মেসিকে পরিচয় করিয়ে দিল ফরাসি ক্লাব পিএসজি

0
260

মেসিকে পরিচয় করিয়ে দিল ফরাসি ক্লাব পিএসজি

বার্সেলোনা ছেড়ে ফরাসি ক্লাব পিএসজিতে যোগ দিয়েছেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসি। আগস্ট ১০ মঙ্গলবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্রান্সের ক্লাব প্যারিস সেইন্ট জার্মেইর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার।

স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চুক্তি স্বাক্ষর আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। বাকি ছিল আনুষ্ঠানিকতা। সেটাও সেরে নিল পিএসজি। আনুষ্ঠানিকভাবে লিওনেল মেসিকে নিজেদের খেলোয়াড় হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিল ফরাসি জায়ান্টরা।

১১ আগস্ট বুধবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় পিএসজির ঘরের মাঠ পার্ক দেস প্রিন্সেস মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। সেখানেই মেসিকে পিএসজির খেলোয়াড় হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে তার সঙ্গে হাজির হন পিএসজির কাতারি প্রেসিডেন্ট নাসের আল-খেলাইফি। এসময় মেসিকে একনজর দেখতে স্টেডিয়ামের বাইরে হাজির হন হাজারো পিএসজি সমর্থক।

এর আগে মঙ্গলবার দিনগত রাতে পিএসজির সঙ্গে দুই বছরের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন মেসি। তবে দুই পক্ষ চাইলে চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। পার্ক দেস প্রিন্সেসে প্রতি মৌসুমে তিনি বেতন পাবেন ২৫ মিলিয়ন ইউরো। তবে বোনাস ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা মিলিয়ে তার মোট আয় দাঁড়াবে ৩৫ মিলিয়ন ইউরো।

প্যারিসিয়ানদের হয়ে ৩০ নম্বর জার্সিতে মাঠ মাতাবেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। যদিও শুরুতে প্রিয় বন্ধুর জন্য পিএসজিতে নিজের ’১০’ নম্বর জার্সি ছাড়তে চেয়েছিলেন নেইমার জুনিয়র। কিন্তু মেসি রাজি হননি। তারচেয়ে বরং বার্সায় ক্যারিয়ারের শুরুতে নিজের ৩০ নম্বর জার্সিকেই বেছে নেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। তবে এই জার্সি নম্বর সাধারণত লিগ ওয়ানের গোলরক্ষকদের দেওয়া হয়। তবে মেসির জন্য সেই নিয়মেও বদলে গেল।

এরইমধ্যে মেসির আগমনের সুবিধা ভোগ করতে শুরু করেছে পিএসজি। ক্লাবের জনপ্রিয়তা এতোই বেড়ে গেছে যে, মেসির ৩০ নম্বর জার্সি পিএসজির অনলাইন স্টোরে তোলার ২০ মিনিটের মধ্যেই ৯২ পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১১ হাজার টাকা) দামের সবক’টা জার্সি বিক্রি হয়ে যায়।

পিএসজিতে মেসি সতীর্থ হিসেবে পাচ্ছেন প্রিয় বন্ধু নেইমার, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সতীর্থ আনহেল দি মারিয়া ও লিওনার্দো পারেদেস এবং স্বদেশী কোচ মাওরিসিও পচেত্তিনো। পিএসজিতে যোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেসি হয়ে গেলেন ক্লাবটির সর্বোচ্চ বেতন পাওয়া খেলোয়াড়।

পিএসজির মেসি, নেইমার ও এমবাপ্পে সবচেয়ে বেশি বেতন পান এই ক্লাব থেকে। এর মধ্যে পিএসজি থেকে মেসির বার্ষিক বেতনসহ মোট আয় ৪০ মিলিয়ন ইউরো। নেইমারের বেতন ৩৬ মিলিয়ন, আর ২৫ মিলিয়ন ইউরো বেতন পান কিলিয়ান এমবাপ্পে। এই ক্লাব থেকে তারা তিনজনই সর্বোচ্চ ও প্রথম স্তরে বেতন পান।

