বের নেতৃস্থানীয় দেশগুলোর নেতাদের মধ্যে তিনিই প্রথম করোনাভাইরাসে সংক্রমণের কথা জানালেন।

প্রধানমন্ত্রীর পর ব্রিটেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রীও সংক্রমিত। মি. জনসনের ঘোষণার দু’ঘণ্টার মাথায় শুক্রবার (২৭ মার্চ) ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক তার ব্যক্তিগত টুইটার একাউন্টে নিজের ভাইরাস সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য জানান। তিনি কোনাভাইরাস সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন বলে পরীক্ষায় ধরা পড়েছে। তিনি জানান, তার দেহেও মৃদু উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। তিনি স্বেচ্ছা-আইসোলেশনে আছেন, এবং বাড়ি থেকে কাজ করবেন।আপাতত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) পর্যন্ত তিনি আইসোলেশনে থাকবেন।ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী একইসঙ্গে যাদের নিজ ঘরে থেকে কাজ করার সুযোগ আছে, তাদের সবাইকে ঘরে অবস্থান করে কাজ করার আহ্বান জানান।

ব্রিটেনে এ পর্যন্ত ১৪ হাজার ৫৭৯ জনেরও বেশি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)সংক্রমণ ধরা পড়েছে এবং ৭৫৯ জন মারা গেছেন। ব্রিটেনের যেসব বিজ্ঞানী করোনাভাইরাস মহামারি নিয়ে গবেষণা করছেন তারা সরকারগুলোকে হুঁশিয়ার করে বলছেন, লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু ঠেকাতে হলে তাদের অতি দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।