হলে হিন্দি সিনেমা প্রদর্শনে একমত

0
94

দেশের প্রেক্ষাগৃহে আমদানি করে হিন্দি সিনেমা প্রদর্শনের পক্ষে সম্মতি দিয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি। শুরু থেকে সংগঠনগুলো হিন্দি সিনেমা প্রদর্শনের ব্যাপারে বিরোধিতা করে আসছিল। ৩০ ডিসেম্বর বুধবার এই তিন সংগঠনের নেতারা এক হয়ে বৈঠকে বসে এই সিদ্ধান্ত নেন। সেসময় উপস্থিত ছিলেন পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রমান গুলজার, সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম খোকন, প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু, সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম, হল মালিক ও প্রদর্শক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি মিয়া আলাউদ্দিন এবং প্রদর্শক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আওয়াল হোসেন উজ্জ্বলসহ সংগঠনগুলোর নেতারা।

বাংলাদেশে সিনেমা সংকট দূর করতে এবং  ও হলগুলোতে দর্শক টানার আলোচনা হচ্ছে বেশ আগে থেকেই। এবার করোনা (কোভিড-১৯) মহামারির কারণে এই সংকট আরও বেড়েছে। এখন এ সংকট কাটাতে দেশের হলগুলোতে বিদেশি সিনেমা চালানোর প্রস্তাব করেছেন হল মালিকরা। ‘করোনার কারণে দেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে সিনেমায় বিনিয়োগ করতে পিছিয়ে যাচ্ছেন প্রযোজকরা। তাই সিনেমা হল খুললেও নতুন সিনেমা সংকটে ভুগছে হলগুলো।সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে চলচ্চিত্রের তিন সংগঠন বিদেশি সিনেমা আমদানি করে হলে চালাতে একমত হয়েছে।

পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার  বলেন, ‘করোনার কারণে সিনেমা নির্মাণ থমকে আছে। ফলে হলে নতুন সিনেমার সঙ্কট। সেজন্য এই আপতকালীন সময়ে হল বাঁচাতে নির্দিষ্ট পরিমাণ হিন্দি সিনেমা প্রদর্শনের অনুমতি দেওয়ার জন্য আমরা প্রাথমিকভাবে মৌখিক সম্মতি জানিয়েছি। তবে তিন সংগঠন তাদের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। ’ তিনি আরও বলেন, ‘হিন্দি সিনেমা প্রদর্শনের ব্যাপারটি লিখিতভাবে চূড়ান্ত হলেও সেটার একটি নীতিমালার প্রস্তাব করবো আমরা। এতে কয়টা সিনেমা মুক্তি পাবে, কোন কোন সময়ে হিন্দি সিনেমা মুক্তি দেওয়া যাবে বা কতদিন পর্যন্ত মুক্তি দেওয়া যাবে- সেসব উল্লেখ থাকবে। ’ গুলজার বৈঠকে বলেন, ‘বিদেশি সিনেমা আমদানি করলেও সবার আগে দেশের নির্মাতা ও দেশের সিনেমাকে প্রাধান্য দিতে হবে। আমরা কেবল দেশের চলচ্চিত্রের বৃহত্তর স্বার্থে বিদেশি সিনেমা আমদানি করে, দেশের চালাতে একমত পোষণ করছি।’

হল মালিক সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি মিয়া আলাউদ্দিন বলেন, ‘সবাই জানেন দেশে বছরে কয়টা সিনেমা নির্মাণ হয়। সংখ্যার বিচারে যে সিনেমাগুলো নির্মাণ হয় তার অনেকগুলো আবার হলে চালানো সিনেমাও না। এ পরিস্থিতিতে বিদেশি ছবি আমদানি করে না চালালে হলগুলো ছবি ও দর্শক সংকটে একে একে বন্ধ হয়ে যাবে। তাই বিদেশি সিনেমা আমদানি করে চালানোর বিষয়ে সুন্দর একটা সিদ্ধান্তে এসেছি আমরা। আশা করি, বিদেশি সিনেমা দেশে মু্ক্তি পেলে হলে দর্শক ফিরবে। কিন্তু পুরনো কোনো সিনেমা আমরা আর আনতে চাই না। আমরা চাই, বলিউড ও কলকাতার সিনেমা সেখানে যেদিন মুক্তি পাবে, আমাদের এখানেও একই দিন তা মুক্তি পাবে।তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে আমাদের দেশেও ভালো ছবি নির্মাণের সংখ্যা বাড়বে।’

দেশীয় নির্মাতা ও প্রযোজক ও সিনেমার স্বার্থে যেন ব্যাঘাত না ঘটে সে দিকে দৃষ্টি দেবে সরকার,’- বলছিলেন প্রযোজক নেতা খোরশেদ আলম খসরু।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু, নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহান, প্রদর্শক সমিতির সাবেক সভাপতি মির্জা আবদুল খালেক, প্রযোজক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম, পরিচালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম খোকন, হল মালিক ও প্রদর্শক সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি মিয়া আলাউদ্দিন এবং প্রদর্শক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আওয়াল হোসেন উজ্জ্বল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here