রামোস ও ডোনারুম্মা বেতন পান এরপরের ধাপে। পিএসজি থেকে বার্ষিক ২০ মিলিয়ন ইউরো বেতন পান রিয়াল মাদ্রিদ থেকে সদ্য ক্লাবটিতে যোগ দেওয়া রামোস। এরপরই রয়েছে জিয়ানলুইগি ডোনারুম্মা। তার আয় ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ইউরো। মার্কুইনহোস, মার্কো ভেরাত্তি, ডি মারিয়া, কাইলর নাভাস, প্রেসনেল কিম্পেপ্পে এবং মাউরো ইকার্দির আয়ও ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ইউরোর মধ্যে।

জর্জিনিও উইজানালদুম এবং আচারফ হাকিমি বার্ষিক বেতন হিসেবে পান ১০ মিলিয়ন ইউরোরও নিচে। তারা প্রতিবছর পান ৯ দশমিক ৮ মিলিয়ন ইউরো। লিয়েন্ড্রো প্যারেডেস পান ৮ দশমিক ৫ মিলিয়ন ইউরো, অ্যান্ডার হেরেরা পানও পান ৮ দশমিক ৫ মিলিয়ন ইউরো। ৭ দশমিক ৬ মিলিয়ন ইউরো পান জুলিয়ান ড্রাক্সলার এবং ইদ্রিসা গুয়ে পান সাত মিলিয়ন ইউরো।

প্রতিবছর প্রায় পাঁচ মিলিয়ন ইউরো পান আবদু ডায়ালো, রাফিনহা আলকান্তারা, হুয়ান বার্নাত, পাবলো সারাবিয়া, থিলো কেহর এবং লেভিন কুরজাওয়ার। আর সবচেয়ে কম পান কলিন দাগবা। তার আয় এক দশমিক চার মিলিয়ন উইরো।

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ফুটবলারের আপ্যায়নে অবশ্য কমতি রাখছে না ক্লাবটি। ৩৪ বছর বয়সী মেসি সপরিবারে বর্তমানে অবস্থান করছেন প্যারিসের বিলাসবহুল হোটেল লে রয়্যাল মনোসোতে। কাতারভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কাতারা হসপিটালিটির মালিকানাধীন এই পাঁচ তারকাবিশিষ্ট হোটেলটি প্যারিসের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত। ২০১৭ সালে নেইমারও পিএসজিতে নাম লেখানোর সময় অবস্থান করেছিলেন এখানে। বিলাসবহুল এই হোটেলটিতে সর্বনিম্ন রুম ভাড়া ৭০০ পাউন্ড। তবে স্ত্রী আর  সন্তানসহ সেখানে অবস্থানরত মেসির পেছনে প্রতি রাতে সেখানে ব্যয় হচ্ছে ১৭ হাজার পাউন্ড করে! বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় ২০ লাখ টাকা! হোটেলটির অফিসিয়াল ইন্সটাগ্রাম একাউন্টে ইতিমধ্যে মেসির আগমনের একটি ভিডিও পোস্ট করে। এছাড়া মেসির পিএসজির জার্সি ছবিও পোস্ট করে তারা। সেখানে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‘এমন ধরনের প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে পিএসজিতে স্বাগতম জানানোটা আসলেই গৌরবের। ‘মেসির জন্য সেখানে আলাদা বিলাসবহুল সুইমিং পুল, একটি সিনেমা হল, এবং ফ্রেন্স কুজিন সার্ভ করার জন্যে ছয়টি রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। হোটেলটি সুস্বাদু স্টেইকের জন্য বিখ্যাত। যার মূল্যই কিনা ৬৭ পাউন্ড!

প্যারিসের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা হোটেলটি চালু করা হয় ১৯২৮ সালে। তবে ১১ বছর আগে এর কিছু রুম সংস্কার করা হয়। ওয়াল্ট ডিজনি, উইন্সটন চার্চিল, রবার্ট ডি নিরোর মতো সেলেব্রেটিরা এই হোটেলে থেকে গেছেন।